fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৪২ কোটিতে সাঁজতে চলেছে খয়েরবাড়ি, প্রথম মিনি জু পেতে যাচ্ছে আলিপুরদুয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ৪২ কোটি টাকায় তিনধাপে সাঁজতে চলেছে জলদাপাড়া জাতিয় উদ্যান। মোট ২৭ হেক্টর জমির উপর তৈরি হবে মিনি জু।সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদন পেলেই শুরু হয়ে যাবে পুর্নাঙ্গ লেপার্ড সাফারি।হার্ভিভোরদের মধ্যে অন্যতম আকর্শনীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারকেও এবার দক্ষিন খয়েরবাড়ির খোলা ময়দানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে।শুক্রবার আপাতত লেপার্ড রেসকিউ সেন্টার বলে পরিচিত খয়েরবাড়ি ইকোপার্ক ঘুরে দেখেন বনমন্ত্রী রাজিব ব্যানার্জি। তার সঙ্গেই ছিলেন রাজ্য বনদপ্তরের অন্যতম দুই কর্তা রবিকান্ত সিনহা ও উজ্জ্বল ঘোষ, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও কুমার বিমল, মৃদুল গোস্বামী, মোহন শর্মার মত পরিচিতরা।

জানা গেছে, খয়েরবাড়ি ইকো পার্ক তাই পুর্নাঙ্গ চেহারার এক চিড়িয়াখানার রূপ পেতে চলেছে ২০২২ সালের মধ্যেই। তিন দফায় ঠিক কিভাবে বন্যপ্রাণীদের এনে, এনক্লেভ বা খাঁচা বন্দি অবস্থায় রাখা হবে তাও প্রায় চূরান্ত। শুধু চিড়িয়াখানাই নয়,দেশের মধ্যে সবচেয়ে আকর্শ্ষনীয় চিতাবাঘ সাফারির ব্যবস্থাও হচ্ছে খয়েরবাড়িতেই। এছারাও কার্নিভোর এনক্লোজার, হার্ভিভোর এনক্লোজার, দুই ধরনের পাখিদের জন্য নির্দিষ্ট এনক্লোজার থাকছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কার্নিভোরদের মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দুই রকমের ভাল্লুক, দুই রকমের অতি বিরল প্রজাতির বিড়াল, নেকড়ে বাঘ থাকছে।যার আয়তন হবে প্রায় আড়াই হেক্টর। হার্ভিভোরদের এনক্লোজারে থাকছে গন্ডার, বাইসন,চার রকমের হরিন। পাখিদের মধ্যে জলচর পাখি,জলচর নয় এমন পাখিদের পৃথক অ্যাভিয়ারি থাকছে।

আরও পড়ুন: ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের কাছে ডেপুটেশন এবিভিপির

এছাড়াও ক্রোকোডাইল ও গন্ড্ডার রাখার জন্য দ্রুত সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদন নেওয়া হবে।দুই ধরনের কুমির থাকবে খয়েরবাড়িতে। উল্লেখ্য, একটি সময় খয়েরবাড়ি জনপ্রিয়তা ছিল গোটা রাজ্যেই।চিতাবাঘ, সার্কাস থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘেদের আকর্শন টেনে আনতো পর্যটকদের। তবে একে একে রয়েল বেঙ্গলের মৃত্যু,দেশের বন আইনের জটিলতায় অনেকটাই গরিমা হারায় খয়েরবাড়ি। তবে বর্তমানে ছোট ছোট কাজের মধ্যে দিয়েই সাঁজানোর কাজ চলে।আপাতত বিভিন্ন চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া ২০টি চিতাবাঘ আপাতত রয়েছে সেখানে। আছে রাজ্যের সবচেয়ে বয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগার রাজা।এদিন রাজার খাঁচার সামনে নিরাপদ দূরত্ব রেখে পৌঁছে যায় বনমন্ত্রী। সুস্থ রাজাকে দেখে বনমন্ত্রী এও বলেন, নতুন করে আর একটি রয়েলবেঙ্গল টাইগার আনা হবে। গোটা বিষয়টি পছন্দ হবে পর্যটকদের। তিনবছরের মধ্যেই এক্কেবারে নতুন চেহারায় পাওয়া যাবে। শিলিগুড়িতে যেমন বেঙ্গল সাফারি তেমনি পূর্ব ডুয়ার্সে আলিপুরদুয়ার তার প্রথম চিড়িয়াখানা, সাফারি, ইকোপার্ক একসঙ্গে পেয়ে যাবে।

রাজিব ব্যানার্জি বলেন, খয়ের বাড়ি নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি।দ্রুত তা বাস্তবায়িত হবে।আপাতত এটুকুই বলছি খয়েরবাড়ির গোটা কাজটি সম্পুর্ন হলে তা রাজ্যের মধ্যে অন্যতম আকর্শনীও কেন্দ্র হবে পর্যটকদের কাছে।জলদাপাড়া জাতিয় উদ্যানের লাগোয়া এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। আপাতত যারা খয়েরবাড়িতে কাজ করছেন সেই বনকর্মীদেরও এদিন ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী ।উল্লেখ্য, জলদাপাড়া জাতিয় উদ্যানের ঠিক লাগোয়া এলাকায় রয়েছে খয়েরবাড়ি। তার কিছুটা দক্ষিণেই ফালাকাটার কুঞ্জনগর ইকোপার্ক।জলদাপাড়া,টোটোপাড়া,খয়েরবাড়ি, কুঞ্জনগর নিয়ে একটি ট্যুরিজম সার্কিটের দাবি ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে। সেক্ষেত্রে খয়েরবাড়ি সঙ্গে কুঞ্জনগর কে সাঁজানোর প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২১ থেকে এলাকায় পর্যটকদের ভির উপচে পরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close