fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কলকাতা পুরসভায় প্রশাসকদের কাজের মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: স্বস্তি রাজ্যের! কলকাতা পুরসভায় প্রশাসকদের কাজের মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট। যার জেরে ৮ জুনের পরিবর্তে ২০ জুলাই পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন প্রশাসকরা। এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ৮ জুন পর্যন্ত এই প্রশাসকমণ্ডলীকে কাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের পর কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। আজকের রায়ে স্বস্তিতে রাজ্য সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী।মঙ্গলবার এই রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার যে রায় দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের তরফে।

এর আগে এই প্রশাসক গোষ্ঠী বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বোর্ডকে পুরসভার কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের সিঙ্গল বেঞ্চ। মঙ্গলবার সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায় বহাল রেখে বোর্ডের কার্যকালের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করল বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির জেরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এই ধরনের বোর্ড গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা ও আইনি যৌক্তিকতা বিচার করা হবে।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমই ছিলেন বিগত বোর্ডের মেয়র। তাঁকেই প্রশাসকমন্ডলীর মাথজায় রেখে রাজ্য সরকার ডেপুটি মেয়র ও মেয়র পারিষদের নিয়ে এই প্রশাসকমন্ডলী গঠন করে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্চ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা ঠোকে গেরুয়া শিবির। উত্তর কলকাতার অরবিন্দ সরণির বাসিন্দা শরদ সিং নামে এক যুবক ওই মামলা ঠোকে। কিন্তু বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের সিঙ্গেল বেঞ্চ জানিয়ে দেয় অতিমারীর জন্য নির্বাচন হতে না পারাতেই এই প্রশাসকমন্ডলী বসিয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ এই সিদ্ধান্ত না নিলে এই লকডাউনের সময়ে কলকাতার বাসিন্দারা পুরপরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারতেন। তাই এক মাস পর্যন্ত বোর্ডের সদস্যদের কাজ করার রায় দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: আগামী ১৫ মে থেকে ১৭ মে বন্ধ হতে চলেছে বিজন সেতু

কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের ডিভিশনাল বেঞ্চে আবারও মামলা ঠকেন শরদ সিং নামে ওই যুবক। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে। এবার মামলাকারীরা অভিযোগ করেছিল যে, কলকাতা পুরনিগমে প্রশাসকমণ্ডলী বসানোর সিদ্ধান্ত কার্যত রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা ও আইনি যৌক্তিকতা লঙ্ঘণেরই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। যদিও এদিন রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয় যে, বর্তমান অতিমারির পরিস্থিতির জেরে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার। তাছাড়া সংবিধানের ১৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রিম্যুভাল অফ ডিফিকাল্টিস’ অ্যাক্ট প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে রাজ্য সরকারের। আর এক্ষেত্রেও তাই-ই করা হয়েছে।

আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বোর্ডের কার্যকালের মেয়াদ ধার্য করা হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকার বিশেষ আইন প্রয়োগের পরিবর্তে অর্ডিন্যান্স জারি করেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এই ধরনের বোর্ড গঠনের সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে আলোচনা হবে। দু’পক্ষকে এ নিয়ে হলফনামাও জমা দিতে হবে আদালতে। ২০ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি। ডিভিশনাল বেঞ্চের এই ধাক্কাতে কার্যত কোমর ভেঙেছে গেরুয়া শিবিরের। এমনকি পুরনিগমের কাজে বা প্রশাসকমন্ডলীর কাজ নিয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেল।

 

Related Articles

Back to top button
Close