fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদার হোম থেকে বিদেশিনী মায়ের হাত ধরে সুইডেন উড়ে গেল ছোট্ট রাহুল

মিল্টন পাল, মালদা: অনাথ শব্দের অর্থ যে বাস্তবে ম্লান তা দেখিয়ে দিল বিদেশীনি এক মা। মালদার হোম থেকে এরোপ্লেনে উড়ে গেল সুইডেনে প্রতিবন্ধী ছয় বছরের রাহুল। গত ২১ নভেম্বর (শনিবার) সুইডেনের বাসিন্দা গার্টরুড মারিয়া জিব্রান্ড নামক এক অবিবাহিত মধ্যবয়স্ক বিদেশিনীর হাতেই সন্তনের তকমা দিয়ে সরকারি ভাবে ছয় বছরের প্রতিবন্ধী রাহুলকে তুলে দেওয়া হয়েছে। ছোট্ট রাহুল জানে না কে তার বাবা, আর কে তার মা। তাকে চাইল্ড লাইনের সহযোগিতায় তিন বছর বয়স থাকতেই নিয়ে আসা হয়েছিল। সরকারি ভাবে মালদা চাইল্ড লাইনের সহযোগিতায় সে একটি সংস্থার হোমে ছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ রাহুলকে নিজের সন্তান হিসেবে পালন করার দায়িত্বের কথা জানিয়ে দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন সুইডেনের বাসিন্দা পেশায় বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গার্টরুড মারিয়া জিব্রান্ড।

চাইল্ড লাইন এবং হায়দারপুর শেল্টার অফ মালদা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই চাঁচোল থানার মাধ্যমে সেইসময় তিন বছর বয়সী প্রতিবন্ধী রাহুলকে কুড়িয়ে পাওয়া যায়। চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে ওই শিশুটিকে সরকারি হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে শেল্টার অব মালদার কর্তৃপক্ষ ওই অনাথ প্রতিবন্ধী শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিল। তখন নাম রাখা হয়েছিল রাহুল। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরেই সুইডেনের ওই বিদেশিনী মহিলা একটি পুত্র শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সেটি নজরে আসে হায়দারপুর শেল্টার অফ মালদা কর্তৃপক্ষের। এরপরেই ওই বিদেশিনীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়। ভারতে ঘুরতে এসে ওই মহিলা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ছোট রাহুলের কথা জানতে পারেন।

এরপর তাকে নিজের সন্তান হিসেবে দত্তক নেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সরকারি ভাবে আবেদন জানান। তারপর থেকে শুরু হয় সরকারি প্রক্রিয়া। ২০১৯ সালের আবেদন জানানোর পর অবশেষে রাহুলকে সুইডেনের ওই মহিলার হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করা হয়। ভারতীয় দত্তক সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী গত ২১ নভেম্বর ওই শিশুটি তার মায়ের কোলে যেতে সক্ষম হন।

গার্টরুড মারিয়া জিব্রান্ড বলেন, আমি অবিবাহিত। সুইডেনে থাকি। পেশায় আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমার স্বপ্ন ছিল ভারতীয় একটি শিশুকে নিজের সন্তানের মত পালন করব। গড আমার কথা শুনেছে। ওই শিশুটির শারীরিক যা সমস্যা আছে, তা নির্মূল করার জন্য আমি বিশেষ উদ্যোগ নেব। হায়দারপুর সেন্ট্রাল অফ মালদার যুগ্ম-সম্পাদক মন্ময় মুখার্জি জানান, রাহুলের ভবিষ্যৎ এখন উজ্জ্বল। অনেক অসহায় অবস্থায় ওকে ছোট বয়সেই পুলিশ উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে নিয়ে এসেছিল। তবে ওকে সুইডেনের ওই মহিলা দত্তক নিয়েছেন। আমরা ওই মহিলার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছি।

Related Articles

Back to top button
Close