fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

খড়্গপুরে রেশন দোকানে ফেস্টুন, বিভ্রান্তি জনসাধারণের মধ্যে

তারক হরি,পশ্চিম মেদিনীপুর: ইতিমধ্যেই সরকারের দ্বিতীয় দফায় রেশন বিতরণ শুরু হয়ে গিয়েছে, লকডাউন এর মধ্যে সকলের জন্যে বিনামূল্যে রেশন বিতরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তরফে এইবার বেশি মাত্রায় রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মতো খড়্গপুর শহরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে রেশন নিতে গিয়ে হতবাক বাসিন্দারা। দেওয়ালে ঝুলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া খাদ্য দফতরের ফেস্টুন।

যেখান বলা হচ্ছে “যারা সরকার বা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি পেনশনভোগি, মাসিক আয় যাদের ১০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে, ৫ একর ঊর্ধ্বের জমির মালিক, চার চাকা গাড়ির মালিক ইত্যাদি এই সকল সমকক্ষ ব্যক্তিরা তাদের রেশন কার্ড সমর্পণ করুন। অন্যথায় সরকার তা বাজেয়াপ্ত করবে।”

ফেস্টুন এর নীচে লেখা- খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগ দ্বারা প্রচারিত। সাত সকালে রেশন নিতে আসা বহু মানুষ এই ফেস্টুন দেখে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।

ঘটনা হল বর্তমানে এইরকম কোনও নির্দেশ সরকারের নেই, বরং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষনা করেছেন যে সবাই রেশন পাবে। তাহলে প্রশ্ন এই ফেস্টুন লাগলো কে? খড়গপুর শহরের খাদ্য দফতরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌম্য চ্যাটার্জি বলেছেন যে, ” আমরা এইরকম কোনও ফেস্টুন লাগাইনি, আর সরকারের এইরকম কোনও নির্দেশ নেই। শুনেছি কোনও রাজনৈতিক দলের কারা বা কেউ এটা করেছেন।

এলাকায় একই সঙ্গে লাগোয়া চারটি রেশন দোকান। এখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি কার্ডভোক্তা। এদের মধ্যে একজন রেশন ডিলার স্বপ্না ধর এর কন্যা পাঞ্চালি সামন্ত জানালেন যে, ” শৈবালদারা এসে ফেস্টুন বেঁধে গেছে। কিন্তু কে শৈবাল? জানা গেল শৈবাল চ্যাটার্জি স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং খড়্গপুর এর বিধায়ক তথা পুরপ্রধান।

শৈবাল বাবু স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনিই এই ফেস্টুনটি দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চেয়েছিলেন যাতে উপভোক্তারা সঠিক পরিমাণে রেশন পায়।

কিন্তু প্রশ্ন হল কে সঠিক উপভোক্তা? আর কে নয়, এটা তিনি ঠিক করার কে? এলাকার কংগ্রেস কাউন্সিলর রীতা শর্মা দাবি করেছেন যে, “এলাকার সমস্ত রেশন ডিলারদের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই ওই ফেস্টুন লাগিয়েছে তৃণমূলের নেতারা। ওরা ভেবেছিল চাল, গম, নিতে আসা মানুষেরা ফিরে যাবে আর সেই সব মাল দু পক্ষ নিজেরা ভাগাভাগি করে নেবে।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ যায়, এই বিভ্রান্ত মূলক ফেস্টুন দেওয়ায় শৈবাল চ্যাটার্জি ও দলের আর এক কর্মীকে থানায় নিয়ে যায়, এই নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয় পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।

Related Articles

Back to top button
Close