fbpx
কলকাতাহেডলাইন

অন্ধকার পেরিয়ে আশার আলো দেখছে কুমোরটুলি…… আসছে ঠাকুরের বায়না

শ্রেয়শ্রী ব্যানাজী, কলকাতা: অন্ধকারের পথ পেরিয়েই আলোর সন্ধান মেলে! প্রায় তিন মাস পর কুমোরটুলি আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। রথের চাকা গড়াতেই অন্য বার দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে। করোনা-আবহে এবার আর তা হওয়ার অবকাশ নেই। করোনা আর লকডাউনের জেরে এবার পুজোর বাজারে ভাঁটা। কলকাতার কুমোরটুলিতেও তাই বায়নাদারদের ভিড় নেই। কিন্তু তার মাঝেও পুজোর বায়না শুরু হয়েছে আনলক পর্বে। কাঠামো পুজোও সারা হল রথের দিনে। কাঁচামাল সংগ্রহের কাজ চলছে। ভিন রাজ্যের কারিগররা কুমোরপাড়ায় ফিরে আসছেন কাজের টানে।

করোনা ও আমফান— এই জোড়া বিপর্যয়ে উত্তর কলকাতার ওই কুমোরপাড়ার জনজীবন একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। না ছিল কাজ, না ছিল আয়। ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা নিজেদের পুঁজি ভেঙে খরচ চালাচ্ছিলেন। বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো উদ্যোক্তারাও সাহায্য করেছেন এই তিন মাস শিল্পীদের। কিন্তু পুজোর বায়না প্রায় কিছুই হয়নি। বিদেশের পুজোর বরাতও জানুয়ারি মাসের পর আর আসেনি। বচ্ছরকার পুজোর কাজ কি এবার তবে বন্ধই থাকবে? এই উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার দোলাচলে দিন কাটছিল কুমোরটুলির শিল্পীদের। আনলক পর্বে দোকানপাট খুললে শুরু হল পুজো উদ্যোক্তাদের আনাগোনা। প্রতিমার বরাত দিয়ে যেতে লাগলেন একে একে। বাজেট অবশ্য সবারই এবার কম।

বর্তমানে দাঁড়িয়ে যে দিকে চোখ যায়, দেখা গিয়েছে চোখ ঝলসানো থিমের বাহার, শহরের বুক থেকে প্রায় হারয়ে যেতে বসেছে সাবেকিয়ানার সেই পুরনো ছবি। করোনার আবহে ধাক্কা খেয়েছে থিমের বাজার।একটু একটু করে ফের অর্ডার পেতে শুরু করেছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। আর এই সব অর্ডারের সিংহভাগই কলকাতার বারোয়ারি পুজোর প্রতিমার বায়না। আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে আসল চমক। থিমের মূর্তির জায়গায় ফিরে এসেছে সাবেক একচালার মূর্তির চাহিদা।থিম পুজোর বাজেট জোগাড় করা যে সম্ভব নয় সেটা বুঝেই কলকাতার হাতেগোনা কয়েকটি পুজো কমিটি ছাড়া বাকি সবাই ছোট করে পুজো করার আয়োজন করছে। তার জেরেই বেড়েছে সাবেক মূর্তির চাহিদা।আর এর থেকে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা।

এক শিল্পী চায়না পালের কথায়, ‘‌প্রায় ৩০-‌৩৫টা অন্নপূর্ণার মূর্তি এবার বিক্রি হয়নি। শীতলা মূর্তিও অবিক্রিত থেকে গেছে।তাতে ক্ষতি হয়েছে। অন্য বছরের মতো এ বারে যে একেবারেই বায়না হবে না, সেটা নিশ্চিত। তবে আনলক পর্বে একটু একটু করে ব্যবসা আসছে, তাতে অনেকটাই আশায় বুক বাঁধতে পারছি।কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবছর বায়না কম আসছে। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, আমফানের জেরে ক্ষতি হয়েছে কাঁচামালের তার জেরে এবার দ্বিগুণ দাম দিয়ে জিনিস কিনতে হচ্ছে। এবছর প্রতিমার দামও বৃদ্ধি পেয়েছ’। কুমোরটুলির অন্য এক মৃতশিল্পীর বক্তব্য, ‘‌আমরা কার্যত আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। রথের পরে অন্তত কিছু বায়না আসতে শুরু করেছে।’‌

আরও পড়ুন: শহরে করোনা আবহে চালু হলো ‘ ওয়াটার বাস’

কুমোরটুলি বলছে, একসময়ে মনে হয়েছিল, করোনা-আবহে মনে হয় দুর্গাপুজো এবার আর হবেই না। রথের পরে এটা অন্তত মনে হয়েছে, এ বারেও জাঁকজমক না থাকলেও দুর্গাপুজো অন্তত হবে। সব মিলিয়ে ফের সাজো সাজো রব কুমোরটুলিতে। কুমোরটুলি থেকে প্রায় ২০০টি দুর্গা প্রতিমা প্রতি বছর বিদেশ পাড়ি দেয়। এপ্রিলের মধ্যেই বাইরের প্রতিমার বায়না শেষ হয়। জুন থেকেই জাহাজে বা প্লেনে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। এ বছর মাত্র ২৫-‌৩০টার মতো বিদেশের পুজোর বায়না এসেছে কুমোরটুলিতে। করোনার জেরে এবার বাঁধ সেজেছে মা বিদেশে পাড়িতে।

আবার অন্য দিকে বলা যেতে পারে মা দূর্গাও মর্তে এবার সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেই চলবেন।তাই এবার কলকাতার বারোয়ারি পুজোর প্রতিমার বায়না মিলছে বেশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইন বিধি মেনে চলছেম স্বয়ং দেবী দূর্গা। তাছাড়া আর কো্নও উপায়ও নেই। যদি স্বপরিবারে মর্তে প্রবেশের মুখেই আইন না মানার জন্য আটকে দেয়, তাহলে তো মজাটাই মাটি…

 

 

Related Articles

Back to top button
Close