fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেই দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগপূর্ণ ভাষণ দিলেন লিজ ট্রাস

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেই দেশবাসীকে আশার কথা শোনালেন ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে ব্রিটেনকে আটকে রাখা বিষয়গুলোকে মোকাবিলা করার।

প্রথামত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দশ নাম্বার ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে লিজ ট্রাস বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণ বারবার দৃঢ়তা, সাহস এবং সংকল্প দেখিয়েছে। আমরা এখন ইউক্রেন এবং কোভিড যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী প্রতিকূলতার মুখোমুখি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রশংসা করে ট্রাস বলেন, তিনি ব্রেক্সিট সম্পাদন ও কোভিড টিকা সরবরাহ করেছেন। এছাড়া রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। …ইতিহাস তাকে একজন অত্যন্ত সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখবে। ’ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে তিনি ‘ভ্লাদিমির পুতিনের সৃষ্ট সংকট’ বলে কটাক্ষ করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে পরিচিত লিজ ট্রাস। একসময় উদারপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন লিজ। ১৯৮০’র দশকে টোরি প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে সোচ্চার ছিলেন। আর এখন ট্রাসের দাবি, থ্যাচারের মশাল সমুন্নত রাখাই হবে তার ব্রত। ছাত্র রাজনীতির দিনগুলোতে ব্রিটেনে রাজতন্ত্র অবসানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে লিবারেল ডেমোক্রাট দলের সম্মেলনে আবেগপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছিলেন লিজ ট্রাস। কিন্তু এখন তিনি মনে করেন তার ওই মন্তব্য ছিল ‘ভুল’। ট্রাস বলেছেন, এখন তিনি মনে করেন ব্রিটেনের ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য রানি ও রাজপরিবারের ভূমিকা ‘অপরিহার্য’।

বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্বের সবচেয়ে কালো অধ্যায়ে লিজ ট্রাস সবসময় তার পাশে ছিলেন। নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন স্তরে অনেক দিন ধরেই তিনি একটা ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন এ বিষয়টি দলীয় নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার জয়ের পথ সুগম করেছে। অক্সফোর্ডে ১৯৭৫ সালে জন্ম লিজ ট্রাসের। তার বাবা ছিলেন গণিতের অধ্যাপক আর মা নার্স। লিজ ট্রাসের চার বছর বয়সে তাদের পরিবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর পশ্চিমের পেসলি এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

লিজ ট্রাস উচ্চ শিক্ষার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং সেখানে তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন।

ছাত্র রাজনীতিতে খুবই সক্রিয় ছিলেন লিজ ট্রাস। প্রথমে যোগ দিয়েছিলেন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী লিবারেল ডেমোক্রাটিক পার্টিতে। তিনি ১৯৯৪ সালে উনিশ বছর বয়সে লিবারেল পার্টির সম্মেলনে বলেন, ‘রাজতন্ত্র শেষ হোক’ এই মতের তিনি পক্ষে। তিনি সম্মেলনে রাজতন্ত্র অবসানের জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন: ‘গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যুতে গণভোট নেওয়ায় আমরা বিশ্বাসী। আমরা মনে করি না, জন্মসূত্রে শাসনের অধিকার কেউ জন্মায়। ’  রক্ষণশীল রাজনীতিতে উত্থান স্নাতক হওয়ার পর অক্সফোর্ডে থাকতেই লিজ ট্রাস ১৯৯৬ সালে দল বদল করে কনজারভেটিভ পার্টিতে যোগ দেন।

স্নাতক হওয়ার পর তিনি শেল ও কেবল অ্যান্ড ওয়ারলেস কম্পানিতে হিসাবরক্ষক হিসাবে কাজ করেন। ২০০০ সালের প্রথম দিকে তিনি তার এক সহকর্মী হিসাবরক্ষক হিউ ও’লিয়ারিকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

ট্রাস ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে ইংল্যান্ডের পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথম ভোটে দাঁড়ান। সেবার তিনি হেরে যান। ২০০৫ সালে একই অঞ্চলের আরেকটি নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে আবারও পরাজিত হন। তবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি ছিলেন না লিজ।

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের গ্রিনিচ থেকে তিনি পৌরসভার কাউন্সিলার নির্বাচিত হন ২০০৬ সালে। এরপর ২০০৮ সাল থেকে তিনি সংস্কার বিষয়ে ডানপন্থী একটি গবেষণা সংস্থার হয়ে কাজ শুরু করেন।

কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন তাকে ২০১০ সালের নির্বাচনে প্রার্থিতার তালিকায় ওপরের সারিতে রাখেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের একটি নিরাপদ আসনে মনোনয়ন দেন।

বরিস জনসনের পূর্বসূরী টেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় লিজ ট্রাস বিচারমন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বরিস জনসন ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হলে ট্রাস আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২১ সালে তিনি সরকারের অন্যতম শীর্ষ পদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে আসীন হন।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close