fbpx
ব্লগহেডলাইন

মদামৃত, মদের বোতলেই সুধা

সুজয় অধিকারী: কথামৃত, সুধামৃত, চরিতামৃতের কথা আমরা আগেও শুনেছি। কিন্তু মদ অমৃত কথাটা আপনার কাছেও আর আমার কাছেও নতুন। কিছুদিন আগেই এক গুজব রটেছিল, মদ খেলে করোনা আক্রান্ত হবে না। আর এবার যেন এই গুজব কে সত্যি করতে মদের দোকানের সামনে ঢল নামলো সাধারণ মানুষের। ৪০ দিনের মতো বন্ধ ছিল মদের দোকান। আর খুলতেই সূরা প্রেমীদের কাছে যেন স্বর্গের দরজা খুলে গেল। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, লাইন এমন ভাবে দেখা যাচ্ছে যেন একে অন্যকে ছাপিয়ে কতক্ষণে সুধার বোতলটা হাতে পাবে।

সত্যি বলতে, মদে বিক্রি-বাট্টা কোনদিনই বন্ধ হয়নি। লকডাউনের পরেও দোকানে আটকে থাকা মদের বোতল আড়ালে লুকিয়ে বিক্রি হতো পাঁচ থেকে দশ গুন গামে। মানে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৩০০ টাকার মদ ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা দামে। এত দামেও যে দেশের লোক মদ খেতে উতলা হয়ে ওঠে, সে দেশে মদের দোকানের সামনে মানুষের মেলা তো স্বাভাবিক। টাকার অভাবে যারা এত এত দাম দিয়ে মদ কিনতে পারছিল না, দোকান খোলায় তারাও যেন লকডাউনের মাঝে কোথাও অক্সিজেন খুঁজে পেল। এক শ্রেণীর মানুষদের তো দেশি, বিদেশি, বিলিতি হোক বা চোলাই, তাদের মদ হলেই হল। এরা ঘরে বসেও ইউটিউবে সার্চ করে “কীভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মদ তৈরি করা যায়।”

পুলিশের লাঠির ভয়ে সকালে নাকি মর্নিং ওয়াকে যেতে পারত না। আর মদের দোকান খোলার খবর পেয়ে ভোর চারটে পাঁচটা থেকে, কোথাও বা মাঝরাত থেকেই লাইন পড়ে গেছে। দোকান কখন খুলবে না খুলবে তার ঠিক নেই, আদপে খুলবে কিনা তারও ঠিক নেই। কিন্তু ভিড় জমানো শুরু হয়েছে মাঝরাতে থেকেই। এখানে পুলিশের লাঠি খাওয়ার ভয় নেই। লাঠি খেলেও সব ব্যথা দূর হবে মদে। লক ডাউনের মধ্যে বাজার করার টাকা নেই, সরকার কবে রেশন দেবে, কবে ৫০০ করে টাকা ব্যাংকের একাউন্টে দেবে সে আছে হাপিত্যেশ করে বসে আছে কিছু মানুষ। আবার তাদের মধ্যেই এমন মানুষও আছে যারা শুধু ৫০০ টাকা নয়, ৫০০০ হাজার টাকার মদ একেবারে কিনে বাড়িতে তুলে রাখছে। আর অন্যদিকে কাঁদুনি গাইছে আমার টাকা নেই সংসার চলবে কি করে! মদের দোকান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কার কাছে কত টাকা আছে।

আরও পড়ুন: হরিপালে রান্না করা খাবারের আয়োজন

অন্যদিকে সরকারের আয়ের কথা যদি দেখা যায় তাহলে লকডাউন শুরু থেকে মদের বিক্রি-বাট্টা আইনি ভাবে বন্ধ হওয়ায় অনেক বড় পরিমাণ আয় কমে গেছে। সরকারের যেসব আয়ের উৎস ছিল প্রায় সব বন্ধ। উল্টে সাধারণ মানুষের খাবার ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। মদ থেকে প্রতিবছর রাজ্য সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় হয়। এতদিন মদের বিক্রি বন্ধ থাকায় মদ থেকে সরকারের আয় বন্ধ আছে। কিন্তু মদের দোকান খোলার প্রথম দিনেই যে পরিমাণ লাইন দেখা গেছে, তার থেকে মনে হয় এতদিনে যে টাকার মদ বিক্রি হতো একদিন তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা উঠে আসবে। সেই জন্যই হয়তো মদকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আওতায় এনে দোকান খোলার ব্যবস্থা করে দিল সরকার।

কিন্তু এদিকে লক্ষ্য নেই যে মদ খাওয়ার আগেই মাতাল হওয়া পাবলিকদের কীভাবে সামলাবে পুলিশ। যারা লাঠি খেয়েও গায়ে গা ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তাদের আবার করোনার ভয়! আর যদি এই ভিড়ের মধ্যে এক দুজনের করোনা ভাইরাস থাকে, তাহলে একধাক্কায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কত বাড়বে তার ভালো মতোই আন্দাজ করা যায়। এ রাজ্যের সরকার তো বলেই দিয়েছে হাসপাতালের বেডের অভাব তাই কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে বাড়িতেই। আর বাড়িতে থেকে করোনার চিকিৎসা যেন পায়ে হেঁটে চাঁদে যাওয়ার মত। কিন্তু চিন্তার কি আছে এদের কাছে তো যাবতীয় রোগের একটাই ওষুধ অ্যালকোহল। যা একবার গলা দিয়ে নামলেই সব রোগ দূরে পালাবে।

Related Articles

Back to top button
Close