fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

লকডাউন! প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এ যেন এক অন্য লড়াইয়ের গল্প

দিব্যেন্দু রায়,কাটোয়া: ঃ প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা কে জয় করে এ যেন এক বেঁচে থাকার লড়াই।  ্ছয় জনের সংসার। টোটো চালিয়ে যেটুকু রোজগার হত তাতেই কোনও রকমে সংসার চলে যেত। কিন্তু লক ডাউনের কারনে টোটো চালানো বন্ধ রাখতে হয়েছে । ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছিল কাটোয়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মাধাইতলার বাসিন্দা রাজা বৈরাগ্য নামে ওই টোটো চালককে। শেষে পরিবারের অন্ন সংস্থানের জন্য সাইকেলে চড়ে শহরে ঘুরে ঘুরে বাংলা নতুন বছরের ক্যালেন্ডার বিক্রি করতে শুরু করেছেন তিনি । বুধবারেও তাঁকে কাটোয়া শহরের রাস্তায় ক্যালেন্ডার বিক্রি করতে দেখা যায়। এদিকে এলাকায় নতুন ক্যালেন্ডারের চাহিদা থাকায় বিক্রি ভালোই হচ্ছে। লক ডাউনের মধ্যে রোজগারের বিকল্প উৎস খুৃঁজে পাওয়ায় পরিবারের খোরাক জোগাতে গিয়ে অন্তত অতান্তরে পড়তে হচ্ছে না ওই টোটো চালককে।

কাটোয়ার মাধাইতলার বাসিন্দা রাজা বৈরাগ্য পেশায় টোটো চালক । বাবা, মা, ঠাকুমা, স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে ছয় জনের সংসার । রাজার বাবা শঙ্করবাবু মাঝে মাঝে ভ্যান চালান । তবে মুলত রাজার রোজগারেই সংসার চলে । কিন্তু মাসাধিক কাল ধরে লকডাউন চলায় রোজগার বন্ধ রয়েছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছিল।

রাজা বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় এক ক্যালেন্ডার বিক্রেতা রয়েছেন। নববর্ষের আগে স্থানীয় দোকানদারেরা তাঁকে ক্যালেন্ডার তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু লক ডাউনের কারনে এবারে কোনও দোকানেই পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান পালন না হওয়ায় ক্যালেন্ডারগুলি ওই ব্যাবসায়ীর কাছে পড়েই ছিল। এরপর আমি তাঁর কাছ থেকে ক্যালেন্ডারগুলি কিনে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিই। গড়পরতা বিক্রি খারাপ হচ্ছে না । লভ্যাংশ যা থাকছে তাতে এখন সংসার চালাতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।’
অন্যদিকে ক্যালেন্ডার ব্যবসায়ী পিন্টু খাঁ বলেন, ‘দোকানদারেরা ক্যালেন্ডারগুলি আর নেবে না বুঝেই আমি সব ক্যালেন্ডার বিক্রি করে দিচ্ছি। তাতে আমার লাভ না হলেও লোকসানের মুখে পড়তে হবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close