fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গোবিন্দপুর রেল কলোনীতে মেডিকেল টিম কলকাতা পুরসভার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার গোবিন্দপুর রেল কলোনির ২৩ জন একসঙ্গে কোরোনায় সংক্রমিত। একসঙ্গে একই এলাকার এত মানুষ সংক্রমিত হওয়াতে স্বাভাবিক ভাবেই মনে করা হচ্ছে ওই এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে তাই বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় সন্দেহভাজন সমস্ত বাসিন্দার লালারস পরীক্ষা করতে বিশেষ মেডিক্যাল টিম পাঠাল কলকাতা পুরসভা। এদিকে ইতিমধ্যেই বুধবার বিকেলেই সংশ্লিষ্ট গোটা এলাকা সিল করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার এক সমীক্ষায় উঠে এসেছিল সংক্রমনের মাত্র ১৪ শতাংশ বস্তি এলাকার। বেশিরভাগ সংক্রমিত খবর আসছিল বাজার এলাকা এবং বহুতল আবাসন থেকে। কিন্তু গোবিন্দপুর বস্তির ক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে লক ডাউনের প্রথম পর্যায়ে সমস্ত রকম বিধি-নিষেধ মেনে ঘরে থাকলেও ধীরে ধীরে জীবিকার টানে তারা পথে বেরিয়েছেন। এই বস্তি এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা আবাসনে পরিচারিকার কাজ করেন। পুরুষ বাসিন্দাদের অনেকেই সিকিউরিটি গার্ড, দোকানের কর্মচারি, ট্যাক্সি চালান। সেক্ষেত্রে এই এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা সাধারন মানুষের মধ্যে যে অতি সহজেই ছড়িয়ে পড়বে সেরকমই আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তাই সংক্রমণ রুখতে বৃহস্পতিবার ৯৩ ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই কিট পরেই বস্তির ঘরে ঘরে থার্মাল গান ও পালস অক্সিমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে অসুস্থদের তালিকা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি এলাকা সিল করে অন্য বাসিন্দাদের আর্সেনিকাম অ্যালবাম বা হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন খাওয়ানোর কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।
অন্যদিকে, এই বস্তির লাগোয়া গোলপার্ক এলাকায় গোলপার্ক হাউসিং কো অপারেটিভের আবাসনে বেশকিছু পরিবার থেকে সংক্রমনের খবর মিলেছে। তবে এদের বেশিরভাগই উপসর্গহীন বা কেউ মৃদু উপসর্গ যুক্ত। এদের সকলকে হোম আইসোলেশন এ রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। গোবিন্দপুর বস্তিতে গোষ্ঠী সংক্রমণের খবর তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ঢাকুরিয়া, লেক গার্ডেনস, যাদবপুর, সেলিমপুর, যোধপুর পার্কের মতো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এরপরেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ওই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হলে বস্তি জুড়ে শুরু হয়েছে কলকাতা পুরসভার জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ অভিযান।

Related Articles

Back to top button
Close