fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আজ তৃতীয়া ভিড় সামালাতে কোমর বেঁধে পথে নামছে পুলিশ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহেও ঘরে আসছেন উমা।ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে, বাতাসে বইছে আগমনীর সুর। আতঙ্ককে সঙ্গী করেই শহরের বুকে সুর উঠেছে দেবীর আগমনবার্তা। এরই মধ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে জারি করা হয়েছে সরকারি নির্দেশও।দুর্গা পুজোর দিনগুলির নিরাপত্তার পুলিশি প্রস্তুতি শুরু। আজ থেকেই পথে নামবে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এদিন থেকেই কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করবেন দর্শনার্থীরা। কারন আজ তৃতীয়া। এদিন থেকেই কলকাতার বুকে সব মণ্ডপের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পাশাপাশি রাত জেগে ঠাকুরও দেখা যাবে। উৎসবের এই কটাদিনে আনন্দে গা ভাসাবে আপামর বাঙালি। আর তাই এদিন সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের অগ্নিপরীক্ষা।

ইতিমধ্যেই নগরপাল অনুজ শর্মা সমস্ত বিভাগীয় ডিসিদের সতর্ক থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতিমারী পরিস্থিতিতে ট্রাফিক-‌সহ সমস্ত বিভাগের পুলিশকর্মীদেরই ডিউটি করার সময় মাস্ক, ফেসশিল্ড, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে গত ৮ মাস যাবত্‍ কলকাতা পুলিশের সর্বস্তরের কর্মীরা একেবারে সামনে থেকে লড়াই করছেন। খোদ নগরপাল থেকে শুরু করে বহু পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৩ জন মারাও গেছেন। এমন পরিস্থিতিতেই দুর্গাপুজো শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কোভিড-‌আবহে কীভাবে সতর্ক থেকে কাজ করতে হবে সে ব্যাপারে পুলিশের পদস্থ কর্তারা নির্দেশ দিয়েছেন। আলাদা করে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

গত সাত মাস ধরে করোনার সঙ্গে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমনের কাজ করে চলেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের প্রায় ২৮০০ কর্মী ও অফিসার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পুজোর ক’দিনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের কাছে নিশ্চিত ভাবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তৃতীয়ার দিন থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপে মানুষের ভিড় হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজো থেকে ভাসান ও লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত কীভাবে ট্রাফিক বিভাগের কাজ পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে ১৫০ পাতার একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে ভিড় সামলানোর জন্য এবছর ‘‌স্পেশ্যাল ইন্টারভেনশন টিম’‌ পথে থাকবে।

আরও পড়ুন: পুজোর আনন্দ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে বৃষ্টি

লালবাজার সূত্রের খবর, আজ শহরের ন’টি ডিভিশনে তুলনামূলক ভাবে বড় পুজোমণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের ইস্ট ডিভিশনে চারটি, সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশনে তিনটি, সাউথ সুবার্বান ডিভিশনে চারটি, সাউথ ডিভিশনে পাঁচটি, সাউথ ইস্ট ডিভিশনে ছ’টি, নর্থ ডিভিশনে ছ’টি, সেন্ট্রাল ডিভিশনে তিনটি, ইস্টার্ন সুবার্বান ডিভিশনে দু’টি এবং পোর্ট ডিভিশনে একটি পয়েন্টে পুলিশি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর প্রতিটি পয়েন্টে এক বা সংলগ্ন একাধিক পুজো রয়েছে।

১৯ জন সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার গোটা বিষয়টি তদারকি করবেন। ৭ জন ডেপুটি কমিশনার থাকবেন গোটা কলকাতার পুজোর ভিড় ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দেখভালের জন্য। ১১টি অয়্যারলেস ভ্যান পথে থাকবে। কেউ জখম হলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৪টি ট্র‌মা কেয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ২৪ ঘণ্টাই মজুত থাকবে হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য। পুজোর নিরাপত্তা আঁটসাঁট করার জন্য গোটা কলকাতা জুড়ে ৮৯টি অতিরিক্ত ক্লোজড সার্কিট টিভি বসানো হয়েছে। সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ পথে থাকবে। ২৬টি পুলিশ কন্ট্রোল রুম ভ্যান রাখা হবে।৫২টি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হচ্ছে। ডিউটিতে থাকা প্রতিটি পুলিশ কর্মীকেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিড় কোনওভাবে যাতে জড়িয়ে না যায়, তা দেখতে হবে। এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: অতিমারীকালে বাংলাদেশের দুর্গাপুজো ২০২০

এর পাশাপাশি শোভাবাজার, এজেসি বোস রোড, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, চেতলা সেন্ট্রাল রোড, নিউ আলিপুর আইল্যান্ড, চেতলা সেন্ট্রাল রোড এবং রাসবিহারী কানেক্টরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি ট্র্যাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। যাতে কোনওভাবে যানবাহন চলাচলের রাস্তায় পথচারীরা নেমে না-পড়েন, সেটা নিশ্চিত করাটাই পুলিশের প্রথম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ববিধি বজায় রাখাটাও পুলিশের কাছে বড় চিন্তার কারণ।

কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে নাকা চেকিং এবং কোনও ধরনের অপরাধ যাতে না ঘটে, সেজন্য স্পেশ্যাল ড্রাইভ। শনিবার রাতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য ৬৪ জনকে ধরা হয়েছে। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭ জনকে। ৪০৬ লিটার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবং মাতলামোর জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০৫৫ জনকে। শনি ও রবিবার মাস্ক না পরার জন্য ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ‌

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close