fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

একুশে সংখ্যালঘু ভোট ফিরে পেতে নানা কৌশল নিচ্ছে বাম-কংগ্রেস

মোকতার হোসেন মন্ডল: একুশের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ফিরে পেতে নানা রকম কৌশল নিচ্ছে বামফ্রন্ট ও জাতীয় কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে তারা। গত লোকসভা নির্বাচনেও সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমানে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কাজে সংখ্যালঘুদের একাংশ সন্তুষ্ট নয় বলে বাম-কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন। এ রাজ্যে কয়েকজন জনপ্রিয় সংখ্যালঘু নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সুজন চক্রবর্তী, মুহাম্মদ সেলিমরা। এমনকি একটি সংখ্যালঘু প্রভাবিত জনপ্রিয় দলকেও নিজেদের জোটে টানার চেষ্টা হচ্ছে। কয়েকটি যৌথ মিছিল ও  সভাও হয়েছে। ফুরফুরার এক পীরজাদার সঙ্গেও বাম কংগ্রেসের যোগাযোগ বেড়েছে। উত্তরচব্বিশ পরগনার কয়েকজন নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন আলিমুদ্দিন ও বিধান ভবনের নেতারা। এক সংখ্যালঘু নেতা জানান, সব দল সংখ্যালঘুদের ঠকিয়েছে। আমরা এবার নিজেরাই লড়বো। তবে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

 

 

এ রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা। এই বড় অংশের ভোট যেদিকে গেছে সরকার সেই গড়েছে। এই সহজ হিসাব মাথায় রেখে বিজেপিও সংখ্যালঘু ভোট পেতে ‘মুসলিম বঞ্চনা’ নিয়ে কথা বলছেন। দিলীপ ঘোষ নিজে সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন, তার সরকারের আমলে সংখ্যালঘু উন্নয়ন অতীতের চেয়ে ভালো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাম-কংগ্রেস নেতারা চাইছেন, সংখ্যালঘু ও দলিত, আদিবাসী ভোট ফিরে পেতে। আর সেই জন্য মুসলিম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হচ্ছেন।

 

 

 

কিছুদিন আগে সিপিআইএম নেতা ডাঃ ফুয়াদ হালিম রাজ্য সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু একুশের নির্বাচনে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট কতটা ফিরে আসবে? প্রাক্তন সাংসদ ও সিপিআইএম নেতা মুহাম্মদ সেলিম  বলেন, বাম-কংগ্রেস সহ, আসলে বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী সবাই এক কাট্টা হবে। সংখ্যালঘুরা যেহেতু ঠকেছে, মোদির নাগরিকত্ব আইন প্রকাশ্যে সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে যা করেছে তাতে ক্ষোভ বেড়েছে। আর আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপরে সংখ্যালঘু মুখোশ ধারণ করলেও উন্নয়নের নামে লবডঙ্ক হয়েছে সংখ্যালঘুদের। সমস্ত যা কিছু উন্নয়ন ধর্মী কাজকর্ম ছিল তা বন্ধ।

 

 

পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যাপারে কেন্দ্র ও রাজ্য একই ভূমিকা রেখেছে বলেও সেলিমের মন্তব্য। তার মতে, একটা অংশের মধ্যে রাগ বাড়ছে, ফুঁসছে। তারা বিকল্প চাইছে। বিজেপিকে আটকাতে হলে তৃণমূলের ভরসা নেই বলেও ওই সিপিআইএম নেতার মন্তব্য। বাজেটে যে টাকা ঘোষণা করা হয় তার খরচ হয়না বলেও অভিযোগ সেলিমের। তিনি বিজেপি ও তৃণমূলকে একই লাইনে দাঁড় করিয়ে বিকল্প হিসেবে বামেদের কথা বলেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু ভোট লোকসভার মতোই নিজেদের দখলে রাখতে চেষ্টা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি আদিবাসী, দলিত ও সংখ্যালঘু ভোট পেতে বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

Related Articles

Back to top button
Close