fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের দিন কুরবানি ঈদ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নির্দেশিকা মানার আহ্বান মুসলিম নেতাদের

মোকতার হোসেন মন্ডল: করোনা ভাইরাসের জন্য এবার লকডাউনের দিন কুরবানি ঈদ। আর তাই  উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা মানার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম নেতারা। যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তরপ্রদেশে করোনা সংক্রমনের জন্য সপ্তাহে দু’দিন, শনিবার ও রবিবার লকডাউন করা হচ্ছে। কিন্তু এবারের ঈদুল আজহা ১ আগস্ট শনিবার পড়ায় মুসলিমদের মধ্যে ঈদ ও কুরবানি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহানির্দেশক হিতেশ চন্দ্র এক নির্দেশিকা জারি করেছেন। ওই নির্দেশিকায় ধর্মীয় স্থানে সম্মিলিত প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশ্যে পশু কুরবানী ও খোলামেলা মাংস বহন বন্ধ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় সাম্প্রদায়িক অনুভূতির কথা মাথায় রাখা সহ পুলিশকে লাউডস্পিকারের সাহায্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনসাধারণকে সচেতন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশের এই নির্দেশিকার পর মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকি জানান, ‘সরকারি নির্দেশিকার পরে এটা স্পষ্ট যে ঈদে পশু কুরবানিতে  কোনও বাধা নেই। কিন্তু সরকারকে এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিতে হবে যাতে কোনোভাবেই কুরবানির জন্য মুসলিমদের হয়রানি না করা হয়। কুরবানির জন্য কেবল পশুরই প্রয়োজন হয় না, বরং তা জবাই করতে মানুষজনেরও প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত যারা কুরবানি করবে তাদের আসা-যাওয়ায় যেন বাধা না দেওয়া হয়। মুসলিমদেরও বিধি-নিষেধের বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।’

[আরও পড়ুন- বিক্ষোভের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অবৈধ কয়লা খনি ভরাট করতে নামল ইসিএল ও পুলিশ]

এদিকে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সেলিম ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায় সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করবে। কিন্তু রাজ্য  প্রশাসনের ওই নির্দেশিকা যথাযথভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। আইন আমাদের কুরবানি করার অনুমতি দেয় এবং সরকারি নির্দেশিকাতেও তা বন্ধ করা হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে মুসলিম সম্প্রদায় কুরবানি করবে ও আইন মেনে চলবে। তবে সরকারের  উচিত প্রশাসনকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া।’

অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুফতি আব্দুল রাজ্জাক বলেছেন, মুসলিমদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্দেশিকা কার্যকর করা উচিত। অহেতুক যাতে কাউকে হয়রানি না করা হয় তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিককালে দেখা গেছে মুসলিমদের সঙ্গে প্রশাসন কীরকম আচরণ  করছে, যা উচিত নয়। গবাদিপশু কুরবানি না করা এবং প্রকাশ্যে মাংস না নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর সমর্থন রয়েছে বলেও মুফতি আব্দুল রাজ্জাক মন্তব্য করেন। ঈদের সময়ে বৈধ পশু কুরবানিতে যাতে কোনও হয়রানি না করা হয় তা দেখা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে ঈদুল ফিতরের মতোই আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে মুসলিম সংগঠনগুলি স্বাস্থ্য বিধি মানার উপর জোর দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে, ‘পবিত্র কুরবানি ঈদ উপলক্ষে নিজ নিজ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রতি বজায় রাখুন’। কুরবানির পশু নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানেই করতে বলা হচ্ছে। আরও বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস মহামারীর জন্য সরকারি যাবতীয় বিধিনিষেধ মেনে চলুন।

Related Articles

Back to top button
Close