fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

হোম আইশলেসনের বিধি ভাঙলেই চিঠি পাঠাবে পুরসভা

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা: শহর কলকাতায় হোম আইসোলেশন থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীদের অসাবধানতা এবং অসতর্কতায় ছড়িয়ে পড়ছে করোনার সংক্রমণ। সম্প্রতি পুরসভার এক সমীক্ষা রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তাই এবার আইসোলেশন থাকা আক্রান্তদের বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ নির্দেশিকা। পুরসুত্রে এমনটাই খবর।
এই নির্দেশিকা মোতাবেক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি, যারা হোম আইসোলেশনে থাকতে চান তাদের তিনটি সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরে। প্রথমত, একটি আন্ডারটেকিং বা মুচলেকা দিয়ে জানাতে যে তিনি বাড়িতেই সম্পূর্ণরূপে নজরবন্দি থাকবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি অসুস্থ হলে কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করবেন সে বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। তৃতীয়ত, বাড়িতে কে তার দেখাশোনা করবেন সেই সম্পর্কিত আরেকটি সার্টিফিকেট করোনা আক্রান্ত রোগীকে জমা দিতে হবে। এই তিনটি সার্টিফিকেট যদি জমা না দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তের হোম আইসোলেশন থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি, এমনটাই জানানো হয়েছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় ৫০ শতাংশ আক্রান্তের পরিবার এই নিয়ম মানছে না। এমনকি হোম আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তি বা মহিলাকে বাড়ির ভিতরে অনান্য সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্প করতে, টিভি দেখতে বা টেবিলে বসে খাতেও দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তো আবার বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ছাদে ঘুরেও বেড়াচ্ছেন।
শুক্রবার এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর পুর প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য অতীন ঘোষ জানান, এই মুহূর্তে শহর কলকাতায় যে সমস্ত ব্যক্তি হোম আইসোলেশন রয়েছেন তাঁদেরকে সোমবারের মধ্যে চিঠি পাঠাতে চলেছে পুরকর্তৃপক্ষ। এই চিঠিতে লেখা হবে, যদি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চান সেক্ষেত্রে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে এই তিনটি সার্টিফিকেট। যদি তারা তা জমা না দেন সেক্ষেত্রে স্থানীয় থানা এবং ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের একটি চিঠি দিয়ে জানানো হবে যে এই ব্যক্তিদের হোম আইসোলেশনে থাকার কোন আইনে অধিকার নেই এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে বা সেফ হোমে।

এদিকে হোম আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিরা যাতে নিজের বাড়ি অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেজন্য বাড়ির মধ্যে সকলেরই মাস্ক পরে থাকা বাধ্যতামূলক এমনটাই প্রচার চালানো হবে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে। ১৬ টি বরোতে ১৬ টি পৃথক গাড়িতে করে সপ্তাহে একদিন রাপিড টেস্ট করা হবে শহর কলকাতা জুড়ে। এছাড়া প্রত্যেক বরোতে একটি করে স্ট্যাটিক সেন্টার খোলা হবে, যেখানে করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন শহরবাসী। এদিকে চেতলাতে রাপিড টেস্টে ৫০ জনের মধ্যে ১০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং হাতিবাগানে ৩৩ জনের মধ্যে তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

রাজ্যে এখন উপসর্গ থাকা রোগী অপেক্ষা উপসর্গহীন বা কম উপসর্গের রোগীর সংখ্যাই বেশি। এদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর থেকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টিন সেন্টারে কিংবা সেফ হোমে থাকতে বলে হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেফ হোম ও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা রোগীরা যথাযথ ভাবে সব কিছু মেনে চললেও যারা হোম আইসোলেশনে আছেন তাঁরা অনেক কিছু নিময় মেনে চলছেন না। হোম আইসোলেশনে থাকাটা তাঁদের কাছে যেন নিজ বাড়ি ছেড়ে সেফ হোম বা কোয়ারেন্টিন সেন্টারে না যাওয়ার একটা অছিলা হয়ে উঠেছে। তাঁরা দেখাতে চাইছেন হোম আইসোলেশনে তাঁরা সব কিছু মেনে চলছেন। কিন্তু খাস কলকাতা শহরে কলকাতা পুরনিগমের কাছে প্রমাণ সহ তথ্য এসেছে যে হোম আইসোলেশনে যারা রয়েছেন তাঁরা ঠিক মতন নিয়ম মেনে চলছেন না। এবার এই নিয়মভঙ্গকারীদের চিঠি পাঠাতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Back to top button
Close