fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ক্ষুধার্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের মাঝপথে রেখে গাড়ি সহ চম্পট চালকের, চাঞ্চল্য জামালদহে

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জ: লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ১৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক ৷ কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই মাঝ পথে রাস্তায় তাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়ি সহ চম্পট দেয় চালক৷ আর এতেই বিপাকে পরে ওই সব শ্রমিকরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে। এদিন রাত ১০ টা নাগাদ জামালদহ বাজারের পাকা রাস্তার পাশে ১৯ জন শ্রমিককে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় দুইজন চালক। শ্রমিকদের বাড়ি কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের গোলেনাহাটিতে বলে জানা গিয়েছে।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা শিলিগুড়ি থেকে বৃহস্পতি বার দিন বিকেলে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জলপাইগুড়ির তিস্তা সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে দুটি ছোট গাড়ি তারা ভাড়া করে শীতলকুচিতে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু গাড়ি দুটি তাদের বাড়ি পৌঁছে না দিয়ে মাঝপথে জামালদহে নামিয়ে দিয়ে চম্পট দেখায়।

এদিকে অপরিচিত শ্রমিকদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে জামালদহের স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন । অপরিচিত মানুষদের এভাবে দেখে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায় ৷ খবর পেয়ে ছুটে আসেন মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ ৷এরপর , রাতেই পুলিশ ওই শ্রমিকদের মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়৷

আরও পড়ুন: নদীতে নামলেই মিলছে রূপোর কয়েন, চাঞ্চল্য মেখলিগঞ্জে

শ্রমিকদের মধ্যে নার্গিস বিবি ,আকিবুল ইসলাম ,মামিনা বিবি জানান “তারা শিলিগুড়ি থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে আসার পথে তিস্তা সেতু সংলগ্ন এলাকায় দুটি গাড়ি ভাড়া করেন বাড়ি পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু, চালক দুজন তাদের এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় ৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তারা অভুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। ” রাতের বেলা অপরিচিত লোকজনদের এভাবে দেখে আতঙ্ক ছড়ায় জামালদহে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শ্রমিকরা কোন্ রাজ্যে থেকে ফিরছেন সেটা তারা স্পষ্ট করে প্রকাশ করেননি। কোথায়, কি, কাজ করতে গেছেন সেটাও জানাতে চায়নি ৷শুধু অস্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন যে তারা শিলিগুড়ি থেকে ফিরছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান “ঘনবসতি এলাকা জামালদহ, এমনিতেই আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। গাড়ির চালক কেন তাদের এভাবে ফেলে রেখে চম্পট দিল, তা নিয়ে ধোঁয়াসার সৃষ্টি হয়েছে। মেখলিগঞ্জ পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, “ওই শ্রমিকদের বাড়ি শীতলকুচির গোলেনাহাটিতে। তাদের মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার পর শীতলকুচি থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের শীতলকুচিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close