fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউন কেড়ে নিয়েছে জীবিকা সংকটে নদী নির্ভর শ্রমিকদের

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: লকডাউনের আগে শ্রমিকদের ভীড়ে জম জমাট থাকতো নদীর দুই তীর। লকডাউন ঘোষনার পর থেকে কুমারগ্রাম ব্লকের নদীতীর গুলিতে শ্মশানের নীরবতা। শুনশান নদীতে বাঁধা নৌকাগুলো যেন অনন্ত বিশ্রামে। লক ডাউন কেড়ে নিয়েছে জীবিকা, চরম বিপাকে পড়েছেন নদী নির্ভর শ্রমজীবীরা। কুমারগ্রাম ব্লকের রায়ডাক, শংকোশ, ঘোলানি সহ বিভিন্ন নদী খাদান থেকে বালি পাথর উত্তোলনের কাজ বন্ধ আছে লক ডাউনের জেরে।

শিল্প বিহীন কুমারগ্রাম ব্লকের হাজার পাঁচেক শ্রমিক তাদের পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতেন নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলনের কাজ করে। রাজ্য সরকারের ভুমি ও ভুমি সংস্কার দপ্তরের অধীন এই নদী খাদানগুলি নির্দিষ্ট মেয়াদে ই – অকশানের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। ইজারাদার দের অধীনে এই শ্রমিকরা দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে বালি পাথর তোলার কাজ করেন। নৌকা গুলিকেও নদী থেকে তোলা বালি পাথর স্থানান্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়। লক ডাউন এর জেরে এক মাসের বেশী সময় ধরে এই কাজ বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে  দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এই শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন: তারকেশ্বরে কৃষক সমিতির ডেপুটেশন

লকডাউন চরম বিপর্যয় নিয়ে এসেছে এই শ্রমিকদের জীবনে। নদী খাদান শ্রমিক সুজন বর্মন, ভুজেল রায়, ধনেশ্বর বর্মন সহ অনেকেই জানান সরকারি যে সহায়তা রেশনের মাধ্যমে তারা পাচ্ছেন তা দিয়ে দু তিন দিন এর খাবারের সংস্থান হচ্ছে। সপ্তাহের বাকী কয়দিনের খাবার জোটানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লক ডাউন এর মেয়াদ আরো বাড়লে পরিবার পরিজনদের নিয়ে অনাহারেই তাদের মরতে হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন। ইজারাদার দের সংগঠন ও তাদের জানাতে পারছেননা কবে শুরু হবে বালি পাথর উত্তোলনের কাজ। এই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে নদী নির্ভর শ্রমিকদের মুল ভাবনা একটাই – কবে খুলবে লক ডাউন।

Related Articles

Back to top button
Close