fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চা ছেড়ে মধু, তুলসী পাতায় মন দিয়েছে শিম্পাঞ্জি বাবু

শরণানন্দ দাস, কলকাতা, ২২ জুলাই: বর্ষাকালটা ‘বাবুর’ একেবারেই না পসন্দ। বলা নেই, কওয়া নেই যখন তখন বৃষ্টি। বেমক্কা ভিজে গিয়ে সর্দি, কাশি। তারপর গা, হাত পা ব‌্যথা, ম্যাজমেজে ভাব। বয়সও হচ্ছে, শরীরটাকে সুস্থ রাখতে হবে তো। তাই আপাতত ‘তন্দুরস্ত’ থাকার জন্য আজকাল সকালে চা বিস্কুট ছেড়ে মধু তুলসী পাতায় মন দিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার অন্যতম সেরা আকর্ষণ ‘বাবু’।

চিড়িয়াখানার ডাক্তার বাবুরা বর্ষার মরশুমে সর্দি কাশির মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে আয়ুর্বেদেই অর্থাৎ মধু, তুলসীপাতায় ভরসা রাখছেন বেশি। বাবুরও তেমন আপত্তি নেই। চেনা কিপার মধু, তুলসী পাতার রসের বাটি হাতে নিয়ে ঢুকলে খোশমেজাজে বাটি সাফ করে দিচ্ছে। আরও যে তিন শিম্পাঞ্জি রয়েছে তাদের জন্যও একই ব্যবস্থা।

আলিপুর চিড়িয়াখানার কিপাররা জানাচ্ছেন, শুধু শিম্পাঞ্জি বাবু নয়, বাঘ, সিংহ, জাগুয়ার সবার ডায়েটে বদল আনা হয়েছে। রাতের ডিনারে আপাতত মোষের মাংসের বদলে চিকেন খাচ্ছে সিংহ দম্পতি বিশ্বাস ও শ্রুতি, জাগুয়ার আর্য ও মালালা। রয়্যাল বেঙ্গল স্নেহাশিস, বাঘিনী পায়েল, সাদা বাঘ বিশাল এককথায় চিড়িয়াখানার ব্যাঘ্রকুল। ডাক্তার বাবুরা বলছেন, এই সময় মাংসাশী প্রাণীদের পেট খারাপের সম্ভাবনা থাকে। তাই হালকা ডায়েট দিতেই রাতের পাতে মোষের মাংসের বদলে মুরগীর মাংস। এছাড়াও হজমের ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। তৃণভোজী প্রাণী হরিণ, জিরাফ, ক্যাঙারুদের জন্য দুর্বা ঘাসের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সর্দি যাতে না হয় তার জন্য রয়েছে পেঁয়াজ, রসুনের ‘কাড়াহ’।

আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত জানাচ্ছেন, ‘বর্ষায় ছত্রাকের সংক্রমণের ভয় থাকে। এজন্য আমরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রাস্তা, বাগানে যে রাসায়নিক স্প্রে করছি, জীবজন্তুদের খাঁচায় আমরা সেই রাসায়নিক স্প্রে করছি না। অন্য রাসায়নিক স্প্রে করছি যা পশুপাখিদের গায়ে লাগলেও ক্ষতি হবে না।’ এক কথায় আলিপুরের পোষ‌দের সুস্থ রাখা কম ঝকমারি নয়।

Related Articles

Back to top button
Close