fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জামবনির চিলকিগড়ে কনকদুর্গার মন্দিরে সামাজিক দূরত্ব মেনে পুজো দিলেন সকলেই

সুদর্শন বেরা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম জেলার জামবানি ব্লকের চিলকিগড় কানকদুর্গা মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য ছাগল বলি দিতে প্রতি বছর লক্ষ্য মানুষের সমাগম হতো। ভিড় সামলাতে পুলিশ ও মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের হিম সিম খেতে হতো। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতির জন্য আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নবমীর দিন রবিবার চিলকিগড় কনক দুর্গা মন্দিরে আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল পুলিশ ও মন্দির কমিটি।নিয়ম রক্ষার জন্য এবছর ও মহিষ ,ছাগল মায়ের কাছে বলি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর হাজার হাজার ছাগল বলি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় নি। যারা মন্দিরে পুজো ও ছাগল বলি দিতে এসেছিলেন তাদের সকলেই  সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেছিলেন।

মন্দির প্রাঙ্গনে যাওয়া ও আসার জন্য বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু করোনার জেরে এবছর চেনা ছবি উধাও। যেখানে প্রতি বছর লক্ষ মানুষের বেশি মানুষ চিলকিগড় কনকদুর্গা মন্দিরে পুজো ও ছাগল বলি দেখতে আসতেন ,সেখানে এবার করোনা বিধির সমস্ত নিয়ম মেনে কিছু মানুষ সামিল হয়ে ছিলেন। করোনার জন্য সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেছে। তাই করোনা বিধি মেনে মানুষ চিল্কিগড় মন্দিরে এসেছিলেন ।তবে এবার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বাস ঠিকভাবে চলাচল করেনি ট্রেন চলেনি তাই দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে পারেনি ।সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে যত কম মানুষ আসেন তারজন্য লাগাতার প্রচার করা হয়েছিল ।

তাই নিয়ম রক্ষার জন্য এবার ছাগল বলির এর অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত বিধি মেনে নবমীর দিন চিলকিগড় কনক দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। কয়েকবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন নিয়ে গিয়ে দমকলকর্মীরা জীবাণু নষ্ট করার জন্য স্যানিটাইজার করেছেন এবং রবিবার নবমীর দিন মন্দির প্রাঙ্গণে আসা প্রতিটি মানুষের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে।

যাদের মুখে মাস্ক ছিল না তাদেরকেও মাস্ক দেওয়া হয়েছে। সমস্ত আয়োজন করা হয়েছিল আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে। তবে এবারে মানুষের ঢল অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক কম। কম মানুষ আসায় খুশি মন্দির কমিটি। কারণ করোনা পরিস্থিতির জন্য সারা দেশজুড়ে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি চলছে। সেই জন্য যাতে করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করতে না পারে তাই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে কম মানুষ আসায় তারা খুব খুশি। সারাবছর মন্দির খোলা থাকবে মানুষ সুস্থ থাকলে আগামী দিনে বহু মানুষ আসবেন।

তাই সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে এবারের আয়োজন করা হয়েছিল। মন্দির কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করায় খুশি চিলকিগড় কনক দূর্গা মন্দিরে পুজো দিতে আসা সর্বস্তরের মানুষ ।শুধু ঝাড়গ্রাম জেলার নয় পশ্চিমবঙ্গ বিহার ঝাড়খন্ড রাজ্যের বহু মানুষের কাছে পরিচিত চিলকিগড় কনক দূর্গা মন্দির।ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এলে কনকদুর্গা  মন্দিরে গিয়ে অনেকেইপুজো দিতে যায় এবং মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার জন্য ছুটে যায়।  কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য চেনা ছবি উধাও ,মনে হয়নি যে আজ নবমী তাই মন খারাপ হলেও করোনার জন্য সকলেই মেনে নিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিকে।

Related Articles

Back to top button
Close