fbpx
অসম

নোংরা রাজনীতির স্বীকার লক্ষীপুর মহকুমা

নৈতিক শীল,লক্ষীপুর:  উনিশোবিড়ান্নবই-সালের মহকুমায় নেই কোনো সঠিক পরিকাঠামো l প্রথম অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা l কিন্তু পরবর্তী সময় সেই ব্যবস্থা কোথায় হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা l

উনিশোবিড়ান্নবই-সালে আসাম রাজ্যের তিনটি সমষ্টিকে মহকুমায় উন্নীত করা হয় l এরমধ্যে ছিল লক্ষীপুর সমষ্টিও l লক্ষীপুরে অনেক কর্মী এসেছেন l পরিস্থিতি দেখে বলেছেন,লক্ষীপুরের সঙ্গে অন্য যে দুটি সামষ্টিকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়েছিল l সেই দুটি মহকুমায়ও তারা কাজ করে এসেছেন l
কিন্তু লক্ষীপুরের মত অবহেলিত মহকুমা তারা কখনও দেখেন নি l তাদের কথায়,লক্ষীপুর মহকুমা ও ওই দুটি মহকুমায় দিনরাত তফাত রয়েছে l তুলনামূলকভাবে কিছুই নেই লক্ষীপুর মহকুমায় l কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে লক্ষীপুরের ক্ষেত্রে কেন এই অবহেলা ?
লক্ষীপুর থেকে জেলা সদরের দূরত্ব বিভিন্ন স্থানের কমেও পঞ্চাশ কিলোমিটার l উনিশবিড়ান্নবই-সালে লক্ষীপুর মহকুমায় উন্নীত হলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের লোকেরা সেই দূরত্ব অতিক্রম করেই প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে যাচ্ছেন জেলা সদর কার্যালয়ে l কিন্তু কেন ?
করোনা মহামারী থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে l ব্যাতিক্রম নয় আসাম রাজ্যেও l আসাম রাজ্যের প্রতিটি জেলার সঙ্গে সঙ্গে মহকুমাগুলির উপরও সমানতালে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্যে সরকার l কিন্তু এই সংকটকালীন সময়েও যেন লক্ষীপুর মহকুমা গুরুত্বহীন অবস্থায় পরে আছে l যারফলে লকডাউন বলবত থাকা অবস্থায় বাইক নিয়ে মিছিল,রেশন কার্ড না থাকা লোকেদের নামে বরাদ্দকৃত নগদ এক হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে স্মারকপত্র,অবৈধ কোয়ারাণ্টাইন সেন্টার ইত্যাদি খুললেও নেই কোনো বাধা l আবার সরকারি সচেতনতায় দারস্থ হলেও প্রাক্তন পুরনেত্রীর মতো সম্মানিত মহিলাকে শুনতে হয় গেটআউট শব্দ l এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ি কে ?
সম্প্রতি এর সঠিক উত্তর পাওয়া না গেলেও অনেকের সটান দাবি,এর জন্য দায়ি লক্ষীপুরের নোংরা রাজনীতি l কংগ্রেস সরকারের আমলেও নোংরা রাজনীতির স্বীকার হয়েছিল মহকুমার অস্তিত্ব l আর এখনও সেই নোংরা রাজনীতির ফলে পুনরায় মহকুমার অস্তিত্ব মাঠেমারা খাচ্ছে l
তাদের অভিযোগ,প্রশাসন ব্যবস্থাকে সঠিক করে তুলার চেস্টা করেছিলেন প্রদীপ কুমার গুপ্তা l কিন্তু শাসক দলের বহিরাগত এক নেতার স্বার্থসিদ্ধিতে হঠাত্ প্রদীপবাবুকে বদলি করে দেওয়া হয় l যারফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনরায় অচল হয়ে পরে l তবে সরকারের স্বচ্ছ নীতির উপর আস্থা রেখে তারা বলেন,সরকার লক্ষীপুর মহকুমার বিষয়ে অবগত নয় l এই স্বার্থবাদী নেতারা নিজের স্বার্থ আদায় করতে সরকারের কাছে বিষয়টি লুকিয়ে রেখেছেন বলেই মহকুমার এমন অচলাবস্থা l
উল্লেখ্য,প্রদীপ কুমার গুপ্তা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে লক্ষীপুরে যোগদান করেছিলেন l পরবর্তী সময় সার্কল অফিসারের দায়িত্ববার সামলান l সময় সময় তাকে দেওয়া হয় ভারপ্রাপ্ত মহকুমাশাসকের দায়িত্বও l এরপর হঠাত্ লক্ষীপুরের ভারপ্রাপ্ত মহকুমাশাসক হিসাবে দায়িত্ব সমঝে নেন অতিরিক্ত জেলাশাসক রাজিব রায় l তিনি আসার পর শুরু হয় পুরসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরির কাজ l তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় সার্কল অফিসার প্রদীপ কুমার গুপ্তাকে l কিন্তু কাজ শেষ হয় নি l এরআগেই প্রদীপবাবুকে বদলি করে সার্কল অফিসারের দায়িত্বে আনা হয় লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টির সাইসেল পুঞ্জির বাসিন্দা এল খিংতেকে l এরমধ্যে লকডাউন ঘোষনা হওয়ায় রাজিব রায় চলে যান শিলচরে l ভারপ্রাপ্ত মহকুমাশাসকের দায়িত্ব পান এল খিংতে l লকডাউনে অতিরক্তি জেলাশাসক পদে পদোন্নতি হয় এল খিংতের l তথ্য মতে,লেটারে লক্ষীপুরে প্রদীপ কুমার গুপ্তা ও পাথারকান্দিতে এল খিংতেকে পদোন্নতি করার নির্দেশিকা জারি করা হয় l এরপর খিংতে লক্ষীপুরে থাকার তত্পরতা চালান l অবশেষে ওই শাসকিয় দল নেতার প্রচেষ্টায় তিনি সফল হন বলে জানা গেছে।

Related Articles

Back to top button
Close