fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণবিনোদনহেডলাইন

গান স্যালুটে অন্তিম শ্রদ্ধা, দিকশূন্যপুরের দিকে যাত্রা করলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্কঃ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল শেষকৃত্য। গান স্যালুটে গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাল

রাজ্য সরকার। রবীন্দ্রসদন থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশান পর্যন্ত এদিন হেঁটে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরলোকে মায়া কাটিয়ে অমৃতলোকে যাত্রা করলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। শিল্পীকে একবার চোখের দেখা দেখতে অগণিত মানুষ হাঁটলেন শ্মশান পর্যন্ত।

১৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সাড়ে সাতটার সময় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদস্পন্দন থেমে যায় গীতশ্রী’র। হাসপাতাল থেকে সেদিনই সন্ধ্যা বুলেটিনে জানানো হয়, অবস্থা সংকটজনক। যে জায়গায় অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেখানে ব্যথা বাড়ছে। আর তার কিছুক্ষণ পরেই থেমে যায় সব কিছু।

সুরের জগতে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এক কিংবন্দন্তী শিল্পী। সাদা-কালো যুগে অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের লিপে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান ছাড়া কিছু ভাবাই যেত না সেই সময়।

বাংলা গানের সোনালী যুগের কথা উঠলে প্রথমেই যাঁদের সুরেলা কণ্ঠের কথা মনে পড়ে তাঁদের অন্যতম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। শ্রোতাদের মনে তিনি তাঁর গান দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

‘আমাদের ছুটি ছুটি’ এবং ‘ওরে সকল সোনা মলিন’ হল গান দুটির জন্য ১৯৭১ সালে সেরা মহিলা প্লে ব্যাক সিঙ্গার ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন পণ্ডিত সন্তোষকুমার বসু, এটি কানন, অধ্যাপক চিন্ময় লাহিড়ীর কাছে। এছাড়াও গুরু হিসেবে পেয়েছেন উস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খান, এবং তাঁর পুত্র মুনবব্বর আলি খানকে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দীর্ঘ শিক্ষার পর একসময় আসেন প্লে ব্যাক সিঙ্গিং-এ। ১৯৪৮ সালে ‘অঞ্জন গড়’ ছবিতে প্রথম প্লে ব্যাক করেন। এছাড়া মোট ১৭ হিন্দি ফিল্মে প্লে-ব্যাক সিঙ্গারের ভূমিকায় পাওয়া যায় শিল্পীকে।

গত ২৬ জানুয়ারি রাত থেকেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ২৭ জানুয়ারি অবস্থার অবনতি হয়। গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম-এ নিয়ে আসা হয়। সেই সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। হাসপাতালে তরফে জানা যায়, ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে,  রয়েছে হৃদযন্ত্রের সমস্যাও।  এসএসকেএম থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

অ্যাপোলো হাসপাতালে কিছুটা শারীরিক সমস্যার উন্নতি হয়। করোনা মুক্ত হন তিনি।শিল্পীর পর্যবেক্ষণে ছিলেন পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম। কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার সুশান মুখোপাধ্যায়, কার্ডিওলজির প্রধান ডাক্তার প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল, এবং ডাক্তার দেবরাজ যশ (পালমনোলজি), ডাক্তার সুরেশ রামাসুব্বন (ক্রিটিক্যাল কেয়ার) ও বিডি চট্টোপাধ্যায় (অর্থোপেডিক্স)-এর বিশেষজ্ঞ দল।  চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চলছিল গীতশ্রী চিকিৎসা। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন গীতশ্রী।

Related Articles

Back to top button
Close