fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘করোনার মতো বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকেও তাড়াবে’ : রাজু বন্দোপাধ্যায়

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: ‘আর মাত্র ছটা মাস। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বনাশ ও পশ্চিমবাংলার মানুষের পৌষ মাস। মানুষ যেমন করোনাকে হারাবে। তেমনি মানুষের আবেগ এই বাংলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তাড়াবে।‘ সোমবার আসানসোলের জামুড়িয়ার বিজেপি মন্ডল টু এর নেতৃত্বে চিঁচুড়িয়া ডাঙ্গাল পাড়ায় বিজেপির মন্ডল ২ এর উদ্যোগে হওয়া এক সাংগঠনিক সভায় এমনভাবেই রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা রাঢ়বঙ্গের দলের পর্যবেক্ষক রাজু বন্দোপাধ্যায়।

তিনি এদিন এলাকায় দলের নতুন মন্ডল কার্যালয়ের উদ্বোধন করার পাশাপাশি দুঃস্থ মানুষদের ত্রিপল ও যুবকদের ফুটবল বিলি করেন। এদিনের সভায় বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই, প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বাঁকুড়ার পর্যবেক্ষক তাপস রায়, মন্ডল সভাপতি গৌতম মন্ডল সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন ৫০ জন সমর্থক। এই সভায় রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, ২০২১ সালে ক্ষমতায় বিজেপি আসছেই। আর ক্ষমতায় এসে প্রত্যেক নেতা ও পুলিশের টাকার হিসাব নেবো। আগে যারা বিড়ি খেতো, তারা এখন দামী সিগারেট খাচ্ছেন। আগে কুঁড়ে ঘরে থাকতো ও ভাঙা সাইকেল চালাতো। তাদের এখন ঝাঁ চকচকে তিনতলা বাড়ি ও চারচাকা গাড়ি। যারা বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে থুতু ও জুতো চাটানো হবে।

তিনি আরো বলেন, এই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৯ টি বিধানসভার সবকটিতে বিজেপি জয়লাভ করবে। এখানে তৃনমূল কংগ্রেস বলে কিছু থাকবে না। বিজেপি ছেড়ে কারা তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদান করছে, তা দেখার দরকার নেই। যদি একজন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেয়, তাহলে ১০০ জন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন। এটাই আসল কথা। বিজেপির এই রাজ্য নেতা এদিন একযোগে বীরভূমের কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মন্ডল ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারির তুলনা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যারা এখন রাজ্যে মাফিয়ারাজ চালাচ্ছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। নাহলে, উত্তরপ্রদেশের বিকাশ দুবের মতো অবস্থা হবে। তখন কিন্তু কিছু বলবেন না। চেনা পরিচয় থাকলেও কিছু হবে না।

হুগলির খানাকুলের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা তোলার জন্য আমাদের একজন কার্যকর্তাকে খুন করা হলো। বাংলার কি অবস্থা এখানে দেশের পতাকাও তোলা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিজেপির এই রাজ্য নেতা বলেন, এখানে তাহলে কি পাকিস্তানের পতাকা তোলা হবে? সব হিসাব আমরা রাখছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সব সময় মিথ্যা কথা বলেন। তিনি তো মিথ্যায় পিএইচডি করেছেন। আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র করোনার সময় নিজের সংসদীয় এলাকায় না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংসদ দিল্লিতে থেকে সব কাজ করছেন। তার নির্দেশ মতো দলের কর্মী ও নেতারা মানুষের পাশে থেকে সেবার কাজ করছেন। সাংসদ কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে গরীবদের উন্নয়নের জন্য টাকা আনছেন। আগে সেই টাকার হিসেব দেওয়া হোক এখানকার মেয়র ও বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি ও মন্ত্রী মলয় ঘটক নিজেদের মধ্যে লড়াই না করে কাজ করুক। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র তেওয়ারি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ওর কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।

Related Articles

Back to top button
Close