fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হবে লোকাল ট্রেন, ঘোষণা রাজ্যের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ধীরে ধীরে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছিল যাত্রীদের। হুগলির পাণ্ডুয়া, সোনারপুর স্টেশন এবং সর্বশেষ হাওড়া স্টেশনে যাত্রী বিক্ষোভের পর কালীপুজোর আগেই লোকাল ট্রেন চালু করতে বৈঠকে বসার সম্মতি জানিয়ে পূর্ব রেলকে চিঠি দিয়েছিল নবান্ন। সেই মতো সোমবার প্রথমে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করার পর এদিন বিকেলে নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রেল কর্তারা।

 

নবান্ন সূত্রের খবর, ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যে চালু হতে চলেছে লোকাল ট্রেন, এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে,  মুম্বই মডেল অনুসরণ করে আপাতত ১০ শতাংশ ট্রেন চালানো হবে। কালীপূজার পর পরিস্থিতি দেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সোমবার বিকেল ৫ টা নাগাদ নবান্নের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য প্রশাসন এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের শীর্ষকর্তারা। এদিন রেলের তিনটি ডিভিশনের যাত্রীদের সম্পূর্ণ তথ্যই রাজ্যের হাতে তুলে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। কোন স্টেশনে কত যাত্রী, অফিস টাইমে কত যাত্রী চলাচল করে সব তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়। কম ট্রেন চালানো হলেও এতদিন পর ট্রেন চালানোর ফলে যাত্রীদের চাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি হতে পারে এবং তা কেমন ভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
 এদিন বৈঠকের আগে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দফতরে।  সোমবার বৈঠক শুরুর আগেই রেলের তরফে ফের একবার চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকাল ট্রেন চালাতে তারা প্রস্তুত। সেই সঙ্গে কয়েকটি প্রস্তাবও রেলের তরফে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
জানা গিয়েছে,  মুম্বইয়ের মতো ই-পাস নিয়ে লোকাল ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। যারা জরুরি পরিষেবা এবং সরকারি কর্মচারীরা অগ্রাধিকার পাবেন এটাও জানানো হয়। লকডাউনের পূর্বে যেখানে লোকাল ট্রেনে গড়ে ৩৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করত, এবার সেই সংখ্যা কমে ৯.৬ লক্ষ হিসেবে যাত্রী ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে। তার বেশি লোক যাতে ট্রেনে উঠতে না পারে, সেই বিষয়টি দেখবে রাজ্য পুলিশ। তবে সমস্ত বিষয়টি যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তার জন্য লোকাল ট্রেন যাত্রার ঠিক আগে ৫ নভেম্বর চূড়ান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করবে রাজ্য।
 এদিনের বৈঠকের আগেই ফের হুগলির একাধিক স্টেশনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে নিত্যযাত্রীরা। বৈদ্যবাটি স্টেশনে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করেন যাত্রীরা। স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠতে চেয়ে অবরোধ হয় হুগলির রিষড়া, শেওড়াফুলির মতো স্টেশনেও। তবে এ দিনের ঘোষণার পর রাজ্যবাসীর কিছুটা ক্ষোভ প্রশমন হবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close