fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গঙ্গা ভাঙনে সর্বশান্ত কালিয়াচকের বীরনগর, পুর্নবাসনের দাবি স্থানীয়দের

মিল্টন পাল, মালদা: ভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে বহু পরিবার দিশেহারা। ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নীচে। মিলবে তো পুনর্বাসন, প্রশ্ন তুলছেন ভাঙন দুর্গতরা। আর যা নিয়ে শুরু বিজেপি তৃণমূলের চাপানউতোর। ঘটনাটি মালদা কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের।

২০১৬ সালের ভাঙনের ক্ষত দগদগে এখনো মালদা কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বীরনগর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার মানুষের মনে। শনিবারের পর রবিবার মালদার বৈষ্ণবনগর অব্যাহত গঙ্গার ভাঙন। আতঙ্কে বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে ভাঙন অব্যহত থাকলেও মেলেনি কোন ত্রাণ বা সাহায্য। কেউ খোলা আকাশের নিচে কেউবা নদীর ধারের ত্রিপল খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

৩০ আগষ্ট থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে গঙ্গার। ইতিমধ্যে ২০০ বিঘার বেশি চাষের জমি গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গেছে। বসত ভিটাও চলে গিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটায় বেশি যে ঘরের জিনিসপত্র পর্যন্ত সরাতে পারেনি। তলিয়ে গিয়েছে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস। বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে ত্রিপলকে ভরসা করে কোন মতে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধের কাজ করার জন্য আবেদন করছে বন্যা দূর্গত মানুষেরা। না হলে ভবিষ্যতে যা ভাঙন তাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে গ্রামের পর গ্রাম। এই পরিস্থিতি পূর্ণবাসনের জন্য আবেদন জানাচ্ছে গ্রামের বন্যা দূর্গত মানুষেরা।

বালির বস্তা বেঁধে আপাতত ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু করেছে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ।এলাকার বাসিন্দা থেকে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন সরকার, ভাঙনের তীব্রতা দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত। গ্রামের বাসিন্দা মফিজুদ্দিন মিঁয়া বলেন, বিগত বছরেও গঙ্গার ভাঙনে বাড়ি ঘর গঙ্গার জলে তলিয়ে গেছে। এরপর গঙ্গা থেকে একটু দুরে বাড়ি তৈরি করি। এই বছর তাও তলিয়ে গেছে। সরকার যদি ব্যবস্থা না নেয় গঙ্গার তান্ডবে আমাদেরও তলিয়ে যেতে হবে। সরকার আমাদের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করুক।

জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী তথা রাজ্য সভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট প্ল্যান করে কাজ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন প্রতিবছরের সমস্যা। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতার কারনে ভাঙনের কবলে পরছে গ্রামের বাসিন্দারা। এখন যে কাজটা হচ্ছে সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। পূর্নবাসন নিয়েও আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। স্থায়ী সমস্যার সমাধান না হলে পার্লামেন্টের কথা তুলবো। আগামী দিনে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।

কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস বিধায়ক ইশা খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারনে বৈষ্ণবনগর এলাকায় এত ভাঙন হচ্ছে। ভাঙন রোধে ফারাক্কা ব্যরেজের উচিত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করা উচিত।

বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন সরকার বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় জলসম্পদ দপ্তরে তার কথা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জনসম্পদ মন্ত্রী অসুস্থ সেই কারণে মন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। মন্ত্রী সুস্থ হলেই তিনি মন্ত্রীর সাথে কথা বলে সমস্যা স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবেন। ইতিমধ্যেই ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।ৎ

Related Articles

Back to top button
Close