fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বন্টনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফের পথে নামল বামেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : আমফান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বন্টনে দুর্নীতি ও দলবাজি করছে শাসকদল তৃণমূল। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার ফের পথে নামল বামেরা।

লকডাউনের মাঝেই করোনা তথ্য গোপন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রেশন নিয়ে দুর্নীতি ও দলবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকবার পথে নেমেছে বামেরা। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশনও দিয়েছেন বাম নেতৃত্ব। এমনকি এই সমস্ত বিষয়ে আইনেরও দ্বারস্থ হয়েছে তারা। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। সেই সময় রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমফানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার দাবি জানান বাম নেতৃত্ব। পাশাপাশি কেন্দ্রের অনুদান থেকে যেন শাসকদল কাটমানি না নেয় সে বিষয়েও সতর্ক করেন। কিন্তু সেই সতর্কতার এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আমফান ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণ বন্টনে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দলবাজির বিরুদ্ধে ফের পথে নামল তারা।

দুর্নীতি ও দলবাজি বন্ধ করে ব্লকস্তরে সর্বদলীয় সভা করে স্বচ্ছতার সাথে অবিলম্বে ত্রাণ দেওয়া, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম ও ক্ষতি হওয়া ফসলের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি সহ সাত দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ১৬টি বামপন্থী ও সহযোগী দল কলকাতার রেড রোডে আম্বেদকর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বাম নেতৃত্ব বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা দেখেছি সাধারণ মানুষের রেশন নিয়ে দুর্নীতি করেছে শাসক দল। বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট দল দেখে দেখে সরকারি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। আবার এই আমফানে বিপর্যস্ত মানুষগুলোর সঙ্গেও তাই করছে। এটা চলতে পারে না। অনেক জায়গায় সরকারের ত্রাণই পৌঁছায়নি। মানুষগুলো সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে আছে। সরকারকে অবিলম্বে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতি ও দলবাজি বন্ধ করে ব্লকস্তরে সর্বদলীয় সভা করে স্বচ্ছতার সাথে ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই সেই সমস্ত ফসলের জন্য ক্ষতিপূরণ সহ ন্যায্য দামে ফসল কেনার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।’

এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তাঁরা। আমফানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার দাবি তুলে বাম নেতৃত্ব বলেন, ‘ এই বিপর্যয় থেকে জনগণকে উদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। পুর্নবাসন, পুর্নগঠন সহ সমস্তভাবে সাহায্য করতে হবে। কৃষকদের ঋণ মুকুব ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এছাড়াও করোনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধি, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো, শ্রম আইন পরিবর্তন সহ একাধিক বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বাম নেতৃত্ব। লকডাউন উঠলে এই ইস্যুতে আরও বড় সমাবেশ হবে বলে এদিন জানিয়েছে বাম নেতৃত্ব।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, আরএসপি সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব।

এদিন মোদির বিরুদ্ধে ফের অপরিকল্পিত লকডাউনের অভিযোগ তুলে এক বার্তায় সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘মোদি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে শেষ মুহূর্তে এক লকডাউনের ফরমান জারি করেছিলো । এখন বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোন উপায়ে এটা শেষ করা হবে তার কোনো ধারণা নেই। এর ফল ভুগতে হচ্ছে কোটি কোটি ভারতবাসীকে। বিজেপি সরকার জনস্বাস্থ্যের মত জরুরি বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে। লকডাউনের জন্য প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষের কাজ হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই  এই বিষয়ে কেন্দ্রীয়  সরকারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক।’

Related Articles

Back to top button
Close