fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিজেপি বলুক ওরা আর বিধায়ক কেনাবেচা করবে না, তবেই না আত্মনির্ভরতা: সেলিম

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি বলুক ওরা আর বিধায়ক কেনাবেচা করবে না, তবেই না আত্মনির্ভরতা! করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আত্ম নির্ভর ভারত গড়ে তোলার যে ঘোষণা করেছেন, শনিবার তাকে এইভাবেই কটাক্ষ করেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলের সাংসদ বিধায়কদের ভাঙিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটা আত্ম নির্ভরতা না পরনির্ভরতা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এদিন এক বার্তায় সেলিম বলেন, ‘শেষ কয়েক বছরে একের পর এক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের রায়ে হেরে যাবার পরে জনপ্রতিনিধি কেনা বেচা করে ক্ষমতা দখল করেছে। এটা নিশ্চয়ই আত্ম নির্ভরতার উদাহরণ হতে পারে না। তাই প্রধানমন্ত্রী আত্ম নির্ভর ভারত গড়ে তোলার আগে তাঁর দল বিজেপি বলুক ওরা আর বিধায়ক কেনাবেচা করবে না, তবেই না আত্মনির্ভরতা!’

সেল্ফ মানে মোদীজি আত্মপ্রচারের কথা বলেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতে ত্রাণের থেকে শুরু করে যা কিছু সরকারি কাজ হচ্ছে সেখানে মোদির ছবি দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এখানে যেমন মমতা, ওখানে তেমন মোদি। দুজনই একই রাজনীতি করেন। কঠিন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের কথা ভাবা অপেক্ষা নিজেদের আত্মপ্রচারে এরা অনেক বেশি এগিয়ে। তাই এরা আত্মনির্ভর এর অর্থ আত্ম সর্বস্বতা বোঝে। মেক ইন ইন্ডিয়া স্বনির্ভরতার জন্য প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু তার লোগোটা ও বিদেশ থেকে এনেছিল। প্যাটেলের মূর্তি থেকে যুদ্ধ বিমান বিদেশ থেকে কিনছে। যদি দেশে তৈরি হতো, দেশীয় কাঠামোতে তৈরি হতো তাহলে হত স্বনির্ভরতা। মোদি যা যা ব্যবহার করেন সেগুলো সব বিদেশ থেকে কেনা। স্বনির্ভরতা কথা একমাত্র বামপন্থীরা বলতে পারেন।’

আরও পড়ুন: তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, চাঞ্চল্য এলাকায়

এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক প্যাকেজ জনগণের টাকাতেই ঘুরিয়ে জনগণকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে সেলিম বলেন, ‘বিজেপি মনে করে তারা তাদের টাকা থেকে আপনাদেরকে দিচ্ছি কিন্তু তা তো নয়। আপনার ট্যাক্সের টাকা আপনি যা বাড়তি জমা দিয়েছিলেন সেটা কি ঘুরিয়ে পেচিয়ে আপনার কাছে আবার ফেরত দিচ্ছে এই সরকার। প্রতিদিন বিজেপি বলছে মোদি দিয়া। এটা আম্বানির বা মোদির টাকা থেকে দিচ্ছে না। দুদিন আগে রিজার্ভ ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যে এক লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে সেই সরকার ২০ লক্ষ কোটি টাকা পাবে কোথা থেকে? দুদিন পল আপনি পেটিএম বা এটিএম থেকে টাকা তুললে তখন হয়তো বিজেপি বলবে এটা মোদি সরকার দিয়েছে।’

এর পাশাপাশি আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরানোর দাবিতেও এদিন সরব হন সেলিম। সেই একই দাবিতে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস পরিষদীয় দল। এ প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘আবারও ২৪জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের একে অপরের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত। কিন্তু এই মানুষগুলোর অপরাধ কি? তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, থাকার ব্যবস্থা নেই। পকেটে পয়সা নেই। সরকার তাদের ট্রেনে করে বাড়ি ফেরাতে পারেনি বলেই, মানুষগুলো কয়েকশো কিলোমিটারের হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে সরকার।’

Related Articles

Back to top button
Close