fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতালে কমছে কোভিড টেস্টের সংখ্যা, আশঙ্কায় চিকিৎসকরা

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা,: ইতিমধ্যেই রাজ্যে সুস্থতার হার ৯১% ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে কমছে রেকর্ড সংখ্যক রোগীও। তাহলে কি ভ্যাকসিন আসার আগেই করোনা যুদ্ধ জিতে নিল পশ্চিমবঙ্গ? আসল দৃশ্যটা খুব পার্থক্য না হলেও প্রদীপের তলায় অন্ধকারের মতো চিকিৎসকদের সামনে উঠে আসছে অন্য একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ব্যাপক হারে কমছে কোভিড টেস্টের সংখ্যা। ফলত কম আসছে সংক্রমণের সংখ্যাও।

আগে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিনে প্রায় ৪৭ হাজার মত কোভিড টেস্ট করার তথ্য পেশ করত স্বাস্থ্য দফতর। সংখ্যাটা দৈনন্দিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন। তার জন্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল বিশেষ যন্ত্র। কিন্তু সোমবারের বুলেটিনে দেখা গিয়েছে, সংখ্যাটা নেমে গিয়েছে দৈনন্দিন ৩৮ হাজারে। এর কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসকরা দেখেছেন, গত এক সপ্তাহে কলকাতার নামী-দামী বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এই সময়কালে কমপক্ষে দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে আগের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্য একটি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে নমুনা পরীক্ষা।

তবে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে এই টেস্টে সংখ্যা কমে যায়নি, এমনটাই দাবি করছে ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম। তাদের দাবি, কমবয়সি উপসর্গহীন রোগীরা প্রথমেই কোভিড টেস্টের দিকে ঝুঁকছেন না। পরিবর্তে তাঁরা সমস্ত রকমের সতর্কতা নিয়ে বাড়িতেই কোয়ারান্টাইনে থাকতে পছন্দ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম একবার পজিটিভ আসার পরে কিছুদিন বাদে সুস্থ হলে অনেকেই দ্বিতীয় বার আর পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এমনকি লোকাল ট্রেন চালু হলেও তা নিয়ে বিশেষ আতঙ্ক অনুভব করছেন না সাধারণ মানুষ। তাই খুব বাড়াবাড়ি কিছু না হলে আগের মত সবক্ষেত্রে তা সামনে আসছে না।

পিয়ারলেস হাসপাতালের একটি পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সেখানে ১৭০টির কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষা হত। বৃহস্পতিবার সেখানে হয়েছে মাত্র ৮১টি। এই সংখ্যাটি তার আগের দিন ছিল ৮৯। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে পজিটিভিটি রেট ৩২ থেকে ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে ওই বেসরকারি হাসপাতাল।

অন্যদিকে ঢাকুরিয়া এবং মুকুন্দপুর ইউনিট মিলিয়ে আমরি হাসপাতালে শেষ ১০ দিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৪০০ থেকে কমে হয়েছে ৩৫০-৩৬০। আগে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ কোভিড টেস্ট হতো এই হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর পর থেকেই এই পতন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রবীণ এবং কো-মর্বিডিটি রয়েছে, এমন রোগীরাই নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। তুলনামূলক ভাবে কম বয়সিরা নমুনা পরীক্ষা এড়াচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ নমুনা পরীক্ষা কমেছে বলে জানাচ্ছে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। প্রতিদিন যেখানে ৭০০-র কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষা হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০-র মতো।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদেরও একাংশের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালের মত না হলেও সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার জন্য ১০-১২ দিন আগে নাম লিখিয়ে আসছেন না অনেকে। অনেকক্ষেত্রে পরীক্ষা করার আগেই মানুষ সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন এবং একইসঙ্গে রাজ্যে দৈনন্দিন মৃত্যুর সংখ্যা আর না বাড়ায় মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না। ফলে সার্বিকভাবে কমে যাচ্ছে টেস্টের সংখ্যা।

আপাতদৃষ্টিতে এটা ভালো লক্ষণ বলে মনে করলেও এর মধ্যেও আতঙ্কের চোরাস্রোতের সম্ভাবনা রয়েছে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পরে স্বাভাবিক ছন্দ যাত্রা শুরু করেছেন অনেকেই। ভ্যাকসিন না আসলেও অনেকেই করোনাকে সাধারণ জ্বর সর্দি কাশির মতো লক্ষণ ভেবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চলতে শুরু করেছেন। সে ক্ষেত্রে দিল্লির মত করোনার সেকেন্ড বা থার্ড ওয়েভ যদি আসে, তাহলে ফের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টেস্টের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সেক্ষেত্রে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত এই মহামারী কে হালকা ভাবে না নেওয়ার জন্যই সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Related Articles

Back to top button
Close