fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সাময়িক স্বস্তি? পুরসভার শো-কজ নোটিশে কমল কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা: শহর কলকাতায় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল কন্টেইনমন্ট জোনের সংখ্যা। শহরে এই মুহুর্তে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা দাঁড়াল ২৩। অন্যদিকে হোম আইসোলেশনের নিয়মভঙ্গ কারীদের শো কজ চিঠি দিচ্ছে পুরসভা। সে কারণেই বিগত কয়েক দিনে মানুষের মধ্যেও বেড়েছে সচেতনতা। আর সেই সচেতনতার জন্য ই কমেছে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা। এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে পুরসভার শোকজ নোটিশের ভয় তে সাধারণ মানুষ নিয়ম বিধি মানতে শুরু করেছে। তাই লাফিয়ে লাফিয়ে না বেড়ে উলটে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা কমে গেল।
রাজ্যে করোনা সংক্রমনের শীর্ষে কলকাতা থাকলেও, শহরের কন্টেইনমেন্ট জোনের নিম্নমুখী সূচক সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে পুরসভাকে। কলকাতা পুরসভা ও নবান্নের যৌথ প্রকাশিত তালিকায় এক ধাক্কায় অনেকখানি কমেছে শহরে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা। ৩৯ থেকে ২৩টিতে নেমে এসেছে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা।
ওই তালিকায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কলকাতার যে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩টি জোন ছিল সেখানে কমে মাত্র পাঁচটিতে চলে এসেছে। তবে উত্তর কলকাতার তিন নম্বর বরোতে নতুন করে সাতটি কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করেছেন রাজ্য সরকার। ৬৯ ওয়ার্ডে বালিগঞ্জের ২৯বি হাজরা রোড ও ৪ এ রেনি পার্কের দু’টি নামী বহুতল রয়েছে সাম্প্রতিক সংক্রমিত এলাকার তালিকা। পাশাপাশি ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলিপুর এলাকায় বর্ধমান রোডের নামী আবাসন কমপ্লেক্সকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উত্তরের ৩১, ৩৩, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এখনও করোনার দাপট চলায় ধারাবাহিকভাবে কনটেনমেন্ট জোন থাকায় উদ্বিগ্ন পুরসভা।

কলকাতা পুরসভার সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে আবাসনগুলি থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর তথ্য। বারবার দেখা গিয়েছে বস্তি এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে আবাসন গুলি। তাই এবার প্রশাসনের নজরে রয়েছে অভিজাত আবাসন গুলি। রাজ্য প্রশাসনের তৈরি করা কনটেইনমেন্ট জনের তালিকা দেখলেই দেখা যাচ্ছে এই তালিকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নাম রয়েছে আবাসন ও বড় বড় বাড়িগুলির। তাই পুলিশ কড়া নজরদারি চালিয়ে সরকারি নির্দেশিকা ওই এলাকায় যথাযথ পালন করা হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখছে।

কলকাতা পুরসভা প্রতি দুদিন অন্তর কনটেইনমেন্ট জনের তালিকা প্রকাশ করে।এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই তৎপর হয় কলকাতা পুরসভা। গার্ড রেল দিয়ে সম্পূর্ণ ঘিরে দেওয়া হয় সংক্রমিত বাড়ি গুলিকে। দিনভর মাইকিংয়ে প্রচার চালায় পুলিশ। পাশাপাশি যে বাড়ি গুলিকে সংক্রমিত আওতাভুক্ত করা হয়েছে সেখানে মানুষজন বাইরে যেতে বেরিয়ে পড়তে না পারে এবং তাদের প্রয়োজনে যাতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বদা হাজির থাকতে পারে সে বিষয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে হোম আইসোলেশনে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিরাই পরোক্ষভাবে এলাকায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। এই প্রমাণ আগেই পেয়েছিল পুরসভা। এবার তাই হোম আইসোলেশনের নিয়মভঙ্গকারী করোনা রোগীর বাড়িতে কার্যত শোকজ চিঠি পাঠাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি এক বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভার কোভিদ মোকাবিলা কমিটি। পাশাপাশি প্রতিটি রোগীর বাড়িতে ফোনে নজরদারি চালাবে ওয়ার্ড ভিত্তিক ‘ট্রেকিং সেল’।

পুরসভার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে অধিকাংশ বহুতল গুলি থেকেই সংক্রমিতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরসভা দেখেছে শহর কলকাতার পাকা বাড়ি ও বহুতলে আইসোলেশনে থাকা রোগীদের অন্তত ৫০ শতাংশ আইসিএমআর গাইড লাইনের শর্ত মানছেন না। সংক্রমিত ব্যক্তির আত্মীয় পরিজনরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাজার দোকান করছে এই প্রমাণ পুরসভার হাতে আগেই এসেছে। এরপরেই এলাকাগুলিতে সংক্রমণ কমাতে পরোক্ষে করোনা সংক্রমণের দায়ে অভিযুক্ত রোগীর হোম আইসোলেশনে থাকার বৈধতাও সোমবার বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভার কোভিট মোকাবিলা কমিটি।

বেশ কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছিলেন এবার থেকে হোম আইসোলেশন এ থাকতে গেলে তিনটি পর্যায়ে মুচলেকা দিতে হবে রোগীর পরিবারকে। ওই মুচলেকা গুলিতে জানাতে হবে প্রথমত, একটি আন্ডারটেকিং বা মুচলেকা দিয়ে জানাতে যে তিনি বাড়িতেই সম্পূর্ণরূপে নজরবন্দি থাকবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি অসুস্থ হলে কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করবেন সে বিষয়ে একটি শংসাপত্র জমা দিতে হবে। তৃতীয়ত, বাড়িতে কে তার দেখাশোনা করবেন সেই সম্পর্কিত আরেকটি শংসাপত্র করোনা আক্রান্ত রোগীকে জমা দিতে হবে। এই তিনটি শংসাপত্র যদি জমা না দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তের হোম আইসোলেশন থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবেই ধরা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় হোম আইসোলেশনে থাকা ৫০ শতাংশই ঘরে থেকে চিকিৎসার জন আইসিএমআর-এর শর্ত মানছেন না। সঠিক ঠিকানা, চিকিৎসকের নাম ও ‘কেয়ার গিভার’ ফর্ম না দেওয়ায় তাঁদের খুঁজে শনাক্তও করা যাচ্ছে না। এর ফলে সংক্রমিত রা এলাকায় বেরিয়ে পরোক্ষভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে শহরের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংক্রমণের মূল কারণ হিসাবে হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের চরম গাফিলতি ও নিয়মভঙ্গ করাকে মেনে নিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ জানান, “নিয়মভঙ্গকারীদের পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা খুঁজে বার করে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেবে যে হোমআইসোলেশনে থাকার বৈধতা বাতিল করা হল। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাঁদের সেফ হোম বা হাসপাতালে ভরতিরও ব্যবস্থা করবে পুরসভা। যাঁরা হোম আইসোলশেনে থাকবেন তাঁদের কী কী শর্ত মানতে হবে তার গাইডলাইনও পুরসভা ছাপানো ফর্মে বাড়ি বাড়ি পাঠাবে”।

Related Articles

Back to top button
Close