fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফালাকাটা মহাশ্মশানে ইলেক্ট্রিক চুল্লি বসানোর দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের

সব্যসাচী ঘোষ, ফালাকাটা: ফালাকাটা মহাশ্মশান সহ ব্লকের একাধিক শ্মশান সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফালাকাটা মহাশ্মশান এতদা অঞ্চলের প্রাচীনতম শ্মশানের মধ্যে একটি। কিন্তু যত্ন ও পরিচর্চার অভাবে বেহাল দশা এলাকার এই পুরোনো শ্মশানের। এতে শবদেহ সৎকারের জন্য মৃতের পরিবার আত্মীয় পরিজন এলে সমস্যায় পড়েন। পাশেই মুজনাই নদী। ফলে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সাপ পোকামাকড়ের কামড়ের আশঙ্কা থেকেই যায় এমনটাই জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বসার জায়গাটিকেও পরিষ্কার করার আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় মানুষের শেষকৃত্যের একমাত্র ভরসা ফালাকাটা মহাশ্মশান। কিন্তু বর্তমানে স্থানটি জঙ্গলময় হয়ে আছে বহুদিন। সমস্যায় পড়ছেন মৃতের পরিবার থেকে আগত পরিজনেরা। শ্মশানের জঞ্জাল পরিষ্কারের পাশাপাশি চিতা ওপর চালা দেওয়ার দাবিও করছেন অনেকেই। বর্তমানে দুটো চিতার বন্দোবস্ত রয়েছে। একটি চিতার ওপর চাল থাকলেও অপরটি উন্মুক্ত। ফলে বর্ষারদিন এলেই একসাথে একাধিক মৃতদেহ সৎকারের জন্য এলে অপেক্ষমান থাকতে হয় একটি দেহ পুরোপুরি সৎকার না হওয়া পর্যন্ত। সেই সাথে দিন দিন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্টান ফালাকাটায় যেভাবে গড়ে উঠেছে তাতে বহু মানুষ বাইরে থেকে এসে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ফলে শহররুপি ফালাকাটার জনসংখ্যা গত এক দশকে যেভাবে বেড়েছে তাতে ইলেকট্রিক চিতার অত্যন্ত প্রয়োজন। অসময়ে মৃত্যদেহ পোড়ানোর পর্যাপ্ত খড়ি পাওয়াও দুস্কর হয়ে যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে ফালাকাটা মহাশ্মশানের পুরোনো চিতা গুলো সংস্কার করার পাশাপাশি নতুন ইলেক্ট্রিক চিতা বসানোরও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সেইসাথে শ্মশানের প্রেক্ষাগৃহের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে এনে বসার সুবন্দবস্ত করার আবেদনও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফালাকাটা ১নং গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান বিকাশ কুন্ডু এব্যাপারে বলেন, ‘ ফালাকাটা মহাশ্মশান পরিষ্কারের কাজটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে করা হয়। তবে শ্মশানটিকে ঢেলে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাব গৃহীত হয়ে এলে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’ ফালাকাটা মহাশ্মশান ছাড়াও ফালাকাটা ২নং গ্রাম পঞ্চায়েত ও দক্ষিণ খয়েরবাড়ী অঞ্চলের শ্মশান গুলিরও বেহাল অবস্থা। শবদেহ দাহ করার চুল্লি গুলোর ওপর নেই কোনো চালা। ফলে বর্ষাকালে মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে এলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মৃতের আত্মীয় পরিজনদের।

এছাড়া ফালাকাটার এই সকল অঞ্চলেও যেভাবে জনসংখ্যা বেড়েছে তাতে একটি চুল্লি পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি স্থানীয় মানুষজনের। ময়রারডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের চারমাইল পাঁচমাইল বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোনো শ্মশান নেই। আশেপাশের খাস জমিতে কিংবা নদীর ধারে কোনোক্রমে মৃতদেহ সৎকার করেন এতদ অঞ্চলের মানুষ। এই অঞ্চলেও একটি শ্মশান গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।

ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস এই বিষয়ে জানান, ‘ ফালাকাটা মহাশ্মশান সহ ব্লকের একাধিক শ্মশান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও কোনো কোনো অঞ্চলে নতুন শ্মশান গড়ে তোলার দাবি নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতিতে আলোচনা করবো ও জেলা পরিষদেও বিষয়টি জানানো হবে। আশাকরি ব্লকের বিভিন্ন শ্মশান নিয়ে সমস্যা গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close