fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

গান স্যালুটে অন্তিম শ্রদ্ধা সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে, পঞ্চভূতে বিলীন নশ্বর দেহ

যুগশঙ্খ,  ওয়েবডেস্কঃ রাস্তায় অগণিত মানুষের সাড়ি, হাঁটছে তারা। কারণ সামনে চলেছে কমভয়। আর সেই গাড়িতে রয়েছেন এক নেতা। আজ যিনি চিরঘুমে। তাঁকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ থেকে দলের অনুগামী ও বিরোধীরাও। অন্তিম শয্যায় শায়িত রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। যাঁর জীবন দ্বীপ নিভে গেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯’টা নাগাদ। আজ, শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটের পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁকে গান স্যালুটে অন্তিম বিদায় জানালো রাজ্যের মানুষ। শুক্রবার প্রিয় নেতাকে শেষ দেখা দেখতে রবীন্দ্রসদন, বিধানসভা, বালিগঞ্জের বাড়ি, একডালিয়া এভারগ্রিনে ছিল মানুষের ঢল।

সদা হাস্যময়, কৌতুকপ্রিয় মানুষ তুখোড় রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের (subrata Mukherjee) বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার। আর সেইদিন তিনি যাত্রা করলেন না ফেরার দেশে। ভাইফোঁটা বাড়ি আসছি বলে বোনের কাছে নাড়ু খেতে চেয়েছিলেন, গোয়া থেকে শারীরিক অসুস্থতার খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম-ছুটে যান তার সুব্রত দা’কে দেখতে। মমতা দেখেই সুব্রত জানিয়েছিলেন, গোয়ায় প্রোগ্রাম দে, আর শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে না।

না, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কোনও আবদার পূরণ হল না। দিনশূন্যপুরের দিকে যাত্রা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানাল একডালিয়া এভারগ্রীন, বালিগঞ্জের বাড়ি থেকে সাধারণ মানুষ।

দলের অনুগামী থেকে বিরোধীরা সবাই এক বাক্যে বলেছেন বাংলার রাজনীতিতে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এক অভিভাবক চলে গেলেন।

শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘জীবনে অনেক বিপর্যয় দেখেছি, কিন্তু সুব্রত দা’র চলে যাওয়া আমার কাছে চরম বিপর্যয়। আমি সুব্রত দা’র দাহ দেখতে পারব না। যাঁরা আমার খুব প্রিয় মানুষ হয়, তাঁদের দাহ আমি দেখতে পারি না।‘

ফিরহাদ হাকিমের কথায়, ‘আমাদের উত্তম কুমার ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। আমাদের হিরো ছিলেন, ছোটবেলায় ওঁনাকে দেখেই বড় হয়েছি’।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, এক অভিভাবক চলে গেলেন। বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে তার মতো মানুষ এখন খুব একটা দেখা যায় না।

রাজনীতি বাইরে তিনি ছিলেন একা আলাদা মানুষ। সবসময় হাসিমুখ, ফ্যাসফ্যাসে গলায় মজার সব টিপ্পনি। বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট এলাকায় সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলতে, সকলের প্রিয় সুব্রতা দা।  পরিষদীয় রাজনীতিতে ৫০ বছর ইতি টানলেন তিনি। বিধায়ক, মন্ত্রী হয়েও বালিগঞ্জের মানুষের কাছে তিনি পাশের বাড়ির ছেলে হয়েই থেকে গিয়েছেন।

দীপাবলির আগেই গত ২৪ অক্টোবর  সকালে বাড়িতেই অসুস্থ বোধ করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee)। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে কার্ডিওলজি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই তাঁকে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন মন্ত্রী।পরে তাঁকে নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন বা বাইপ্যাপ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। অক্সিজেনও দেওয়া হয়। ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়। ধমনীতে স্টেন্ট বসানোর পরেও অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। একসপ্তাহ ধরে ICCU-তে কাটানোর পর হার মানলেন রাজ্যের মন্ত্রী।

ষাটের দশকে কংগ্রেসী ঘরানার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ছাত্র রাজনীতি দিয়েই রাজনৈতিক জগতে প্রবেশ। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সঙ্গেই উত্থান তার। ১৯৭২-১৯৭৭ তথ্য সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী ছিলেন।  কাজ করেছেন সিদ্ধার্থশংকর রায়ের সঙ্গে। কলকাতার ৩৬ তম মেয়র তিনি। ২০০০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত মেয়র পদে সাফল্যে সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের প্রশংসাও করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।  ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গেও সুব্রত মুখোপাধ্যায় খুব স্নেহ করতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে হাতেখড়ি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের সারেঙ্গাবাদের ছেলে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কলকাতায় অ্যানথ্রোপলজিতে বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজি-তে মাস্টার্স। এর পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা   মিউসিওলজি বা মিউজিয়াম স্টাডিজে।

Related Articles

Back to top button
Close