fbpx
দেশহেডলাইন

‘বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন অনেকে’ রাহুলের মন্তব্যে তোলপাড় কংগ্রেস, ক্ষুব্ধ আজাদ-সিব্বল

ইস্তফা দিতে চাইলেন গুলাম নবি আজাদ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবারের CWC’র বৈঠকে সেই চিঠির লেখকদের বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে মন্তব্য করলেন প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। ‘ফুল টাইম, ভিসিবল লিডারশিপ’। অর্থাত্‍ দলের শীর্ষ নেতা যিনি হবেন তাঁকে রাজনীতিতেই পুরো সময় দিতে হবে। কর্মীরাও যেন নিয়মিত তাঁর দেখা পান। গত ৭ অগাস্ট একটি চিঠি দিয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে এমনই দাবি জানিয়েছিলেন দলের শীর্ষস্থানীয় ২৩ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তানখা ও আনন্দ শর্মা। সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী সরাসরি মন্তব্য করলেন, ওই চিঠিটি যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা গোপনে হাত মিলিয়েছেন বিজেপির সঙ্গে।

এদিন এই চিঠি নিয়েই মুখ খোলেন রাহুল গান্ধী। যদিও তিনি নিজে সভাপতি পদে নতুন মুখের দাবি করে এসেছেন, তাও এই চিঠি দেওয়ার সময় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। রাহুলের দাবি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে যেভাবে দল সংকটে পড়েছিল, এবং এই একই সময় সনিয়ার যেভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়- এরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব বদলের চিঠি দেওয়া উচিত হয়নি। শুধু তাই নয়, যেসব কংগ্রেস নেতারা এই চিঠি লিখেছেন, তাঁরা বিজেপিকে মদত করছেন বলেও অভিযোগ করেন রাহুল।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ওই মন্তব্য করার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেন কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আমরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। আমি রাজস্থান হাইকোর্টে সাফল্যের সঙ্গে কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করেছি। মণিপুরে দল যাতে বিজেপি সরকারের পতন ঘটাতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছি। গত ৩০ বছরে একবারও বিজেপির হয়ে বিবৃতি দিইনি। তবু বলা হচ্ছে, আমি নাকি বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।’বিরোধিতা করেছেন অন্য বর্ষীয়ান নেতারাও। এদিকে বৈঠক চলাকালীন কংগ্রেস ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কংগ্রেস কর্মীরাও। পরে অবশ্য রণদীপ সিং সূরযওয়ালা বলেন, চিঠির লেখকদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে, এমন মন্তব্য করেননি রাহুল। সংবাদ মাধ্যম মিথ্যা রটনা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাহুলের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন গুলাম নবি আজাদও। এদিন বৈঠকে উলটে তিনি সোনিয়া গান্ধীর প্রশংসা করেন। যা দেখে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কার কটাক্ষ, আপনি চিঠিতে যা লিখেছেন, তাঁর উলটো সুর এখন আপনার গলায়। সব মিলিয়ে চিঠি ও রাহুলের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক।

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়া জানান, তিনি আর দলের শীর্ষপদে থাকতে চান না। কংগ্রেস এবার গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি পদে খুঁজে নিক। এরপরেই সরব হন রাহুল।যদিও তিনি নিজে সভাপতি পদে নতুন মুখের দাবি করে এসেছেন, তাও এই চিঠি দেওয়ার সময় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। রাহুলের দাবি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে যেভাবে দল সংকটে পড়েছিল, এবং এই একই সময় সনিয়ার যেভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়- এরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব বদলের চিঠি দেওয়া উচিত হয়নি। শুধু তাই নয়, যেসব কংগ্রেস নেতারা এই চিঠি লিখেছেন, তাঁরা বিজেপিকে মদত করছেন বলেও অভিযোগ করেন রাহুল।

আরও পড়ুন: একগুচ্ছ নিয়ম মেনে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বসতে পারে বিধানসভা অধিবেশন

কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির আক্রমণের প্রতিবাদ করেছেন সোনিয়াকে চিঠির লেখকদের অন্যতম গুলাম নবি আজাদ। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ প্রমাণ হলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি বলে জানিয়েছেন গুলাম নবি আজাদ। নেতৃত্ব সংকটকে কেন্দ্র করে কংগ্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। উঠেছে সংগঠনের খোলনলচে বদলের দাবিও।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এদিন সনিয়ার কাছে আর্জি জানান, তিনিই যেন সভানেত্রী থাকেন। যাঁরা হাইকম্যান্ডকে চিঠি লিখেছেন, তাঁদের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘চিঠিটি দুর্ভাগ্যজনক। হাইকম্যান্ডকে দুর্বল করা মানে দলকেই দুর্বল করা।’ দলের আর এক প্রবীণ নেতা এ কে অ্যান্টনি বলেন, ‘চিঠির বিষয়বস্তু খুবই নিষ্ঠুর।’ কংগ্রেসের জন্য সনিয়া যে আত্মত্যাগ করেছেন তা মনে করিয়ে দেন অ্যান্টনি। সেই সঙ্গে তিনি রাহুলের কাছে আর্জি জানান, তিনি যেন কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close