fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোলাঘাট ব্লক জুড়ে মারেঙ্গা স্টিকের প্রতি চাষীদের ঝোঁক বাড়ছে

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য লড়াই জারি রেখেছে এই করোনা আবহে। এই কঠিন সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে  পুনর্জীবন, সেই সঙ্গে করোনাকে জয় করার জন্য অসম লড়াইয়ের মধ্যে কোলাঘাট ব্লকের কৃষিজীবী মানুষ থেকে সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করতে শুরু করেছে। এই বর্ষাকালীন চাষে হরেক রকম শাকসবজির মধ্যেও  প্রত্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন স্থানে মারেঙ্গা স্টিক লাগানোর কাজে মন দিয়েছে চাষীরা। বেশ কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও এই চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।বৈজ্ঞানিক নাম মারেঙ্গা হলেও গ্রামবাংলায় এই গাছের নাম সজনে গাছ। এই গাছের গুনাবলী দিন দিন বাড়তে থাকায় বর্তমানে গ্রাম বাংলার কদর বাড়ছে। এই গাছ থেকে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি হয়ে থাকে। পাতায় থাকে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম যা মানব দেহের হাড় শক্ত করার জন্য যোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকায়  ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এই গাছটির অমূল্য ডাটা ও পাতা কেজিপ্রতি পাঁচ  ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয় আন্তর্জাতিক বাজারে।

[আরও পড়ুন- নদীতে তলিয়ে গেল স্কুল ছাত্র]

এতদিন দেশীয় বাজারে তেমন ভাবে গুরুত্ব ছিল না এই গাছের। চিকিৎসকরা এই গাছের গুনাবলী তুলে ধরলেও ঠিকমতো প্রচারের অভাবে গুরুত্ব ছিল না এই গাছের। সিডিসির তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে জেলাজুড়ে চাষ শুরু করার তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাঙ্গালোর থেকে উন্নত মানের সজনে বীজ নিয়ে আসা হচ্ছে। বিভিন্ন নার্সারিতে  এই চারা তৈরি হচ্ছে।  জেলার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই কোলাঘাট ব্লকের বিভিন্ন স্থানে এই মারেঙ্গা স্টিক লাগানোর জন্য উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে চাষীদের মধ্যে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই এলাকার যে সমস্ত জায়গায় ঝিল রয়েছে সেই ঝিলের পাড় বরাবর ফাঁকা জায়গা গুলিতে।  ব্লকের যে সমস্ত স্ব-সহায়ক দল রয়েছে তাদেরকে বীজ সরবরাহ করার জন্য তোড়জোড় শুরু হচ্ছে। সিডিসির   তমলুক প্রকল্প আধিকারিক উত্তম কুমার সাহা বলেন  ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের ২০০ টি পরিবার স্বনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোলাঘাট ব্লকের কৃষি আধিকারিক নবকুমার বর্মণ বলেন, এই চাষ করার জন্য ব্লকের যে সমস্ত স্বসহায়ক দল রয়েছে তাদেরকে নিয়ে বসার সিদ্ধান্ত আছে তবে বর্তমানে লকডাউন থাকার জন্য সমস্ত প্রক্রিয়াটাই বন্ধ। দেখা যাচ্ছে  গ্রাম অঞ্চলে যে সকল  মালিকের পুকুর, ঝিল, ডাঙা রয়েছে  সেই স্থান গুলিতে সজনে গাছের ডাল পোতার কাজ চলছে। এই বর্ষার মুখেই এই ডাল পুঁতলেই গাছ বেঁচে যায়। ঠিক ১ বছরের মুখে ফলনও দিতে শুরু করে। উল্লেখ করা যায় ইদানিং এই মারেঙ্গা স্টিক লাগানোর  ঝোক সাধারণ   মানুষের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা আগামী দিনে এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  নেবে।

Related Articles

Back to top button
Close