fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রত্যন্ত গ্রামের শিল্প ও সাংস্কৃতিক মঞ্চের মেলবন্ধন “ক্রান্তিগোষ্ঠী” …… আঁধারে থেকেও উষার রোশনায় আলোক সন্ধানে

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শহরের থেকে বেড়াজাল টপকে অনেকটা দূরে নিতান্তই এক প্রত্যন্ত গ্রাম দশগ্রাম। শুধু গ্রাম বললেই হবে না নিদারুণ এক সবুজ শ্যামলা। মাঠের পর মাঠ সবুজে সবুজে বিস্তৃত, এঁকে বেঁকে মোরাম পথের ঠিকানা দেওয়া ‘খড় ছাউনির’ মাটির ঘরগুলো কোনও এক শৈল্পিক প্রতিচ্ছবির কোলাজ। এখানের সাদামাটা, সহজ সরল মানুষের মনে শৈল্পিক ভাবনা কোনও অংশেই কমতি নেই, আপন মনে তাঁরা তাঁদের শিল্প, সাহিত্য, ভাস্কর্য নিয়ে নিমজ্জিত তাদের ভাবনায়। কমতি শুধু নিজেদের শৈল্পিক ভাবনা পরিস্ফূট করে সমাজে মেলে ধরার একটা মঞ্চ!! যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম বেশি করে আকৃষ্ট হতে পারে এবং মেলে ধরতে পারে তাদের প্রতিভার বিকাশ।

এমনি এক গ্রামীণ শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেওেয়ার লক্ষ্যে একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে সঙ্গে নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষক, শিল্পী, কবি ও সাহিত্যক শ্রী মৃত্যুঞ্জয় পাল মহাশয় ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “ক্রান্তিগোষ্ঠী” নামে এক মিলন সঙ্ঘ।
এঁদেরই সম্মিলিত প্রয়াসেই ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সবং এর দশগ্রামে “কমলা আর্ট গ্যালারি”। যা এই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিরলতম প্রতিষ্ঠান।

২০১৬ সালের ২৮আগস্ট এই মহান ব্যক্তিত্ব মৃত্যুঞ্জয় পাল পরলোক গমন করেন। তারপরে “ক্রান্তিগোষ্ঠী” ওঁনার মতাদর্শ কে সামনে রেখে বিশিষ্ট কিছু গুণী জনেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে নতুন প্রভাতে উষার আলোর সন্ধানে।
ক্রান্তিগোষ্ঠী র এক বিশিষ্ট হস্তশিল্পী ও লেখক শ্রী অমিতাভ পাল বাবু বলেন – “আমাদের এই আর্টস গ্যালারি শোভা পাচ্ছে গাছের শেকড়, কাঠমূড়া, বাঁশ, বাঁশমূড়া, বাঁশকঞ্চি ও গ্যাংটাল শিল্প।

ফেলে দেওয়া জিনিসের ওপর তৈরি শিল্পও এখানে স্থান পেয়েছে। শিল্পকর্ম গুলি প্রয়াত আমার পিতা শিল্পী মৃত্যুঞ্জয় পাল সহ সংস্থার অন্যান্য শিল্পীরা নিজের হাতে তৈরি করেছেন। এছাড়াও সমগ্র আর্ট গ্যালারি জুড়ে রয়েছে অসংখ্য মনীষীদের দুষ্প্রাপ্য সব ছবি শিল্পীরা নিজের ভাবনায় তুলি টেনেছে। আর্ট গ্যালারি প্রবেশ দ্বারের সম্মুখে একপাশে প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুঞ্জয় পাল অন্য পাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিবেকানন্দের আবক্ষ মূর্তি অবস্থান করে আছে। মূর্তিগুলো নির্মিত হয়েছে সংস্থার ভাস্কর শিল্পীদের দ্বারা। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাতা দিন ধরে আমরা শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক মঞ্চ অনুষ্ঠান উদযাপিত করি, সুপ্ত নতুন প্রতিভা গুলো হারিয়ে না গিয়ে উন্মোচন ঘটে আরও বেশি করে আকৃষ্ট হয় সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে” গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিভাগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে,উপযুক্ত পরিবেশ ও বিকাশের সুযোগের অভাবে। কেন এই প্রতিভা গুলো হারিয়ে যাবে? কেন গ্রামে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং পরিবেশ গড়ে উঠবে না? কেন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও শিল্প সংগ্রহশালাগুলো শুধু শহর কেন্দ্রীকই গড়ে উঠবে ? এই প্রশ্নগুলো তো ছিলই,.. সেই সঙ্গে গ্রামীণ প্রতিভাগুলো হারিয়ে যাওয়ার ছিল মানসিক যন্ত্রণাও!!

আরও পড়ুন:বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই ৩৩ তলা আবাসন, ১৩৬টি পরিবারকে সরানো হল নিরাপদ আশ্রয়ে

ক্রান্তিগোষ্ঠীতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাস্কর ও শিল্পী — রতন সামন্ত, শ্রেষ্ঠ বাচিক শিল্পী ও কবি — রবিন পাল,দেবাশীষ মান্না, নাট্যকার-গীতিকার- সুরকার ও ছড়াকার — যুগ্ম সভাপতি সুহৃদ বিলাস দাস, কবি ও গীতিকার — শেখ আকবর, কবি – সম্পাদক অজিত বেরা, শৈবাল ঘোষ, মানসী পাল, কৃষ্ণা পাল, সুপর্ণা রায়, রবীন নায়েক, ছড়াকার – গধাধর সাউ, শিল্পী ও কবি — পিনাকি মিশ্র, মলয় সামন্ত, দুষ্মন্ত আদক, সঙ্গীত শিল্পী — সভাপতি শাশ্বতী পাল, অনন্যা মাইতি, দীপক দাস,রবিন্দ্রনাথ দাস, এবং নাট্যভিনেতা — রবীন্দ্রনাথ মন্ডল অন্যান্যরা সহ একঝাঁক শিল্পী যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশে নিমগ্ন। তারা প্রত্যেকেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক আবহের পরিমণ্ডলে রচনা করার মহান আদর্শে উৎসর্গীকৃত। সামনে তাদের একটাই মন্ত্র চরৈবেতি চরৈবেতি।

Related Articles

Back to top button
Close