fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

চোখের জলে শেষ বিদায় ‘ছোড়দা’ সোমেন মিত্রকে

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ভক্ত, কর্মী, রাজনৈতিক ভাই, ও সতীর্থদের চোখের জলে বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতিকে চীর বিদায় জানালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। সেই সঙ্গে বাংলার রাজনীতি থেকে নক্ষত্র পতন ঘটল।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৮ বছর বয়সি সোমেন্দ্র নাথ মিত্র। যিনি সকলের ছোড়দা নামে পরিচিত। একটা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ থেমে গেল এদিন। স্মরণে, শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবকে ভরে গেল তাঁর শেষ যাত্রা। সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ট্যুইট করে শ্রদ্ধা জানান। এদিন রাজ্যপাল টুইটে লেখেন, ‘সোমেন মিত্রর প্রয়াণে আমি শোকাহত। সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে আমার বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরামর্শ কাজে লেগেছে। বাংলা তাঁর অবদান ভুলবে না। ইশ্বরের কাছে তাঁর আত্মার সদগতি কামনা করি।’

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল রাতে ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ভর্তি ছিলেন। গত কয়েকদিন যাবৎ চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন বলে, হাসপাতাল সূত্রে খবর। আচমকাই, গতকাল রাতে অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১টা ৫০ নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। এদিন ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বহু মানুষ যাত্রা পথের শরিক হন।

বেলা ১১:৩০ নাগাদ প্রথমে বেলভিউ হাসপাতাল থেকে বিধান ভবনে আনা হয়। এই বিধান ভবন তার জীবনের বহু যুদ্ধের শরিক। সেখানে একে একে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পুষপার্ঘ্য অর্পন করে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উল্লেখ যোগ্য ভাবে এই বিধান ভবনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এক সঙ্গে বহু যুদ্ধ জয় করেছিলেন। তাই সতীর্থকে কেমন করে ভুলবেন। ইন্দিরার তিন রত্ন। সুব্রত প্রিয় ও সোমেন। আর তাদের সেই সংগ্রামের দিন ভুলতে না পেরে রাজনৈতিক বাধা পেরিয়ে ছুটে এসেছিলেন বিধান ভবনে।

এখান থেকে ১.৩০ নাগাদ বিধানসভায় আনা হয় সোমেন মিত্রের নিথর দেহ। প্রয়াত প্রদেশ সভাপতি বিধায়ক ছিলেন ১৯৭২-’৭৭, ১৯৮২ থেকে ২০০৮। মূলত অধুনালুপ্ত শিয়ালদহ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতেন। ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই বছরই লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। ২০১৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন।
সূচী অনুযায়ী এদিন বিধানসভা ভবন থেকে

বেলা সোয়া ২টো নাগাদ তার মৃতদেহ বিধান সভা থেকে, বাসভবন ৩ নং লোয়ার রডন স্ট্রিট নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্ত্রী শিখা মিত্র তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। সে সময়ে শিখা মিত্র তার আকস্মৎ মৃত্যুর করনে কান্নায় ভেঙে পরেন। এ ছাড়া ও পরিবার বর্গ ও আবাসনের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে আসা হয় আদি বাড়ি ৪৫ নম্বর আমহাস্ট স্ট্রিট। যেখান থেকে তিনি তার জীবনের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন।

উত্তর ও মধ্য কলকাতার দাপুটে নেতা থেকে রাজ্যের কংগ্রেসি রাজনীতির ‘শেষ কথা’। মন্ত্রিত্ব বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নয়, বরাবরই সোমেনর প্রিয় ছিল সংগঠন। আর সংগঠনের বিস্তারের মাঝেই কখন যে তিনি সকলের প্রিয় ছোড়দা হয়ে উঠে ছিলেন বোঝা যায় নি। সকলের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়ানর চেষ্টা করতেন সোমেন বাবু। সে তার বিরোধী বা মিত্র যেই হোক না কেন।

বিকেল সারে পাঁচটা নাগাদ সোমেন মিত্রকে আনা হয় নিমতলা মহা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য। সেখানে অসংখ্য গুণমুগ্ধ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নিমেষের মধ্যে ফুলে ভরে ওঠে তার পার্থিব দেহ। শ্মশানের ঠিক সামনেই আই এন টি ইউ সি বড়বাজারের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতাকে শেষ স্রদ্ধ জানান হয়। এরপরেই অন্তষ্টী ক্রিয়া কর্মের কাজ শুরু হয়। সোমেনবাবুর জন্ম ১৯৪৩-এর ৩১ ডিসেম্বর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন ১৯৯২ থেকে ’৯৮ পর্যন্ত। প্রয়াত বরকত গনিখান চৌধুরীর শিষ্য বলা হত তাঁকে। ১৯৭২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সাতবার শিয়ালদহ কেন্দ্রের বিধায়ক হয়েছেন ‘ছোড়দা’। অবশ্য বিধায়ক হওয়ার পরও বিধানসভার থেকে সাংগঠনিক কাজেই বেশি দেখা যেত তাঁকে।
রাজনৈতিক জীবনে সতীর্থদের সঙ্গে মত বিরোধ হলেও কখন কাউকে ঘৃণা করতেন না। অন্যদিকে বিরোধী দের প্রশ্নের জবাবেও তিনি সদা অবিচল থাকতেন।

Related Articles

Back to top button
Close