fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলায় খুন! গ্রেফতার অভিযুক্ত পরিযায়ী শ্রমিক

মিলন পণ্ডা, নন্দকুমার (পূর্ব মেদিনীপুর): বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকের হাতে খুন হলেন এলাকার বাসিন্দা।এই ঘটনার পর ওই খুনী পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার ডিহিগুমাই গ্ৰামে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত পরিযায়ী শ্রমিক তন্ময় বেরা। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে তমলুক মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন নাকচ করে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার শুনানি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে নন্দকুমার থানার ডিহিগুমাই গ্ৰামে তন্ময় বেরা নামে ওই পরিযায়ী শ্রমিক কর্মসূত্রে মুম্বাইতে থাকত। দিন দশেক আগে ওই পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরে। ভিন রাজ্য থেকে আসা এ রাজ্যের পরিয়ারী শ্রমিকের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নন্দকুমারের বাড়ি ফেরা একাধিক পরিযায়ী শ্রমিকের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিধি মতো বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক আপাতত ১৪ দিন হোম কোরায়ন্টাইনের থাকতে হত। সেই নির্দেশকে অমান্য করেই এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিল নন্দকুমারের ওই পরিযায়ী শ্রমিক।

এলাকায় ঘুরে বেড়ানো প্রতিবাদ করেন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তন্ময়ের তুমুল বচসা শুরু হয়। উত্তেজিত অবস্থায় তন্ময় বাঁশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধর করে বলে অভিযোগ।মারধরের ফলে গুরত্বর জখম হয় অশোক বেরা ও গঙ্গা বেরা নামে এক মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে নন্দকুমারের ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ততক্ষণে তন্ময় এলাকা থেকে চম্পট দেয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নন্দকুমার থানার পুলিশকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়।

রবিবার রাতেই অবস্থার অবনতি হলে অশোক বাবুকে নন্দকুমার ব্লক স্থাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসক। প্রাথমিক চিকিৎসা পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন গঙ্গা বেরা নামে ওই মহিলা। মাথায় আঘাত লাগা অশোকবাবু অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। সোমবার সন্ধ্যায় তমলুক হাসপাতালের অশোক বেরা (৪২) মৃত্যু হয়। পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে। রাতেই অভিযুক্তকে বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অভিযুক্ত পরিয়ারী শ্রমিক তন্ময়কে গ্রেফতার করে।

তমলুক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম হাসান বলেন মৃত যুবকের স্ত্রী’র অভিযোগে ভিওিতে পরিয়ারী শ্রমিককে রাতেই বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে পুরো ঘটনায় তদন্ত করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close