fbpx
আন্তর্জাতিকদেশহেডলাইন

লন্ডনের অকশন হাউসের লেটার বক্সে মিলল মহাত্মা গান্ধীর চশমা, উঠছে নিলামে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মহাত্মা গান্ধী ব্যবহৃত গোল্ড-প্লেটেড সেই বিখ্যাত চশমা এবার নিলামে উঠল ব্রিটেনে। আগামী ২১ আগস্ট নিলামের দিন ধার্য হয়েছে। জানা যায়, ১৯০০ শতকে কেউ তাঁকে এই চশমাটি উপহার দিয়েছিলেন। বিখ্যাত এই চশমার দাম ব্রিটেনে নিলামে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত উঠে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় টাকার অঙ্কে যার মূল্য হতে চলেছে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ১৪ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। উত্তর-পশ্চিম ব্রিটেনের হানহাম শহরের ইস্ট ব্রিস্টল নিলাম সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রবিবারই তাদের কাছে এসে পৌঁছেছে এই চশমাটি। তাদের লেটারবক্সে একটি খামে মুড়ে কেউ রেখে গেছেন সেটি, সঙ্গে চশমার ইতিহাস। প্রাথমিক পরীক্ষায় সেটি সত্য বলেই মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সংস্থার মালিক অ্যান্ডি স্টো। অ্যান্ডি বলেন, ‘আমি তো সবটা বোঝার পরে চেয়ার থেকে পড়েই যাচ্ছিলাম! এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়া!’ জানা গেছে, ইংল্যান্ডের এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যবসায়ী পৌঁছে দিয়েছেন চশমাটি।

ইস্ট ব্রিস্টল অকশনের তরফে এক নিলামকারী অ্যান্ডি স্টোয়ি জানিয়েছেন, ‘এটি একটি এমন আবিষ্কার, যার ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম’। যে ব্যক্তি এটা তাঁদের কাছে রেখে গিয়েছিলেন, তিনি এর ঐতিহাসিক মূল্য সম্পর্তে অবগত ছিলেন না। তিনি তাঁদের বলে গিয়েছিলেন, এটির যদি কোনও মূল্য না থাকে, তাহলে তা যেন তাঁরা ফেলে দেন। এরপর তাঁরা যখন চশমাটি সম্পর্কে এমন বিস্ময়কর সব ঐতিহাসিক তথ্য খাড়া করেন, তখন তাঁর কার্যত চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার মতোই অবস্থা হয়েছিল। অ্যান্ডি স্টোয়ি আরও বলেন এটি নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ নিলামের কাহিনি।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই অনলাইন নিলামে এই চশমার দাম উঠেছে প্রায় ৬ হাজার পাউন্ড। সূত্রের খবর, ইংল্যান্ডের এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছে ওই চশমাটি ছিল। তাঁর বাবা তাঁকে জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামে কাজ করার সময়ে তাঁর কাকা এই চশমাটি উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন। সালটা ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে।

আরও পড়ুন: স্টিম থেকে বুলেট ট্রেন,পরম্পরা তুলে ধরবে নয়া রেল মিউজিয়াম: পীযূষ গোয়েল

আগামী ২১ অগস্ট নিলাম হবে গান্ধীজির এই চশমার। ভারত থেকেও বেশ কিছু ক্রেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্টোয়ি-র বিশ্বাস ১৯১০-এর শেষ দিক থেকে ১৯২০ সালের প্রথম দিকে মহাত্মা গান্ধী চশমা পরা শুরু করেন। ফলে এই চশমাটিই তাঁর প্রথম জীবনের চশমা। কিন্তু কীভাবে গান্ধীজির ব্যবহার করা চশমা অন্য কারওর কাছে গেল। অনেকেই নিশ্চয় জানেন, মহাত্মা গান্ধী তাঁর পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় চশমা সেই সব মানুষকে দান করতেন যাঁদের সেটির প্রয়োজন আছে অথবা কোনও না কোনও সময়ে গান্ধীজিকে সাহায্য করেছেন। আর সেইভাবেই হয়ত ওই ব্যক্তির কাকার হাতে এসে পৌঁছায় গোল্ট-প্লেটেড এই চশমা।

Related Articles

Back to top button
Close