fbpx
হেডলাইন

ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকদের গ্রামের স্কুলেই কোয়ারান্টাইনে রাখলো ময়নাগুড়ি

বাপ্পা রায়, ময়নাগুড়ি : স্থানীয়দের তৎপরতায় ভিন রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হলো নিজেদের গ্রামেই। ময়নাগুড়ি ব্লকের চরচূড়াভান্ডের শিমলা পাড়ার পর এবার বাড়িতে ফেরা শ্রমিকদের গ্রামের স্কুলেই কোয়ারান্টাইন করলো অবাসতলীর বাসিন্দারা। মঙ্গলবার গ্রামবাসীর তৎপরতায় আসাম ও সিকিম ফেরত গ্রামের দুই যুবককে কোয়ারান্টাইন করা হয়। ওই শ্রমিকদের ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের আবাসতলীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়। স্থানীয়রা সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গ্রামের স্কুলকে বেছে নেন। এদিন গ্রামের ওই ২ জন শ্রমিক বাড়িতে ফিরলে তাদের থাকার জন্য সেখানে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের কোয়ারান্টাইন করা জায়গা জুড়ে বাইরের মানুষের প্রবেশ রুখতে স্কুলের সামনে নিরাপদ দুরত্বে সুতলি দিয়ে ঘীরে দেওয়া হয়।

করোনার আবহে যেখানে কোয়ারান্টাই সেন্টার খুলতে বরাবরই প্রসাশন কে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে ঠিক সেই সময় ভীন্ন ধরনের এই চিত্র স্বভাবতই স্বস্তির কারন হয়ে উঠেলো ময়নাগুড়ির প্রসাশনের কাছে। অবশ্য কঠিন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতনশীল মানুষ। আপাতত কোয়ারান্টাইনে থাকা ওই ২ শ্রমিকের খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের তরফে। ফেরার সময় তাদের স্ক্রীনিং ছাড়া কোনাপ্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হ‌ওয়ায় এদিন স্থানীয়রা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে গ্রামের আশা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে বলে জানানো হয়েছে । এছাড়াও কোয়ারান্টাইন‌ করার পর থেকে প্রয়াস সাথী ওয়েলফেয়ার নামে স্থানীয় একটি সংগঠনের তরফে শ্রমিকদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তুতির প্রশংসায় রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যুইট ধনকরের

স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল বসাক বলেন ” বাইরে থেকে ফেরা শ্রমিকদের বাড়িতে কোয়ারান্টাইন করার মতো পরিকাঠামো গ্রামের বেশিরভাগ বাড়েই নেই। তাই আমরা গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেই তাদের আলাদা করে নিরাপদে রাখার। সরকারিভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আবেদন জানান হয়েছে। করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে সকলে এগিয়ে আসুন এভাবে তবে আমারা সকলে মিলে এই অতিমারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারব। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের স্থানীয়দের কোয়ারেন্টাইন করে রাখার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি জানার জন্য ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক লাকি দেওয়ানকে ফোন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান নি।

Related Articles

Back to top button
Close