fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে: মির্জা

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে বলে মন্তব্য করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ এখন যেটা দেশে চলছে সেটা একটা লুটপাট। পুরোপুরি একটা ব্লান্ডারিং, ইন দ্যা নেইম অব ডেভেলপমেন্ট এই ব্লান্ডারিংটা করা হচ্ছে।।’

সোমবার বিকালে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন মির্জা। তিনি বলেন, ‘ যেটা আমরা বলছি যে, প্রত্যেকটা জায়গায় তারা (হাসিনা সরকার) মুনাফা খুঁজে, প্রফিট খুঁজে। প্রফিটটাই তারা বের করে নিয়ে আসে। তাদের ফিনান্সিয়াল প্রফিট। যেমন বাড়ি-ঘর বানাবে, উড়াল সেতু বানাচ্ছে,, মেগা প্রজেক্ট বানাচ্ছে, মেগা দুর্নীতি করছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোন সেক্টারটা ভালো অবস্থায় আছে। ইকোনমিক সেক্টারে ব্যাংকিং সিষ্টেম টোটালি কলাপস-এটা আমার কথা না। কালকেও আমাদের ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের (অর্থনীতিবিদ) একটা বক্তব্য আছে, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদেরও (বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গর্ভনর) একটা বক্তব্য আছে যে, সিস্টেমে চলছে সেই সিষ্টেমে ভয়ংকর একটা অবস্থা তৈরি হচ্ছে। এসব নিরপেক্ষ অর্থনীতিবিদ যারা আছেন তারা বিশ্লেষন করছেন।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ আমরা সবসময় উন্নয়নের পক্ষে, আমাদের দলই হচ্ছে উন্নয়নের পক্ষে, সৃজনশীলতার পক্ষে। আমরা কখনোই কোনো নেগেটিভ রাজনীতি করি না। আমরা পজেটিভ পলিটিক্স করি। আমরা সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে চাই, আমরা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে চাই। সেটা বলতে গেলেই তাদের ঘায়ের মধ্যে জ্বালা ধরে যায়।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে মির্জা বলেন, ‘ মনে হয় যে, তাদের পৈত্তিক সম্পত্তি নিয়ে তৈরি করেছে। একজন বলছেন যে, উপর নিয়ে যাবে না, নিচ নিয়ে যাবে বিএনপি। এজ ইফ এটা তাদের সম্পদ। এটা মানুষের পকেট কেটে কেটে কিন্তু নেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি মানুষ এখানে ট্যাক্স দিচ্ছে। যেখানে এক টাকা ট্যাক্স দিতো সেখানে ১০ টাকা ট্যাক্স দিচ্ছে…।’

তিনি বলেন, ‘ এদেশের উন্নয়নের শুরুটা হচ্ছে বিএনপিকে দিয়ে। ১৯৭৫ সালে পট পরিবর্তনের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন দেশের দায়িত্ব নিলেন প্রথম যে কাজগুলো শুরু করেছিলেন সেটা হচ্ছে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং উন্নয়ন। উন্নয়ন বলতে শুধুমাত্র গুটিকতক লোকের উন্নয়ন নয়, উন্নয়ন বলতে সাধারণ মানুষের কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের উন্নয়ন কথা বলেছিলেন। সেটা নিয়ে তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। সেটার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে তার ওপরই আজকে বাংলাদেশ দাঁড়াচ্ছে।’

‘ আজকে যে বিদেশ থেকে যে রেমিটেন্স আসছে, এই রেমিটেন্স শুরুর প্রক্রিয়াটা জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় থেকে। আজকে যে গামেন্টেসের ওপর ভিত্তি করে যেটা দাঁড়িয়েছে সেটাও পুরোপুরি ভিত্তি হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে। কৃষিতে যে বিপ্লব ১৯৭৪ সালে আওয়ামি লিগের আমলে যে দুর্ভিক্ষ সেটাকে পাশ কাটিয়ে উঠে ১৯৭৬ সালের মধ্যে কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা যেটাও জিয়াউর রহমানের সাহেবের সময়ে। তাই আজকে কোন একটা ব্রিজ তৈরি হওয়া, কোনো একটা রাস্তায় তৈরি হওয়া-এটাকে আমরা মনে করি যে, দিস ইজ নট …, উন্নয়ন নিসন্দেহে। উন্নয়ন হচ্ছে সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কতটুকু পরিবর্তন হলো-এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা… বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরু রহমানের ভাস্করয নির্মান প্রসঙ্গে বিএনপির নিরবতার বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ এই মুহুর্তে আমাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ দুইটো। একটি হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা করা করোনার হাত থেকে। ভ্যাকসিন সরবারহ করা এবং যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিতসা করা, তাদের জীবন দান করা।’

‘দ্বিতীয়টি হচ্ছে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসা। দিস ইজ দ্যা চ্যালেঞ্জ অব আস।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তিকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একাংশকে ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সামগ্রিক বিচারেই বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ও জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের কুটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতারই সুস্পষ্ট উদাহরণ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে কুটনৈতিক ততপরতার মুখ থুবড়ে পড়ায় জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘোরাতে এবং দুর্নীতির এক নতুন মহোতসব সৃষ্টির হীন প্রয়াস থেকেই ভাসানচরের প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

‘ আমরা মনে করি সীমাহীন কুটটনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার এই কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে কেবলমাত্র স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।ভাসানচরে এ ধরনের স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ মূল সমস্যা সমাধানে নূতন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভাসানচরে যেসব স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে, তার ফলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষসহ তাদের সমর্থক গোষ্ঠীসমূহের মাঝে এমন ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে, টেকসই আবাসনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে গ্রহণ করে নিচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তি সত্বেও ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থী স্থানান্তর কার্যক্রম মূল সংকটকে আরো ঘনীভূত করতে পারে। অপরদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রোপাগান্ডা সেল ও মিয়ানমার সরকার কুটনিতক পরিমন্ডলে দাবি করতে পারে যে, বাংলাদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জাতিগতভাবে বাঙালি বলেই বাংলাদেশে এদের বসবাসের স্থায়ী ব্যবস্থা করে আত্তীকরণ সম্ভব হয়েছে। এতে মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো ও সেনাবাহিনী জাতিগত নির্মূল অভিযান সম্পন্ন করতে আরও উতসাহী হবে এবং অবশিষ্ট যে লাখ পাঁচেক রোহিঙ্গা এখনো আরাকানে রয়েছে, তাদেরও বিতাড়নের প্রক্রিয়া নূতন করে জোরদার হতে পারে। এ সবই সরকারের অপরিণামদর্শী কুটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, ‘‘ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তিকে উপেক্ষা করে ভাসানচরে স্থানান্তরের নামে অহেতুক সময়ক্ষেপণ না করে সবাইকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা

Related Articles

Back to top button
Close