fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গ্রামের পথে ছুটছে আব্দুলের এক্কাগাড়ি

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়,ইটাহার: করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউনের মধ্যেই গ্রামের পথে পথে ধুলো উড়িয়ে ছুটে চলেছে আব্দুল ভাইয়ের এক্কাগাড়ি। গাড়ি থামতেই জটলা। ভীড় জমতেই মৃদু ধমক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়ান। এরপর এক্কাগাড়ির ভেতর থেকে চাল,ডাল,তেল,সয়াবীন সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সাধারন মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইটাহার ব্লকের ভাগরোইল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল সাত্তার। পেশায় যিনি পঞ্চায়েত কর্মী। লকডাউনের এই চরম অসহায় অবস্থায় দুঃস্থ মানুষের মধ্যে পরিত্রাতা হয়ে উঠেছে আব্দুল ভাইয়ের এক্কাগাড়ি।

কিন্তু হঠাৎ করে মোটর বাইক না কিনে লক্ষাধিক টাকা দিয়ে ঘোড়া কেনার শখ জাগলো কেন আব্দুল সাত্তারের? প্রশ্ন করতেই জানা গেল বছর পাঁচেক আগে স্ত্রী গোলাবানু বেগম খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসক -হাকিমের কাছে ছুটেও অসুখ সারছিল না। সেসময় এক পীরবাবার পরামর্শে ঘোড়া কিনে ফেলেন আব্দুল সাহেব। এর কিছুদিন পর থেকেই ক্রমশঃ সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেন স্ত্রী। ব্যাস এখান থেকেই সাধারন মানুষের জন্য কিছু করার বাসনা জেগে ওঠে আব্দুল সাহেবের মনে।

গ্রামের কারও বিয়ে বা অসুস্থ রোগীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে গ্রামবাসীদের ভরসা আব্দুলের ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিতে নিয়মিত দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিলি করে চলেছেন তিনি। কখনও বাড়ি থেকে কখনও বা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আব্দুল সাহেব পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী গ্রামে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুরু হয় ত্রাণ বিলির কাজ। করোনা মোকাবিলায় কী কী করা উচিত তাও প্রচার করেন সমানতালে। আব্দুল সাত্তার বলেন,” স্ত্রী সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই মানুষের জন্য কাজ করি।

এই লকডাউনে মানুষের খুব কষ্ট। তাই সাধ্যমতো তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক বিলি করছি। ভালো লাগে। আমি কোনো নেতা হতে চাই না। শুধু মানুষের কাজ করে যেতে চাই। ” আব্দুল সাত্তারের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তারা বলেন,” আব্দুল ভাই খুব বড়ো মাপের মানুষ। মানুষের পাশে থাকেন সবসময়।” ঠিক এভাবেই আব্দুল ভাইয়ের এক্কাগাড়ি মাইলের পর মাইল ছুটে চলে মানবিকতার বার্তা নিয়ে। ঘোড়ার ক্ষুরে ক্ষুরে ধুলো ওড়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

Related Articles

Back to top button
Close