fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘খুদিয়ার’ জলেই কি নাস্তানাবুদ? জল সঙ্কটে বন্ধ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট

দুর্গাপুর লকগেট মেরামতে চারদিনে হাত দিতে পারল না সেচ দফতর

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: লুকিয়ে থাকা অখ্যাত ছোট নদী ‘খুদিয়া’র জলে নাস্তানাবুদ হল। বিপর্যয়ের চারদিনেও জলস্রোত ঠেকিয়ে দুর্গাপুর ব্যারেজের লকগেট মেরামতে হাত দিতেই পারল না সেচ দফতর। এদিকে চরম জল সঙ্কটে গোটা শিল্পাঞ্চল। বন্ধ হচ্ছে একের পর এক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট। পানীয় জলের হাহাকার পড়েছে শিল্পশহরের বিভিন্ন প্রান্তে। সঙ্কট মোকাবিলায় তৎপর স্থানীয় পুর প্রশাসন। সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ডিভিসি, ইসিএল, ডিএসপি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর দুর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট ভেঙে বিপর্যয় ঘটে। জলশূন্য হয়ে পড়ে ব্যারেজ। আর তাতেই জলসঙ্কটে গোটা শিল্পাঞ্চল। ব্যারেজের জলের ওপর নির্ভরশীল গোটা দুর্গাপুর শহরের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত দুর্গাপুর ইস্পাত, অ্যালয় স্টীল, বেসরকারি কারখানাগুলি। একই সঙ্গে মেজিয়া, অন্ডাল ও ডিপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। জলের অভাবে সোমবার মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫০০ মেগওয়াটের ৮ নং ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবার আরও একটি ৫০০ মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। উৎপাদন বন্ধের মুখে আরও একটি ইউনিট অন্যদিকে মঙ্গলবাট রাজ্য সরকারের দুর্গাপুর প্রজেক্টের(ডিপিএল) ৩০০ মেগওয়াটের ৭ নং ইউনিটটি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, ডিপিএলের সম্প্রতি ওই একটি ইউনিট সচল ছিল। সংস্থার ৭০ হাজার কিলোলিটারের রিজার্ভার রয়েছে। ওই রিজার্ভারের জল কমে যাওয়া ইউনিটটিতে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিপিএলের জনসংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র বলেন,” উৎপাদন বন্ধ হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিড থেকে নিয়ে করা হবে।” একের পর এক ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে বিদ্যুৎ সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে শিল্পশহরে ট্যাঙ্কার মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত না থাকায় হাহাকার দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দুর্গাপুর -১ নং ওয়ার্ড ধোবিঘাটে জল ট্যাঙ্কার না পৌঁছানোয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আবার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জল ট্যাঙ্কার পৌঁছালেও নোংরা জল। যা ব্যাবহারের অযোগ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শহরজুড়ে জলের হাহাকার পড়েছে। যদিও সঙ্কট মোকাবিলায় ডিভিসি, ইসিএলের মত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
জানা গেছে, মাইথন থেকে ডিভিসি ১৫ হাজার লিটার জলভর্তি ট্যাঙ্কার পাঠানো হয়েছে দুর্গাপুরে। একই সঙ্গে ৩ হাজার পানীয় জলের বোতল। এবং এরকম সঙ্কটকালে জলের ট্যাঙ্কার প্রতিদিন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিভিসির আধিকারিক সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ইসিএলও জলভর্তি ট্যঙ্কার পাঠানোর ব্যাবস্থা করেছে।

প্রশ্ন উঠেছে কবে মিটবে এই জলসঙ্কট? কবে ঠিক হবে ব্যারেজের লকগেট? মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বিকল ৩১ নং লকগেট মেরামতে কাজ শুরু হয়নি। লকগেট দিয়ে জলস্রোত বয়ে চলেছে। প্রায় দেড় হাজার কিউসেক জল প্রবাহমান। যা ঠেকাতে নাস্তানাবুদ সেচ দফতর। গত চারদিন ধরে ওই জলস্রোত ঠেকাতে বালির বস্তা দিয়ে রুট ঘোরানোর কাজ শুরু হয়। সোমবার জলের গতি কমাতে লকগেট থেকে ৪০০ মিটার ওপর বালির বাঁধ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন, মাইথন, পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়া বন্ধ রাখার ওপরও দামোদরে প্রায় দেড় হাজার কিউসেক জল কোথা থেকে আসছে? জানা গেছে, ঝাড়খন্ডে ডিভিসির মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারের নিম্নবর্তী বেনিয়ন্ত্রিত খুদিয়া ছোট নদী মিশেছে। যার ক্যাচমেন্ট অ্যারিয়া প্রায় ৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ১৯৭৮ সালে এই খুদিয়া নদী ফুলে উঠেছিল। যা চিন্তার ভাঁজ ফেলে ছিল সেচ দফতরকে। দিন দশেক আগেও ঝাড়খন্ডে বৃষ্টিপাত হওয়া দরুন ওই নদীর জলস্রোত রয়েছে। অনুমান, ওই বেনিয়ন্ত্রিত খুদিয়ার জল আসছে। জানা গেছে, ব্যারেজের লকগেটের তিনটি পর্যায় রয়েছে। যার মধ্যে ৩১ নং লকগেট একটু নীচে। তার দরুণ ওই লকগেটের জলস্রোতের গতিও বেশি।

ডিভিসির আধিকারিক(জল বিভাগে) আধিকারিক সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,” লকগেট বিপর্যয় মোকাবিলায় কারিগরি ও মেশিনারি সব দিকে সহায়তা করা হচ্ছে। জলে ভাসমান বার্জ ও তার ওপর চাপিয়ে কাজ করার মত ক্রেন পাঠানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: জীবনতলা শুটআউটপুলিশের জালে হুগলির ত্রাস বিশাল দাস, গুলিবিদ্ধ জন

দুর্গাপুর সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় সিং জানান,” ৩১ নং লকগেটে জলস্রোত ঘোরানোর কাজ চলছে বালির বস্তা দিয়ে। বড় বস্তার মধ্যে প্রায় ৮০ ছোট বালির বস্তা ভরাট হচ্ছে। প্রায় দেড়’মিটারের মত বাকি আছে। সেটা মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ভরাট হয়ে যাবে। এবং তারপর লকগেটের জায়গাটি জলশূন্য করে মেরামতের কাজ হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close