fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জাঁকজমক হীন কোচবিহার পুরাতন শ্মশান কালী পুজা – ৫০০ বছরের ও বেশি পুরানো ঃ কোচবিহার

দেবাসিস বিশ্বাস:  তোরসা নদীর মাঝখানে পূজো হতো মায়ের, ১৯৫৩ সালে বন্যায় নদী ভাঙ্গনে হারিয়ে যায় সেই মায়ের মন্দির। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় মা। তারপরেও মায়ের অবশিষ্টাংশ আগলে আজও পুজো হয়ে আসছে কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকায় পুরাতন শ্মশান কালী মন্দিরে।

একসময় তোরসা নদীর পাশেই ছিল শ্মশান, সেখানেই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন মা। পরবর্তীতে স্থানান্তরিত হয়েছে কোচবিহার শ্মশান, নতুন করে মায়ের পুজো শুরু হয়েছে সেই শ্মশানেও কিন্তু ঐতিহ্য রক্ষায় আজও পুরাতন শ্মশানকালীর পুজো করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই পুজো তে বিশেষ কোনো জাঁকজমক নেই, শুধু রয়ে গেছে রাজ ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে লক্ষ্মী পুজোর দিন থেকে দীপাবলি কালীপুজো পর্যন্ত বিশেষ পূজা পদ্ধতির মাধ্যমে পূজিতা হন পুরাতন শ্মশান কালী মা। এলাকাবাসীর কথায় জাগ্রত দেবী সবসময়ই সাধারণ মানুষের কল্যাণ করে থাকেন।শুধুমাত্র বাৎসরিক পূজাই নয় নিত্য পুজো করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, যতটুকু মনে পরে – পনেরশো বঙ্গাব্দের প্রথম দিকে এই পুজো শুরু করেছিলেন কোচবিহারের মহারাজা গোপাল কৃষ্ণ নারায়ন। দয়াল চন্দ্র সাধু প্রথম এই পুজো শুরু করে। এরপর বন্যার সময় মন্দির ভেঙে যায়। কিছুটা অংশ চলে যায় নদীর বিপরীত দিকে টাপুরহাট এলাকায়। কথিত আছে সেখানেও শ্মশানকালীর একটি মন্দির করা হয়েছে। কিছুটা অংশ চলে আসে নদীর এই পারে অর্থাৎ শহরের দিকে, যা বর্তমানে পুরাতন শ্মশান কালী মন্দির হিসেবে পরিচিত।

দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড এই মন্দিরের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগের কারণে মন্দিরের দায়িত্বভার দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড এর হাতে দিতে অস্বীকার করে। বর্তমানে যেখানে পুজো চলছে সেখানে মা কে প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেন বুধু মুনি। বর্তমান পূজারী গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, বুধু মুনির মৃত্যুর পর থেকেই তিনি পুজোর দায়িত্বভার সামলে আসছেন। নদীবক্ষে মন্দির থাকার সময় প্রতিমা ছিল মাটির, পরবর্তীতে তা পাথরের প্রতিমা তে রূপান্তরিত করা হয়। বাৎসরিক পুজোর পাশাপাশি ফুল জল দিয়ে নিত্য পুজো হয় মায়ের। কোচবিহার জেলার অন্যতম পুরাতন পুজো হিসেবে এই পুজো মানুষের সামনে না আসলেও রাজ ঐতিহ্য পরম্পরা বজায় রেখে আজও পুরাতন শ্মশান কালী মন্দিরে পূজিতা হন মা। এখন বলি হয় না, বলি প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিন। এখন বৈষ্ণব মতে মায়ের আরাধনা হয়। পুজোর এই কয়দিন গোটা এলাকাবাসী উপস্থিত থাকে মন্দিরে। রাজ আমলে চাঁদা তোলার কোন বিষয় ছিল না, কিন্তু বর্তমানে অর্থের অভাব এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে চাঁদা তুলতে বাধ্য হয় এলাকাবাসী। এভাবেই হয়ে আসছে পুজো, এভাবেই হতে থাকবে।বিশ্বাস পুরাতন শ্মশান কালী রক্ষা করে যাবে গোটা কোচবিহারের মানবকূলকে।

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close