fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আম্ফান: খোলা হল কন্ট্রোল রুম, ঝড় মোকাবিলায় পুরসভা তৈরি, জানালেন ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা: কলকাতা পুরসভা এলাকায় ৫৯ টি বিপদজনক বাড়ি চিন্তা বাড়াচ্ছে পুরসভার, আম্ফান সতর্কতায় তা নিয়ে চিন্তায় পুরসভা। এমনটাই জানালেন পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার পুরসভায় জরুরি বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘বিপদজনক বাড়ি থেকে সকলকে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। ভাড়াটেরা নিরাপদ জায়গায় না গেলে বিপদ। কলকাতা পৌরসভার বিভিন্ন কমিউনিটি হলকে খুলে দেওয়া হয়েছে।’

 

পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। তাই শহর কলকাতা জুড়ে জারি করা হলো এক গুচ্ছ বিশেষ সতর্কতাঃ ও বাড়তি নজরদারি। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরসভার তরফে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিপদজনক বাড়িগুলি থেকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।  ফিরহাদ বলেন, ‘১৬ টি বরো অফিসে টিম তৈরি থাকবে। সদর দপ্তরেও তৈরি থাকবে টিম। পেলোডার ,গাছ কাটার জন্য কাটার মেশিন। তৈরি থাকবে ডিমোলিশন টিম।

 

কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম (২২৮৬১২১২/১৩১৩/১৪১৪) তৈরি আছে ২৪ ঘন্টা। বুধবার তো বটেই রাতেও থাকবেন প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। বিপর্যয় হবে ধরে নিযে প্রশাসকের আশ্বাস খুব দ্রুত শহর স্বাভাবিক করা হবে। টালা ট্যাঙ্ক সংস্কারের কাজে বন্ধ করে সাবধানতা নেওয়া হয়েছে। যে ক্রেন রয়েছে সেটিকে আলগা দেওয়া হয়েছে, যাতে সেটি হাওয়ার সঙ্গে অভিমুখ পরিবর্তন করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভা শুধু নয় কলকাতা হাওড়া হুগলি পশ্চিম মেদিনীপুর পূর্ব মেদিনীপুর দুই ২৪ পরগনার সমস্ত পৌরসভা গুলিকে বিশেষ সতর্ক করা হয়েছে।

 

 

কলকাতা পুরসভার ৭৪টি পাম্পিং স্টেশন এর সমস্ত পাম্পিং সক্রিয় আছে। এছাড়াও বেশ কয়েক হাজার পোর্টেবল পাম্প রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্পটে। একই সঙ্গে শহর অঞ্চল থেকে একাধিক বড় গাছের ডাল কেটে ফেলা হয়। কারণ যে সময় আমফান কলকাতায় প্রবেশ করবে সে সময় তার গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ৭৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার আশেপাশে।’ এদিন কলকাতা পুরসভার বিদায় বোরো চেয়ারম্যান তথা বোরো কো-অর্ডিনেটর অনিন্দ্য রাউত জানান বুধবার সকালের মধ্যেই বিপদজনক বাড়ির বাসিন্দাদের সরে যেতে হবে পুরসভার যে আশ্রয়স্থলে।

 

 

পুরসভার তরফে বিপজ্জনক বড়ির বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানানো হয়েছে। সেখানে বিপদজনক বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। তবে শহর জুড়ে বিশাল আকার হোর্ডিং এই ঘূর্ণি ঝরে বিপজ্জনক। তাই বিজ্ঞাপনের বড় হোর্ডিং খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ধারালো কোন জিনিস খোলা অবস্থায় না রাখতে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।

 

 

পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ কেউ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ প্রভাব ফেলবে তাই বিভিন্ন গঙ্গার ধারে নজরদারি চালানো হচ্ছে। যাতে কেউ গঙ্গার পারে না যায়। একই সঙ্গে বুধবার কলকাতার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে না যাবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর উত্তর বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পশ্চিমে সরে যাবে আম্ফান। পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দীঘা এবং হাতিয়া দ্বীপের কাছে অর্থাৎ সুন্দরবন এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণি ঝড়।

Related Articles

Back to top button
Close