fbpx
কলকাতাহেডলাইন

উৎসবের মরশুমে চালুর পথে মাঝেরহাট ব্রিজ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর মুখে কলকাতাবাসীর জন্য সুখবর, মাঝেরহাট ব্রিজ চালু করতে চলেছে প্রশাসন। ৬৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নয়া ব্রিজটি ১৮ মিটার চওড়া এবং চার লেনের হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চলাচল করবে বলে আশা করছে পূর্ত দফতর।

নির্মীয়মাণ মাঝেরহাট ব্রিজের মূল অংশের ২২৭ মিটারের সামান্য কিছুটা কাজ এখন আর বাকি। আগামী সপ্তাহে শুরু হবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ধাঁচে কেবল জোড়ার কাজ। ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়াররা সোমবার জানালেন, “নদীর উপর ঝুলন্ত বকখালির সেতুর দু’পাশে কেবল জুড়তে সময় লেগেছিল ৪২ দিন। কিন্তু রেল লাইন  ও মাটির  সার্পোট থাকা মাঝেরহাটের জন্য কেবল জুড়তে ৩০ দিনের কম সময় লাগবে। চেষ্টা হচ্ছে পুজোর আগেই কেবলের কাজ শেষ করার।” পূর্ত দফতর দিনে-রাতে নজরদারি চালিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। রঙের কাজও শুরু হয়েছে। তিনটি ডিজাইন তৈরি, নবান্নের পছন্দ হলে পুজোর তিনদিন আগে কাজ শেষ করবেন রঙের ইঞ্জিনিয়াররা। নবান্নের টার্গেট রয়েছে, উৎসবের মরশুমেই মাঝেরহাটে ‘কেবল স্টেইড’ ব্রিজ তিলোত্তমার বুকে নতুন আঙ্গিকে চালু করার।

২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মাঝেরহাট সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়বার কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা যাতে না থাকে তাই পুরোপুরি ভেঙে ফেলে আবার নতুন করে সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাবা হয়েছিল দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ধাঁচে ৮০০ মিটার লম্বা সেতু বানানো হবে। যা তৈরি করতে খরচ হবে ২০০ কোটি টাকা। একাধিকবার সেতু চালু হওয়ার চূড়ান্ত ডেডলাইন বাতিল করে রাজ্য। তবে তার জন্য রেলের উপরেই দায় চাপানো হয়। রেলের থেকে অনুমতি না মেলার ফলে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে বলেই দাবি করে রাজ্য সরকার। যদিও সেই দাবি আগেই খারিজ করে দিয়েছে রেল।প্রায় ছ’দফায় চিঠি চালাচালির পর রাজ্য-রেলের সংঘাত দূর হয়। কাটে জট। ই-মেলের মাধ্যমে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মাঝেরহাটের নতুন সেতু তৈরিতে আর কোনও বাধা নেই।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ব্রিজের দু’দিকে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ। মাঝে মধ্যে এসে নির্মাণ কাজের গতি নিয়ে তদারকি করে যাচ্ছেন স্বয়ং পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।পূর্ত দফতরের এক শীর্ষ কর্তা এদিন জানিয়েছেন, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন নির্মাণের টেকনিক্যাল সমস্ত শর্ত ও যাবতীয় সুরক্ষা বিধি মেনেই মাঝেরহাট ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ করা হোক। এখন একটা নীল রঙের ডামি কেবল বসানো হয়েছে। এদিন দুপুরে গিয়ে দেখা গিয়েছে,  বৃষ্টির মধ্যেও ব্রিজের পাশে কেবল জোড়ার জন্য ‘সেটআপ’ বসানোর কাজ শুরু করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু পুরোপুরি আসল কেবলের তার জুড়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে আগামী সপ্তাহেই। মূল অংশের ঢালাইয়ে প্রতিদিন জল দেওয়া হচ্ছে এবং নিচের নানা কাজ চলছে। ৬৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নয়া ব্রিজটি ১৮ মিটার চওড়া এবং চার লেনের হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চলাচল করবে।

আরও পড়ুন: জোরালো ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া, কম্পনের মাত্রা ৫.৯

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ব্রিজের দু’দিকে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ। মাঝে মধ্যে এসে নির্মাণ কাজের গতি নিয়ে তদারকি করে যাচ্ছেন স্বয়ং পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আর পূর্তদপ্তরের রাস্তা বিভাগের মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার সুস্মিত বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত শিবির করে বসে আছেন। মাঝে একবার পূর্ব রেলের আপত্তিতে নির্মাণের কাজ থমকে গিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত গোপনে দফায়-দফায় রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই জটিলতা কাটিয়ে ফের কাজ শুরু করান পূর্তমন্ত্রী। এখন শেষ পর্যায়ের কেবল জুড়লে এবং ভার বহনের টেকনিক্যাল রিপোর্ট পেলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ব্রিজ তৈরির দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা।

২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভেঙে পড়ে দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংযোগকারী অর্ধশতাব্দীর পুরনো মাঝেরহাট ব্রিজ। মাঝেরহাট সেতু ভাঙার পর থেকে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে মাঝেরহাট, তারাতলা, বেহালা, পর্ণশ্রী, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সরশুনা, ঠাকুরপুকুর, জোকা, বিষ্ণপুর, আমতলা দিয়ে যাঁরা নিয়মিত আলিপুর ও ধর্মতলা যাতায়াত করেন, তাঁদের। এই সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকার নিউ আলিপুরের কাছে একটি বেইলি ব্রিজ এবং টালিনালার উপরে মহাবীরতলা এবং হরিদেবপুরে আরও দু’টি নতুন সেতু চালু করেছে। তাতেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখন পুজোর আগে নতুন এই সেতুর কাজ শেষ করতে চাইছে রাজ্য।

Related Articles

Back to top button
Close