fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ধস কবলিত এলাকার পুনর্বাসন বিশ বাঁও জলে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ফের ধসের কবলে আস্ত একটি গ্রাম। হুড়মুড়িয়ে ভাঙল ঘরবাড়ী৷ ফাটল ধরল একাধিক বাড়ীতে। আতঙ্কে দিশাহীন অন্ডালের হরিশপুর গ্রাম। পুনর্বাসনের দাবীতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অবরোধ করল জাতীয় সড়ক। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল ২ নং জাতীয় সড়কের ওপর অন্ডালের কাজোড়ায় ইসিএলের এরিয়া অফিস এলাকায়। খনি অঞ্চলের ধস কবলিত এলাকার পুনর্বাসন বিশবাঁও জলে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই অন্ডালের হরিশপুর গ্রামে যাওয়ার রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়। তার দুদিন পরই আবারও গ্রামের ঘোষ পাড়ায় ধস নামে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বাড়ী। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে ঘুম ছুটে যায় গ্রামবাসীদের। প্রাণ ভয়ে অনেকে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেন। সোমবার ভোরের দিকে আবার গ্রামের একাংশে ধস নামে। প্রায় ৫০ টির মত বাড়ী ভেঙে পড়ে। গ্রামে ঢোকার রাস্তা বসে পড়ে। ফাটল ধরে একাধিক বাড়ীতে। ধস আতঙ্কে বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। পুনর্বাসনের দাবীতে ২ নং জাতীয় সড়ক ও কাজোড়া এরিয়া অফিস ঘেরাও করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। ফলে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা পরিস্থিতি সামাল দেয়।

[আরও পড়ুন- লকডাউনের সুফল মিলছে উদয়নারায়ণপুরে, সংক্রমণের হার কমছে]

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “তালিকায় থাকলেও পুনর্বাসন এখনও না হওয়ায় জীবন বিপন্ন।” উল্লেখ্য, এক মাস আগেই অন্ডালের  জামবাদ কোলিয়ারি এলাকায় ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসনে ধস নামে। তলিয়ে যায় বেশ কয়েকটি আবাসন। তাতে মৃত্যু হয় ১ মহিলার। অতীতের ধসের ঘটনা আবারও খনি অঞ্চলবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে জামুড়িয়ার ছাতিমডাঙায় আস্ত গ্রামের একাংশ ধসে তলিয়ে গিয়েছিল। ঘটনায় ৪ জন দেওয়াল চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল। ওই বছরই অন্ডালের পরাশকোলে ২ শিশু সহ চারজন তলিয়ে গিয়েছিল।

এরপরেই হরিশপুরের ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে, ধস কবলিত এলাকার সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিয়ে। মাস কয়েক আগেও দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে পুনর্বাসনের খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে সিটু নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ হারাধন রায় পুনর্বাসনের দাবীতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। ওই মামলার প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক ধসকবলিত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য ২,৬৬২ কোটি টাকা অনুমোদন করে। এডিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৪১ টি এলাকা ধস কবলিত বলে চিহ্নত হয়। যার মধ্যে ৩ টি এলাকা ইসিএল নিজে পুনর্বাসনের কাজ করে। ২ টি এলাকা সার্ভে করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বাকি ১৩৬ টি এলাকার পুনর্বাসনের কাজ শুরু করে এডিডিএ। সিটু নেতা গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, “গ্রামের পাশে অবাধে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন চলছে। তাছাড়াও পুনর্বাসন না দিয়ে গ্রামের পাশে খনি থেকে ইসিএলের কয়লা উত্তোলনের ফলে মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। একই সঙ্গে ইসিএল ও রাজ্য সরকার ধস কবলিত মানুষদের পুনর্বাসন দিতে ব্যর্থ।” তিনি আরও জানান,” ইসিএল এবং রাজ্য সরকার অবিলম্বে পুনর্বাসন দিক ধস কবলিতদের। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে আর্থিক ক্ষতি পুরন দিক।”

[আরও পড়ুন- লকডাউনের সুফল মিলছে উদয়নারায়ণপুরে, সংক্রমণের হার কমছে]

বিধায়ক তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি জানান, “ধস কবলিতদের পাশে রাজ্য সরকার সর্বদা রয়েছে। ইসিএলের অপরিকল্পিত মাইনিংয়ের ফলে ধস। অপরিকল্পিত মাইনিং ও আউট সোর্সিংয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল বলে সিপিএম হারাধন রায়কে দল থেকে বের করে দিয়েছিল। প্রথমে তাদের হারাধন রায়ের মৃত আত্মার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তারপর তাদের অভিযোগ করা উচিত।” যদিও পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজি জানান,” দুর্গত পরিবারগুলিকে এই মূহুর্তে একটি স্কুলে শিফট করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ইসিএলের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামবাসীদের ইসিএলের খালি আবাসনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্ডালে প্রায় ৫ হাজার পুনর্বাসনের ফ্ল্যাট তৈরীর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস নাগাদ কাজ শেষ হয়ে যাবে।”

Related Articles

Back to top button
Close