fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বরানগর পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব বামেরা

পার্থ ধাড়া, বরানগর: করোনা পরিস্থিতি ও সেই কারণে দীর্ঘসময় ধরে দেশ জুড়ে লকডাউন চলার কারণে এমনিতেই বহু মানুষ কর্মহীন,রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন, তার মধ্যেই এবার কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল বরানগর পৌরসভার বিরুদ্ধে । উত্তর দমদম বিধানসভার বাম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য এই নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ করেন ।

 

নিয়োগের ক্ষেত্রে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন, বেনিয়মের পাশাপাশি স্বজনপোষণের অভিযোগ করেন তিনি । তন্ময়বাবু বলেন যে ২০১৮ সালে বরানগর পৌরসভা মজদুরসহ বেশ কয়েকটি পদের জন্য নিয়োগের বিঞ্জপ্তি প্রকাশ করে । ২০১৯ সালে ইন্টারভিউ হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় । কিন্তু উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের কোনো মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি । এছাড়াও এক পৌরসভা এলাকার মানুষকে অন্য পৌরসভা এলাকায় চাকরি দেওয়া হচ্ছে । বরানগর পৌরসভার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে । এখানে মোট ১৭৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে ,তাদের মধ্যে মাত্র ৬৫ জন বরানগরের বাসিন্দা এবং বেশির ভাগই মালদহ, মুর্শিদাবাদ,হাওড়া,হুগলির বাসিন্দা । পাশাপাশি বয়সের ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বসীমার নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে ।

 

এরপর তিনি বলেন যে তৃণমূলের নেতা ও কাউন্সিলরদের নিকটাত্মীয়রা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে । এদিন বারাসাতে জেলা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংবাদিকদের হাতে দশজনের নামের একটি তালিকা তুলে দেন তন্ময় ভট্টাচার্য , যেখানে দেখা যায় যে এই দশজনই তৃণমূলের স্থানীয় এবং রাজ্যস্তরের কোনো না কোনো নেতার নিকটাত্মীয় । তালিকায় দেখা যাচ্ছে যে কামারহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার ভাইপো অথবা ভাগ্নে সপ্তর্ষি সাহা এবং উত্তর দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান সুবোধ চক্রবর্তীর মেয়ে রীতপা চক্রবর্তী বরানগর পৌরসভায় চাকরি পেয়েছেন । শুধু তাই নয় সুবোধ চক্রবর্তীর ছেলে আবার উত্তর দমদম পৌরসভায় আগেই চাকরি পেয়েছেন । পাশাপাশি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য কমিটির সদস্য আশিষ দে-র ছেলে কৌশিক দে বরানগর পৌরসভায় চাকরি পেয়েছেন। এছাড়া আরও যে আটজনের নাম তন্ময়বাবু বলেন তাদের প্রত্যেকেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা কাউন্সিলরের নিকটাত্মীয় । তন্ময়বাবুর অভিযোগ শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাদের নিকটাত্মীয়দেরই যোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে । তাতে স্থানীয় যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ।

 

এমনকি তৃণমূলের সৎ, যোগ্য এবং গরীবরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আর বঞ্চিত করা হল পৌরসভার বেশ কিছু অস্থায়ী কর্মীদের । যারা ১৫-২০ বছর ধরে কাজ করেছেন এবং নিয়োগের পরীক্ষাতেও বসেছিলেন কিন্তু তাদের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের অকৃতকার্য ঘোষণা করা হয়েছে ।

গাড়ির চালক নিয়োগেও দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন বাম বিধায়ক । চালক নিয়োগেও ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছরের অভিঞ্জতা থাকতে হয় বা লাইসেন্স পাঁচ বছরের পুরনো হতে হয়। কিন্তু বহু চালকের তা নেই এমনকি চেয়ারম্যানের গাড়ির চালকের লাইসেন্সও দুই বছরের বেশি পুরোনো নয় । পাশাপাশি নিয়োগের জন্য বড় অঙ্কের টাকার লেনদেনও হয়েছে বলে দাবি করেন বর্ষীয়ান এই বাম নেতা । কারও থেকে ছয় লক্ষ, কারও থেকে দশ লক্ষ টাকাও নেওয়া হয়েছে ।

 

নিয়োগেও পরেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে । যাঁরা নিযুক্ত হলেন তাঁরা প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম পান কিন্তু গত চার মাস ধরে তাঁরাও আর মাইনে পাচ্ছেন না । মজুরদের পৌরসভার বাইরে কাজ করার কথা কিন্তু তাদেরকে পৌরসভার কিছু দপ্তরে নিয়োগ করা হয়। নিয়োগেও এই প্রক্রিয়ার নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে ডিএলবি পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেন । তদন্ত করা হয়নি । এমনকি কয়েকজন পরীক্ষার্থী ,যাঁরা মনে করেছিলেন যে তাঁরা যোগ্য তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন । যার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় গত অগাস্ট মাসে তদন্তের নির্দেশ দেন । সেই তদন্তও হয় নি এবং পৌরসভা নিজের ইচ্ছামত কাজ করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তন্ময় ভট্টাচার্য ।

তিনি এদিন দশটি নাম প্রকাশ্যে আনেন এবং ভবিষ্যতে আরও নাম তিনি ধীরে ধীরে প্রকাশ করবেন বলে জানান । বামেদের পাশাপাশি বিজেপিও এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে । বরানগরের বিজেপি নেতা রাজীব মিশ্রও জানান যে এই দুর্নীতি আজ থেকে নয় এই পুরবোর্ডের শুরু থেকেই চলছে । পাড়ায় পাড়ায় মূর্তি বসানো থেকে শুরু করে নিয়োগ সবেতেই আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে । বহু যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্বেও নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ করে যোগ্যদের বঞ্চিত করল তৃণমূল পুরবোর্ড । এমনকি তৃণমূলের সমর্থক এমন যোগ্য প্রার্থীদেরও বঞ্চিত করা হল । রাজীব মিশ্র বলেন যে আগামী দিনে এই লকডাউন শেষ হলে বড় আন্দোলন করা হবে বিজেপির পক্ষ থেকে ।

Related Articles

Back to top button
Close