fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বারুদ গর্ভে কেশপুর! উদ্ধার বিশাল পরিমাণ বোমা, নির্বাচনের আগে অশনি সঙ্কেত গ্রাস করছে

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: এক সঙ্গে এত বোমা আগে কখনও উদ্ধার করেছেন কিনা ভাবতে পারছেন না সিআইডি বোম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। রবিবার সকাল দামোদরচকের কয়েকটি ঘরে পুলিশ আর সিআইডি যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়েছে। বোমা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতাই প্লাস্টিকের ৬টি বড় বড় পাত্রে, যাতে ১৫লিটার জল ধরে এমন ডাব্বায় জলে ভিজিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের কনভয়, দমকল এবং সিআইডির দলটি অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রায় ১০কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় নিষ্ক্রিয়করনের জন্য ফাঁকা মাঠের দিকে নিয়ে যায়।দফায় দফায় বোমা গুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়। কেশপুর থানা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে উত্তরের একটি ফাঁকা মাঠে পুকুরের পাশে ফাটানো হয়েছে বোমাগুলি। যার আওয়াজ রীতিমত কেঁপে উঠেছে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর, বিকলচক, টাঙাগেড়া, বিবেকপুর, সরুই, রনপাড়া, দোগাছিয়া সহ তিন থেকে চার কিলোমিটার দুরের গ্রামগুলি।

বৃহস্পতিবার রাতের সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের মাত্র ৩টি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এই বোমা। অভিযুক্তরা কেউ বাড়িতে ছিলনা। পুলিশ এখনও অবধি দু’পক্ষের ১৫জনকে গ্রেফতার করেছে। তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যদিও মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। রবিবার সকালে মোট তিন দফায় বিস্ফোরন ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করতে হয়েছে বোমাগুলি। কত পিস বোমা উদ্ধার হল তার চেয়েও বড় কথা বোমার গুনমান কী ছিল? যদি এক সাথে এই বোমা গুলি নিষ্ক্রিয় করা হত তবে তার অভিঘাত হত মারাত্মক।

আরও পড়ুন: ড্রাগের মতো যৌনতার নেশাও সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে.. বাড়ছে অনলাইন সেক্স

৯৮ টি বোমা নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের যে কতটা স্বস্তির নিশ্বাস পেয়েছে জানা নেই, তবে স্বস্তি নেই কেশপুরের। সামনে বিধানসভা নির্বাচন তাই কেশপুরের রাজনীতি যে বোমাতেই হাত সেঁকবে এটা কেশপুরের জানা। বোমা নিস্ক্রিয়করনের আওয়াজ তাই হাড়ে কাঁপছে কেশপুরবাসী। কেশপুরের গ্রামে গ্রামে নাকি বোমার চাষ শুরু হয়ে গেছে। এরপর নির্বাচন কাছে এলে বিপক্ষের হাতেও বোমা যাবে। বোমা থেকে কেশপুরের মুক্তি কোথায়? যদিও কেশপুরের কিছু স্থানীয় মানুষের বক্তব্য এটা এমন কিছুই নয়, পুরো কেশপুরই বোমার গর্ভে বসে রয়েছে। যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারনে ২জনের মৃত্যু হয়েছে সেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণেই নাকি এরকমই কেশপুরের গ্রামে গ্রামে মজুত রয়েছে বোমা, আত্মরক্ষার মহান অধিকারে।

Related Articles

Back to top button
Close