fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের জের, সদ্যোজাতকে নিয়ে আটকে শ্রমিক মা, সাহায্যার্থে এগিয়ে এল ক্লাব সংগঠন

অসীম বেরা, ঘাটাল: করোনা আতঙ্কে সদ্যোজাতকে       নিয়ে চরম বিপাকে মা। করোনা আতঙ্কে লকডাউনের মাঝেই সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো পরিজায়ী শ্রমিক  ও সদ্যোজাতের সাহায্যার্থে এগিয়ে এল ক্লাব সংগঠন।

জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় চন্দ্রকোনার ভবানীপুর গ্রামে লকডাউনের আগে দিনমজুরের  কাজ করতে আসে বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধের চুরকি গ্রাম থেকে এক দম্পতি, গৌতম সরেন ও সোনালী সরেন । গৌতম স্ত্রী সোনালী গর্ভবতী হওয়ার কারণেই লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরেই পন্যবাহী গাড়িতে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তারা। কিন্তু করোনা আতঙ্কে নিজের গ্রাম বাঁকুড়া জেলার চুরকি গ্রামে  প্রবেশ করতে পারেনি তারা। করোনার ভয়ে গ্রামবাসীরা তাদের গ্রামে ঢুকতে দেয়নি। পুনরায় ফিরে আসতে হয় তাদের চন্দ্রকোনায়। অবশেষে প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে শুক্রবার চন্দ্রকোনার ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন সোনালী,আর সেই দিনি তার একটি পুত্র সন্তান হয়।

স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে স্বামী পুনরায় বাঁকুড়া চুরকি গ্রামে যান সচিত্র পরিচয় পত্র আনতে। তারপর থেকেই গৌতমের সাথে সোনালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সোমবার হাসপাতাল থেকে সোনালীকে ছেড়ে দেওয়া হলেই দেখা দেয় চরম বিপত্তি। চন্দ্রকোনার ভবানীপুর এলাকায় সোনালী নিজের এক আত্মীয়ার বাড়িতে গেলেও করোনা আতঙ্ক ( হাসপাতাল ফেরত) এতেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে, ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দারা সোনালীকে গ্রামে থাকতে দিতে নারাজ। এতেই চরম বিপাকে পড়ে সোনালী। এই দুর্দশার কথা খবর গিয়ে পৌঁছায় ভবানীপুরের গ্রামের এক ক্লাব সংগঠনের কাছে।

মঙ্গলবার গ্রামের ক্লাব সংগঠনের কয়েকজন  যুবকেরা,পাড়ায়  গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে এলাকাবাসীদের  কিন্তু  করোনা আতঙ্কের জেরে এলাকাবাসী বহীরাগতকে গ্রামে থাকতে দিতে নারাজ।স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গেলেও চিঁড়ে ভিজেনি।  কোন সমাধানের পথ না পেয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব  ও ক্লাব সংগঠনের ছেলেরা নিজেদের ক্লাবে নিয়ে আসেন সোনালী ও তার সদ্যোজাতকে।থাকা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন তারা। যতদিন লকডাউন না কাটে ততদিন  এই ভবানীপুর তুফান সংঘ ক্লাব  হল তাদের বাসস্থান। ক্লাব সংগঠনের এই মহতি উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের আধিকারিক থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা। ঘটনা জানতে পেরে তারা দ্রুত ক্লাব সংগঠনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অভিষেক মিশ্র বলেন, আমরা দ্রুত ওই মহিলাকে সব ধরনের সাহায্য করবো লকডাউন চলাকালীন।

Related Articles

Back to top button
Close