fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউন উপেক্ষা করে বিক্ষোভ, বাধা দিতে গেলে ইট বৃষ্টি ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

মিলন পণ্ডা, কোলাঘাট (পূর্ব মেদিনীপুর): লকডাউনকে তোয়াক্কা না করার ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটে। ঘটনাস্থলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে উওেজিত গ্রামবাসীরা ইট বৃষ্টি শুরু করে। এমনকি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর চালায়।

এদিকে উওেজিত জনতাকে ছত্রঙঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্চ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হতে থাকে। স্বাভাবিক করতে নামানো হয় র‍্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স।

জানা গিয়েছে, স্বামীকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযুক্ত স্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে গ্রামবাসীরা। সুপর্ণা দেবী বাপের বাড়ির সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর মাথার চুল কেটে নেয় গ্রামবাসীদের একাংশ অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার কাঁউরচন্ডী গ্রামে।

জানা গিয়েছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বচসা হত। সুব্রত পেশায় ফুল ব্যবসায়ী। বুধবার রাত্রিতে বাড়ির মধ্যে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সুব্রত দাস (৫০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গ্রামের কাউকে না জানিয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্ত্রী সুপর্ণা বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। রাতেই পুলিশ এসে বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজানি হতেই গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ওই ব্যক্তিকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছে স্ত্রী। এই অভিযোগ তুলে স্ত্রীর উপর চড়াও গ্রামের একাংশ। এমনকি স্ত্রীর মাথার চুল কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আরও জানা গেছে, সুব্রত ও সুপর্ণার প্রায়ই বচসা লেগে থাকত। এনিয়ে কয়েকবার গ্রামে সালিশী সভা বসে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী সুপর্ণা দাস অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার রাতে দুজনের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। আমাকে মারধর পর্যন্ত করে স্বামী। এরপর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে স্বামী। রাতেই গ্রামে সবাইকে ডাকলেও কেউ আসেনি। বাধ্য হয়ে বাপের বাড়ির সদস্যদের খবর দেই। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বাড়িতে ছুটে আসে বাবা, মা ও বোন। বাবাকে দিয়ে পুলিশকে খবর পাঠানো হয়। পুলিশ এসে বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসীরা সুব্রত বাড়িতে এসে চড়াও হয়। এরপর মৃত সুব্রত স্ত্রী সুপর্ণা তার বাবা, মা ও বোনকে একটি ঘরে বন্দী রাখে গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে স্বামীকে খুন করেছে সুপর্ণা।কাউকে না জানিয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সুপর্ণা বাপের বাড়ি আত্মীয়-পরিজনরা ‌।গ্রামবাসীদের একাংশ সুপর্ণা দেবীকে মানসিক ভাবে অত্যাচার চালায় ও মাথার কিছুটা চুল কেটে নেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে কোলাঘাট থানার পুলিশ। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। উওেজিত গ্রামবাসীদের বোঝাতে গেলে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে।

পুলিশকে লক্ষ্য থেকে উওেজিত জনতা ইট বৃষ্টি শুরু করেন। ইট বৃষ্টি ফলে বেশ পুলিশ কর্মী সহ বেশ কয়েকজন সিভিক ভ্যালেন্টিয়ার গুরুত্বর জখম হয়। উওেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রনে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ও পুলিশের দিকে তেড়ে আসতে থাকে। সমানে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করেন। এরপরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পুলিশ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পাশাপাশি মৃত সুব্রত স্ত্রী সূর্পনা দাস, বাবা, মা ও বোনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

কোলাঘাট থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, পরিস্থিতি আপতত নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন ইট বৃষ্টির ফলে ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী সহ সিভিক ভলেন্টিয়ার গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close