fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাদ্রাসা শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে! অভিযোগ প্রাক্তন সংখ্যালঘু মন্ত্রী আব্দুস সাত্তারের

মোকতার হোসেন মন্ডল: মাদ্রাসা শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করলেন বামফ্রন্ট জামানার সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা মন্ত্রী তথা বর্তমান কংগ্রেস নেতা ড: আব্দুস সাত্তার। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকেই পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। তারই শেষ পেরেক পুঁতে দেওয়া হল এবছর শিক্ষারত্নে।

আব্দুস সাত্তার বলেন, আমরা যখন ২০১১ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যাই, সেই সময় ২০০টির মতো নিউ-সেট-আপ মাদ্রাসা তৈরি করেছিলাম। ১০০ টি নিউ-সেট-আপ মাদ্রাসা অনুমোদন দিয়েছিলাম। আর বাকি ছিল ১০০টি মাদ্রাসার অনুমোদন। তাও সব কিছু পাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল, শুধুমাত্র কার্যকর করার সময় ছিল না। সুতরাং বাকি ১০০টি নিউ-সেট-আপ মাদ্রাসা অনুমোদন দিতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এমনকি বাজেটে অর্থ বরাদ্দও করা হয়।কিন্ত দেখা গেল, সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই নিউ সেট-আপ মাদ্রাসার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিল না।

প্রাক্তন মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ৯০০ টি এমএসকে-র অনুমোদন দিয়েছিলাম। কিন্ত ৪৯৫টি চালু করতে পেরেছিলাম। ৪০৫ এমএসকে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। তাও এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলিকে বাস্তবায়িত করল না। এগুলি বাস্তবায়ন হলেও কমপক্ষে নিউ-সেট-আপে ৯০০ এবং এমএসকেতে চার হাজার পদ সৃষ্টি হত। বড় ধরনের কর্মসংস্থান হত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ২৯৭টি পদ তৈরি করেছিলাম সেগুলি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, বিগত ৯ বছরে রাজারহাটে আলিয়ার ক্যাম্পাস ও হজ টাওয়ার তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই করেনি মমতা সরকার। সংখ্যালঘু উন্নয়নে তেমন কাজ করেনি। হুগলি মাদ্রাসা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে, কিন্ত এখনও হুগলি মাদ্রাসার উন্নয়ন হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্ত মমতা সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়ে গেল। আমরা ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা তৈরি করার সব ব্যবস্থা পাকা করা হয়, শিক্ষক অনুমোদন থেকে শুরু করে জমি বরাদ্দ সব ঠিক করে রেখে এসেছিলাম। কিন্ত তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। যে কয়েকটি মাদ্রাসা চালু হয়েছে তার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী হচ্ছে?

আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত অনেক দিন থেকেই চলছিল। আমরা দেখলাম ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সব জেলা থেকে যোগ্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের খুঁজে বের করে মমতা সরকার শিক্ষারত্ন দিয়েছে। ২০১৭ থেকে মাত্র একজন মাদ্রাসা শিক্ষককে রত্ন দেওয়া হল, এরপর ২০১৮ ও ২০১৯ পরপর দু বছর একজন করেই দেওয়া হল। ২০২০-তে একজন রত্নকেও মাদ্রাসা থেকে খুঁজে পেল না মমতা সরকার। এরপর মাদ্রাসা শিক্ষার শেষ পরিণতি দেখতে হবে। নিঃসন্দেহে মাদ্রাসা শিক্ষকদের রত্ন না দিয়ে মমতা সরকার ভালো কাজ করেনি। প্রাক্তন মন্ত্রী এই প্রতিবেদককে আক্ষেপ করে বলেন, আমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে সাজিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন ভাবে না গড়ে ধ্বংস করা হচ্ছে, তাই প্রতিবাদ করতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close