fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চারদিন বাড়িতে রয়েছেন করোনা রোগী, আতঙ্কে পথ অবরোধ বাসিন্দাদের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের উদাসীনতার ছবি দেখা গেল নদীয়ার চাকদার পূর্ব বিষ্ণুপুর এলাকার খেয়াইতলায়। চারদিন ধরে বাড়িতেই রয়েছেন করোনা রোগী। আতঙ্কে স্থানীয়রা।

কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীকে পাড়া থেকে হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়ায় পথ অবরোধ করলেন খেয়াইতলার বাসিন্দারা। চাকদার খেয়াইতলা। বেশ বড় গ্রাম। চাকদা-বনগাঁ রোডের বিষ্ণুপুর থেকে প্রায় ২কিলোমিটারের পথ। সরু আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছানো গেল খেয়াইতলায়। গ্রামে যেতেই গ্রামবাসীরা ঘিরে ধরলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, চারদিন ধরে বাড়িতেই রয়েছেন করোনা রোগী। প্রশাসনকে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। অযথা আতঙ্কিত হবেন না, আশ্বস্ত করার পরও কোনো কথাই কানে নিলেন না বাসিন্দারা। একটাই কথা, অবিলম্বে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হোক ওই করোনা রোগীকে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার পর পৌঁছানো গেল ওই করোনা রোগীর বাড়ির সামনে। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে ডাকার পর বাড়ি দরজায় এসে দাঁড়ালেন ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর বাবা।

তিনি বলেন,” তাঁর ছেলে করোনা পজিটিভ। মহারাষ্ট্রে থাকতেন। ১১ দিন আগে বাড়ি ফেরে ছেলে। কিছুদিন পর জ্বর আসায় কোভিড পরীক্ষা করানো হয় তাঁর। গত শনিবার তাঁর ছেলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর স্বাস্থ্য দফতর থেকে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দুবড়ার প্রধানকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।” এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি।
পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন কোভিড আক্রান্তের বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, “প্রতিবেশীরা কোনো সাহায্য করছেন না। বাজার যেতে পারছেন না। ফুরিয়েছে খাবার। কোনো সহযোগিতা মিলছে না তাঁদের কাছ থেকে।”

যদিও সেই অভিযোগ মেনে নিলেন গ্রামবাসীরা। আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাঁদের। তাই দূর থেকেও তাঁদের সাহায্য করতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। এতেই স্পষ্ট এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। সাংবাদিক হিসেবে বাসিন্দাদের সচেতন করার চেষ্টা করার পর তাঁরা সাহস পেলেন। প্রতিশ্রুতি দিলেন আক্রান্তের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। অবশ্যই সরকারি নির্দেশ পালন করেই তাঁরা সাহায্য করবেন বলে জানালেন গ্রামবাসীরা।
ইতিমধ্যে ওই এলাকার বাসিন্দারা অবরোধ করেছেন চাকদা-বনগাঁ রোড। দাবি, অবিলম্বে ওই করোনা রোগীকে নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে। দীর্ঘ ২ ঘন্টা অবরোধ করেন তাঁরা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সেই রাস্তা। এদিকে এই পথ অবরোধে সামিল হয়েছিলেন দুবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য অনাথবন্ধু মজুমদার।

তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতের ব্যর্থতা রয়েছে। তিনিও বারবার পঞ্চায়েতে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এমনকি প্রশাসনের উদাসীনতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।”এই অবরোধের জেরে অবশেষে বাধ্য হয়েই প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের উদ্দ্যোগে নিয়ে যাওয়া হয় ওই করোনা আক্রান্ত রোগীকে। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা।
এদিকে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, নদীয়ায় কন্টেন্টমেন্ট জোন ৮৩ টি। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮১ জন। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। যা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে প্রশাসনের।

Related Articles

Back to top button
Close