fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনার কাটায় ১৭০.৬৬ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ পুরসভাতে

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পুরসভার কাজ যাতে থমকে না যায় তাই মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভা ২০২০-২১  অর্থবর্ষের জন্য ১৭০.৬৬ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম।
চলতি বছরের আয় নির্ধারিত করা হয়েছে ৪ হাজার ১২৭ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা এবং ব্যয় বরাদ্দ ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে।

করোনার কারণে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত খরচ হওয়াতেই এবারে এই পরিমাণ ঘাটতি বাজেট হয়েছে বলে জানান ফিরহাদ হাকিম।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ১৬৩ কোটি ৪৭ লক্ষ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৬০৬ কোটি ২৫ লক্ষ, জল সরবরাহ খাতে ৪৯৮ কোটি ১২ লক্ষ, রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ৩২৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে । অন্যদিকে, সম্পত্তি কর বাবদ ১০৭৬ কোটিরও বেশি, বিজ্ঞাপন থেকে ৩২ কোটি ১৪ লক্ষ, গাড়ি পার্কিং থেকে ২২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থানা ও স্বাস্থ্য বিভাগে খাতে করোনা ও আমফানের জন্য বেশি খরচ হয়েছে। তাই ঘাটতি বাজেট পেশ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসক মন্ডলী। যদি এই বিপর্যয়গুলি না নেমে আসত এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ হত সেক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট পেশ করা হত না।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসক মন্ডলী আগেই বাজেট পেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিল তারা । হাই কোর্টের রায়কে সুপ্রিম কোর্ট সমর্থন করায় বাজেট পেশ করা হয়েছে। যদি এই বাজেট পেশ করা না হত সেক্ষেত্রে অক্টবর মাস থেকে সব কাজ বন্ধ হয়ে যেত বলেও জানান তিনি। এছাড়াও যেসব খাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ আগেরবার বাজেটে ছিল সেগুলো সবই সমান রাখা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগে বরাদ্দ অর্থ প্রসঙ্গে প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান জানান, করোনা অতিমারীর মধ্যে পুরসভার ১০০ এরও বেশি কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, এর মধ্যে কিছু কর্মী মারাও গেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুরপরিষেবা সামান্যতম ব্যাহত হয়নি। শহরে করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিভাগ প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমফান দুর্যোগের পর পুর প্রশাসকবোর্ডের নেতৃত্বাধীন পুরসভা শহরকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে সমর্থ হয়েছে। শহরে যত্রতত্ৰ বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এর রমরমা বন্ধ করতে পুর প্রশাসকবোর্ডের সদস্য দেবাশিষ কুমারের নেতৃত্বে বিজ্ঞাপন নীতি গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ১৫৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করেছিলো তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ততকালীন পুরবোর্ড। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুর নির্বাচনের জন্য ৬ মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়।

Related Articles

Back to top button
Close