fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চাল চুরির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে স্কুলের মধ্যে আটক করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

মিলন পণ্ডা ,পটাশপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) : স্বাধীনতা দিবসের দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ তুলে স্কুলের মধ্যে রেখে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার কয়েক শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনা সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর দু’নম্বর ব্লকে ঝরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে এলে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে স্কুলের ঘরের বন্দি রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনার পর দুই রাজনৈতিক দলের অপরের উপরে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর দুই ব্লকের শনিবার সকালে ঝরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ নায়ক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্কুলে পতাকা উত্তোলন করতে একাই আসেন।পতাকা উত্তোলনের পর এক চালের বস্তা বাইকের উপর চাপিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। তখনই কয়েকজন বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে ওই প্রধান শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রধান শিক্ষককে কথাবার্তা অসংগতি দেখা দিলে স্কুলের মধ্যে আটকে ধরে গ্রামবাসীরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকার কয়েক শতাধিক বাসিন্দারা স্কুলের সামনে জড়ো হয়। স্কুলের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে আটক রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকার কয়েক শতাধিক বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের কাছে ওই প্রধান শিক্ষক তার ভুল স্বীকার করে নেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

প্রতক্ষদর্শী তথা স্থানীয় এক বাসিন্দা মনীন্দ্রনাথ ভূঁইয়া বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এর আগে বেশ কয়েকবার চাল চুরি করতো। আমরা এর আগে বেশ কয়েকবার বাইকে করে চালের বস্তা নিয়ে যেতে প্রধান শিক্ষককে দেখেছি। স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করতে স্কুলে একাই এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক। তারপরে বাইকে করে একটি চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই শিক্ষক জানায় চাল খারাপ হয়ে গেছে মুরগিকে দেওয়ার জন্য বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।

স্থানীয় বিজেপি নেতা কৃষ্ণকলি পাত্র বলেন, শাসক দলে আর কোনও কিছু নেই। যা কিছু ঘটবে এর জন্য দায়ী বিজেপি। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ নায়ক তৃণমূলের তিন নম্বর গ্রাম অঞ্চলের সভাপতি। এদিন সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্কুলে একাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে এসেছিলেন‌‌।তারপরেই বাইকে করে একটি বস্তা চাল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। গ্রামবাসী না দেখতে পেয়ে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পটাশপুরে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন কুমার সাউ বলেন, এটা কোনও চাল চুরির ঘটনা নয়। স্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে লকডাউনের কারণে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে চালে পোকা ধরে গেছে। তাই পোকা চাল রোদে শুকানোর জন্য বাড়ি নিয়ে গেছিল ওই প্রধান শিক্ষক। চন্দনবাবু আরও বলেন বিজেপির কিছু মানুষ চাল চুরি বলে চালাচ্ছে। গ্রামে বসতে হবে ওই প্রধান শিক্ষককে চার লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।এটা সম্পূর্ণ  রাজনৈতিক চক্রান্ত।

পটাশপুরে ঝরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ নায়ক বলেন, স্কুলের মধ্যে ঘিরে রাখার কথা স্বীকার করে নেন।বাইকে করে এক বস্তা চাল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নিয়ে কথাও স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক। চাল নষ্ট হয়ে গেছে তাই বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। গ্রামবাসীদের কাছে আমার অপরাধ স্বীকার করেছি। গ্রামবাসীদের অনুরোধ করছি যাতে স্কুল থেকে আমাকে বেরোতে দেয়। যদিও এই ঘটনায় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close